কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে সম্প্রীতির মিলনমেলা
jugantor
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে সম্প্রীতির মিলনমেলা

  শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার  

২৬ অক্টোবর ২০২০, ২২:১১:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে সম্প্রীতির মিলনমেলা

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের সাগরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার। প্রতিবারের মতোই এবারও দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে কক্সবাজারে। তবে এবার করোনা মহামারীর কারণে শোভাযাত্রাবিহীন বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ছিলনা রং ছিটানো ও আতশবাজি ফুটানোর খেলা। এছাড়া ছিল না তেমন কোনো আনুষ্ঠানিকতাও। বিসর্জন উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ছাড়াও মুসলিম ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় সমুদ্র সৈকত।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ বছর কক্সবাজার জেলার সদর, রামু, উখিয়া উপজেলাসহ আশপাশের এলাকা থেকে আসা প্রতিমাগুলো সৈকতে বিসর্জন দেয়া হয়। স্ব-স্ব মণ্ডপ থেকে প্রতিমাগুলো এনে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে প্রথমে রাখা হয়। পরে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে শুরু হয় বিসর্জন প্রক্রিয়া।

কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট রণজিত দাশ ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা জানান, কক্সবাজার সৈকতে এবার শতাধিক প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে কক্সবাজার সৈকতে সনাতন ধর্মাবলম্বীর লোকজন ছাড়াও বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের লোকজনের সমাগম ঘটে। তবে তা অন্যান্য বছরের তুলনায় কম বলে জানান আগতরা।

সোমবার দুপুরের পর থেকে সব নিয়ম-নীতি মেনে ট্রাকযোগে লাবনী পয়েন্টে একে একে আনা হয় অপরূপ সাজে সাজানো প্রতীমাগুলো। এরপর ভক্তদের কাঁধে চড়ে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে সাগরে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ভক্তদের উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দেয়া হয় বিসর্জন।

বিসর্জন অনুষ্ঠান ঘিরে কক্সবাজার জেলা পুলিশ, ডিবি পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্য, ফায়ার সার্ভিস বাহিনী ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশের উদ্যোগে সৈকতপাড়ে নির্মিত করা হয় বেশ কয়েকটি অস্থায়ী পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। সেসব টাওয়ার থেকেই পুরো সৈকতের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি নিশ্চিত করা হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

স্থানীয় সাংবাদিক বলরাম দাশ জানান, প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই সৈকতপাড়ে ভক্ত দর্শনার্থীদের চোখেমুখে ছিল বিষাদের সুর। করোনার মহামারীর মাঝেও ভক্তদের মাঝে আনন্দের কমতি ছিল না। পাশাপাশি সৈকত পয়েন্টগুলোতে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায়। যে কারণে যে যার মতো আনন্দটা উপভোগ করতে পেরেছে।

বিজয়া দশমীর বিসর্জন অনুষ্ঠানে কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও নানা শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে সম্প্রীতির মিলনমেলা

 শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার 
২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০:১১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে সম্প্রীতির মিলনমেলা
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে সম্প্রীতির মিলনমেলা

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের সাগরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার। প্রতিবারের মতোই এবারও দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে কক্সবাজারে। তবে এবার করোনা মহামারীর কারণে শোভাযাত্রাবিহীন বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ছিলনা রং ছিটানো ও আতশবাজি ফুটানোর খেলা। এছাড়া ছিল না তেমন কোনো আনুষ্ঠানিকতাও। বিসর্জন উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ছাড়াও মুসলিম ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় সমুদ্র সৈকত।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ বছর কক্সবাজার জেলার সদর, রামু, উখিয়া উপজেলাসহ আশপাশের এলাকা থেকে আসা প্রতিমাগুলো সৈকতে বিসর্জন দেয়া হয়। স্ব-স্ব মণ্ডপ থেকে প্রতিমাগুলো এনে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে প্রথমে রাখা হয়। পরে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে শুরু হয় বিসর্জন প্রক্রিয়া।

 

কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট রণজিত দাশ ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা জানান, কক্সবাজার সৈকতে এবার শতাধিক প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে কক্সবাজার সৈকতে সনাতন ধর্মাবলম্বীর লোকজন ছাড়াও বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের লোকজনের সমাগম ঘটে। তবে তা অন্যান্য বছরের তুলনায় কম বলে জানান আগতরা।

 

সোমবার দুপুরের পর থেকে সব নিয়ম-নীতি মেনে ট্রাকযোগে লাবনী পয়েন্টে একে একে আনা হয় অপরূপ সাজে সাজানো প্রতীমাগুলো। এরপর ভক্তদের কাঁধে চড়ে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে সাগরে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ভক্তদের উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দেয়া হয় বিসর্জন।

 

বিসর্জন অনুষ্ঠান ঘিরে কক্সবাজার জেলা পুলিশ, ডিবি পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্য, ফায়ার সার্ভিস বাহিনী ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশের উদ্যোগে সৈকতপাড়ে নির্মিত করা হয় বেশ কয়েকটি অস্থায়ী পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। সেসব টাওয়ার থেকেই পুরো সৈকতের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি নিশ্চিত করা হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

 

স্থানীয় সাংবাদিক বলরাম দাশ জানান, প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই সৈকতপাড়ে ভক্ত দর্শনার্থীদের চোখেমুখে ছিল বিষাদের সুর। করোনার মহামারীর মাঝেও ভক্তদের মাঝে আনন্দের কমতি ছিল না। পাশাপাশি সৈকত পয়েন্টগুলোতে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায়। যে কারণে যে যার মতো আনন্দটা উপভোগ করতে পেরেছে।

 

বিজয়া দশমীর বিসর্জন অনুষ্ঠানে কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও নানা শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন