পদ্মায় জেগে ওঠা চরে নতুন করে বসতি
jugantor
পদ্মায় জেগে ওঠা চরে নতুন করে বসতি

  বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি  

২৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:৪৬:০৪  |  অনলাইন সংস্করণ

পদ্মায় জেগে ওঠা চরে নতুন করে বসতি

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পদ্মার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন চর জেগে উঠছে। এ সুযোগে নিরাপদে বসবাসের জন্য চরবাসী নির্মাণ করছে ঘরবাড়ি। তারা নতুন করে সেখানে বসবাসের চেষ্টা করছেন।

সোমবার কালীদাসখালী চরের আকবর হোসেন বলেন, ভেঙে যাওয়া ঘরবাড়ি নতুন করে মেরামত করছি। মেরামত করার পয়সা নেই। তিন ছেলে তিন মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি। এবারের ভাঙনে বাড়িঘর পদ্মা গর্ভে চলে গেছে।

কী করে ঘর মেরামত করব? হাতে তো পয়সা নেই। তার পরও নতুনভাবে চর জেগে ওঠায় ঘরবাড়ি মেরামত করছি। এমন কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

পলাশী ফতেপুর চরের আমিরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, চকরাজাপুর ইউনিয়ন চরের মানুষের প্রধান পেশা কৃষিকাজ ও পাশাপাশি পদ্মায় মাছ ধরা। তাদের যা আয় হয়, এই দিয়ে সংসার চরে। তার পর প্রতি বছর ঘড়বাড়ি ভেঙে যায়।

প্রতি বছর ঘরবাড়ি মেরামত করতে হয়। ভাঙনের ফলে এক স্থান থেকে অন্য জায়গায় ঘরবাড়ি তুলতে হয়। এভাবেই চলে আমাদের জীবন। শুকনো মৌসুমে কৃষিকাজ, বর্ষায় মাছ ধরে জীবন-জীবিকা নির্ভর করতে হয়।

চৌমাদিয়া চরের আঞ্জু মোল্লা বলেন, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ঘরবাড়ি মেরামত করার চেষ্টা করছি। ঘরবাড়ি মেরামত না করলে থাকা মুসকিল হয়ে যাবে। খোলা জায়গাতে তো বসবাস করা যায় না।

কালীদাসখালী চরের গোলাম মোস্তাফা বলেন, ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। মেরামত তো করতেই হবে। মেরামত না করলে ছেলেমেয়ে নিয়ে বসবাস কীভাবে করব।

চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, বেশ কিছু দিন আগে থেকে পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে। নতুন নতুন চর জেড়ে উঠছে।

তবে কালীদাসখালী ও লক্ষ্মীনগর এলাকায় যেভাবে পদ্মার পাড় ভাঙছে তা প্রতিকারের ব্যবস্থা না করলে এলাকার চিহ্ন থাকবে না। পদ্মার ১৫টি চরে পরিবার রয়েছে ৩ হাজার ৭৬২। এবারের ভাঙনে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার গৃহহারা হয়েছে।

তারা নতুন করে সাধ্যমতো ঘরবাড়ি তৈরি করার চেষ্টা করছে। ভেঙে যাওয়া পরিবারের তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে।

পদ্মায় জেগে ওঠা চরে নতুন করে বসতি

 বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি 
২৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:৪৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পদ্মায় জেগে ওঠা চরে নতুন করে বসতি
ছবি: যুগান্তর

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পদ্মার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন চর জেগে উঠছে। এ সুযোগে নিরাপদে বসবাসের জন্য চরবাসী নির্মাণ করছে ঘরবাড়ি। তারা নতুন করে সেখানে বসবাসের চেষ্টা করছেন।

সোমবার কালীদাসখালী চরের আকবর হোসেন বলেন, ভেঙে যাওয়া ঘরবাড়ি নতুন করে মেরামত করছি। মেরামত করার পয়সা নেই। তিন ছেলে তিন মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি। এবারের ভাঙনে বাড়িঘর পদ্মা গর্ভে চলে গেছে।

কী করে ঘর মেরামত করব? হাতে তো পয়সা নেই। তার পরও নতুনভাবে চর জেগে ওঠায় ঘরবাড়ি মেরামত করছি। এমন কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।  

পলাশী ফতেপুর চরের আমিরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, চকরাজাপুর ইউনিয়ন চরের মানুষের প্রধান পেশা কৃষিকাজ ও পাশাপাশি পদ্মায় মাছ ধরা। তাদের যা আয় হয়, এই দিয়ে সংসার চরে। তার পর প্রতি বছর ঘড়বাড়ি ভেঙে যায়।

প্রতি বছর ঘরবাড়ি মেরামত করতে হয়। ভাঙনের ফলে এক স্থান থেকে অন্য জায়গায় ঘরবাড়ি তুলতে হয়। এভাবেই চলে আমাদের জীবন। শুকনো মৌসুমে কৃষিকাজ, বর্ষায় মাছ ধরে জীবন-জীবিকা নির্ভর করতে হয়।

চৌমাদিয়া চরের আঞ্জু মোল্লা বলেন, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ঘরবাড়ি মেরামত করার চেষ্টা করছি। ঘরবাড়ি মেরামত না করলে থাকা মুসকিল হয়ে যাবে। খোলা জায়গাতে তো বসবাস করা যায় না।

কালীদাসখালী চরের গোলাম মোস্তাফা বলেন, ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। মেরামত তো করতেই হবে। মেরামত না করলে ছেলেমেয়ে নিয়ে বসবাস কীভাবে করব।

চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, বেশ কিছু দিন আগে থেকে পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে। নতুন নতুন চর জেড়ে উঠছে।

তবে কালীদাসখালী ও লক্ষ্মীনগর এলাকায় যেভাবে পদ্মার পাড় ভাঙছে তা প্রতিকারের ব্যবস্থা না করলে এলাকার চিহ্ন থাকবে না। পদ্মার ১৫টি চরে পরিবার রয়েছে ৩ হাজার ৭৬২। এবারের ভাঙনে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার গৃহহারা হয়েছে।

তারা নতুন করে সাধ্যমতো ঘরবাড়ি তৈরি করার চেষ্টা করছে। ভেঙে যাওয়া পরিবারের তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন