এক মাস ধরে কার্যালয় ছেড়ে আত্মগোপনে ইউপি চেয়ারম্যান
jugantor
চান্দিনায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের হুমকি
এক মাস ধরে কার্যালয় ছেড়ে আত্মগোপনে ইউপি চেয়ারম্যান

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো  

২৬ অক্টোবর ২০২০, ২২:০২:২৮  |  অনলাইন সংস্করণ

এক মাস ধরে কার্যালয় ছেড়ে আত্মগোপনে ইউপি চেয়ারম্যান

কুমিল্লার চান্দিনায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের হুমকি এবং অস্ত্রের মহড়ায় কার্যালয় ছেড়ে আত্মগোপনে আছেন উপজেলার মাইজখার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ সেলিম প্রধান। গত এক মাস যাবত ওই চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে তালা ঝুলছে বলে জানান এলাকার লোকজন। এতে প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

গত এক মাস যাবত নিয়মিত হুমকিসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগের মহড়ার কারণে আতঙ্কিত হয়েই কার্যালয়ে আসতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন ওই চেয়ারম্যান। বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান।

ইউপি চেয়ারম্যান শাহ সেলিম প্রধান জানান, বিশাল আয়তনের মাইজখার ইউনিয়নকে দুটি ভাগে ভাগ করার জন্য গত ২৯ সেপ্টেম্বর পরিষদের সামনে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার বিপুলসংখ্যক লোকজন উপস্থিত ছিলেন। সভায় আমার বক্তব্যের সময় ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ খান সেন্টু হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা আমার ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় দফাদার ও গ্রাম পুলিশসহ আমার লোকজন আমাকে ইউনিয়ন কমপ্লেক্সের একটি কক্ষে রেখে দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় দফাদারসহ ৪-৫ জনকে মেরে রক্তাক্ত এবং আমার গাড়ি ভাংচুর করা হয়। আমি প্রাণে রক্ষা পেয়ে সেখান থেকে বাড়িতে আসি। এরপর থেকে স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা নিয়মিত আমার কার্যালয়ে এসে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে এবং আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তাদের অব্যাহত হুমকির মুখে আমি কার্যালয়ে আসতে পারছি না। এদিকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরেই চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা ঝুলছে।

মাইজখার ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি জাহিদ হাসান জয় বলেন- আমি ছাত্রলীগ করি। আমরা ইউনিয়ন কমপ্লেক্সে সন্ত্রাসী নিয়ে মহড়া দেই বলে যে অভিযোগ তারা তুলেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভীষণ কান্তি দাশ বলেন, সংঘর্ষের ঘটনা আমি জানি। অফিসে যায় না এ বিষয়টি এইমাত্র শুনলাম। বিষয়টি যেহেতু আমার নলেজে এসেছে, আমি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

ভুক্তভোগী কালেমশার গ্রামের মো. কামাল হোসেনের স্ত্রী শিরিনা আক্তার বলেন, আমি দুই দিন যাবত আমার মেয়ের জন্মনিবন্ধন করতে এসে ইউনিয়ন পরিষদ বন্ধ পাচ্ছি। অনেক বড় ইউনিয়ন দূর থেকে এসেছি কিন্তু কাজটি শেষ করতে পারিনি।

ওই ইউনিয়নের মেহার গ্রামের মো. মজিবুর রহমান প্রধান জানান, ইউনিয়ন বিভাজনের সভায় তিনি উপস্থিত ছিলেন। প্রতিপক্ষের লোকজন চেয়ারম্যানকে হত্যা করার চেষ্টা করে। তিনি আরও বলেন- আমরা চাই চেয়ারম্যান অফিস করুক। অনেক বিদেশগামীই কাগজপত্রের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে এসে ফিরে যান। তারাও বিপদে আছেন।

১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. রৌশন আলী বলেন, সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে প্রায়ই বহিরাগত সন্ত্রাসীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ইউনিয়ন কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান নেয়। আমরা এলাকায় শান্তি চাই। স্থানীয় সংসদ সদস্য চাইলেই বিষয়টি সমাধান করতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।

ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির বাবুল বলেন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু নেতা বদরপুর বাজারে সশস্ত্র মহড়া দেয়। আমার ওপরও তারা হামলার পরিকল্পনা করেছিল। বাজারের ব্যবসায়ীরাও আতঙ্কে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যান না থাকায় সাধারণ মানুষ হয়রানি হচ্ছেন।

চান্দিনায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের হুমকি

এক মাস ধরে কার্যালয় ছেড়ে আত্মগোপনে ইউপি চেয়ারম্যান

 আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো 
২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
এক মাস ধরে কার্যালয় ছেড়ে আত্মগোপনে ইউপি চেয়ারম্যান
এক মাস ধরে কার্যালয় ছেড়ে আত্মগোপনে ইউপি চেয়ারম্যান

কুমিল্লার চান্দিনায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের হুমকি এবং অস্ত্রের মহড়ায় কার্যালয় ছেড়ে আত্মগোপনে আছেন উপজেলার মাইজখার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ সেলিম প্রধান। গত এক মাস যাবত ওই চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে তালা ঝুলছে বলে জানান এলাকার লোকজন। এতে প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

গত এক মাস যাবত নিয়মিত হুমকিসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগের মহড়ার কারণে আতঙ্কিত হয়েই কার্যালয়ে আসতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন ওই চেয়ারম্যান। বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান।

ইউপি চেয়ারম্যান শাহ সেলিম প্রধান জানান, বিশাল আয়তনের মাইজখার ইউনিয়নকে দুটি ভাগে ভাগ করার জন্য গত ২৯ সেপ্টেম্বর পরিষদের সামনে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার বিপুলসংখ্যক লোকজন উপস্থিত ছিলেন। সভায় আমার বক্তব্যের সময় ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ খান সেন্টু হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা আমার ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় দফাদার ও গ্রাম পুলিশসহ আমার লোকজন আমাকে ইউনিয়ন কমপ্লেক্সের একটি কক্ষে রেখে দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় দফাদারসহ ৪-৫ জনকে মেরে রক্তাক্ত এবং আমার গাড়ি ভাংচুর করা হয়। আমি প্রাণে রক্ষা পেয়ে সেখান থেকে বাড়িতে আসি। এরপর থেকে স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা নিয়মিত আমার কার্যালয়ে এসে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে এবং আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তাদের অব্যাহত হুমকির মুখে আমি কার্যালয়ে আসতে পারছি না। এদিকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরেই চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা ঝুলছে।

মাইজখার ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি জাহিদ হাসান জয় বলেন- আমি ছাত্রলীগ করি। আমরা ইউনিয়ন কমপ্লেক্সে সন্ত্রাসী নিয়ে মহড়া দেই বলে যে অভিযোগ তারা তুলেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভীষণ কান্তি দাশ বলেন, সংঘর্ষের ঘটনা আমি জানি। অফিসে যায় না এ বিষয়টি এইমাত্র শুনলাম। বিষয়টি যেহেতু আমার নলেজে এসেছে, আমি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

ভুক্তভোগী কালেমশার গ্রামের মো. কামাল হোসেনের স্ত্রী শিরিনা আক্তার বলেন, আমি দুই দিন যাবত আমার মেয়ের জন্মনিবন্ধন করতে এসে ইউনিয়ন পরিষদ বন্ধ পাচ্ছি। অনেক বড় ইউনিয়ন দূর থেকে এসেছি কিন্তু কাজটি শেষ করতে পারিনি।

ওই ইউনিয়নের মেহার গ্রামের মো. মজিবুর রহমান প্রধান জানান, ইউনিয়ন বিভাজনের সভায় তিনি উপস্থিত ছিলেন। প্রতিপক্ষের লোকজন চেয়ারম্যানকে হত্যা করার চেষ্টা করে। তিনি আরও বলেন- আমরা চাই চেয়ারম্যান অফিস করুক। অনেক বিদেশগামীই কাগজপত্রের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে এসে ফিরে যান। তারাও বিপদে আছেন।

১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. রৌশন আলী বলেন, সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে প্রায়ই বহিরাগত সন্ত্রাসীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ইউনিয়ন কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান নেয়। আমরা এলাকায় শান্তি চাই। স্থানীয় সংসদ সদস্য চাইলেই বিষয়টি সমাধান করতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।

ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির বাবুল বলেন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু নেতা বদরপুর বাজারে সশস্ত্র মহড়া দেয়। আমার ওপরও তারা হামলার পরিকল্পনা করেছিল। বাজারের ব্যবসায়ীরাও আতঙ্কে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যান না থাকায় সাধারণ মানুষ হয়রানি হচ্ছেন।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন