লংগদুতে নারী ইউপি সদস্যের মাথা ফাটাল সাবেক চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনী
jugantor
লংগদুতে নারী ইউপি সদস্যের মাথা ফাটাল সাবেক চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনী

  রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি  

২৬ অক্টোবর ২০২০, ২২:৫০:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

রাঙ্গামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন গুলশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য শাহিনা বেগম।

রাঙ্গামাটির লংগদুতে সংরক্ষিত আসনের নারী ইউপি সদস্য ও তার স্বামীর মাথা ফাটিয়েছে সাবেক চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনী। ১৯ অক্টোবর উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের গুলশাখালী বাজারে এ ঘটনা ঘটনা ঘটে।

সোমবার সকালে রাঙ্গামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন গুলশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য শাহিনা বেগম। এ সময় তার স্বামী নাজিম উদ্দিন এবং তার বোন ও মামলার বাদী হোসনে আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

শাহিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তিনি ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে তার ওয়ার্ড এলাকার গুলশাখালী বাজারের ইউপি কার্যালয়ের সামনে সরকারের বরাদ্দ দেয়া দুস্থ পরিবারের মধ্যে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করছিলেন। ওই সময় হঠাৎ সদলবলে হাজির হয়ে প্রত্যেককে পাঁচটি করে ১০ জনের জন্য ভিজিএফ কার্ড দেয়ার দাবি করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিমের পোষ্য সন্ত্রাসীরা। অন্যথায় ভিজিএফ কার্ড বিতরণ বন্ধ রাখতে হবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায় তারা।

পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইউপি সদস্য শাহিনা বেগমের স্বামী নাজিম উদ্দিনের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় আগে ওতপেতে থাকা রহিম চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসীরা। ওই সময় এলাপাতাড়ি লোহার রড ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শাহিনা বেগমের স্বামী নাজিম উদ্দিনের মাথা ফাটিয়ে এবং পায়ের রগ কেটে গুরুতর আহত করে সন্ত্রাসীরা। স্বামীকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল গিয়ে হাজির হলে ইউপি সদস্য শাহিনা বেগমকেও মাথা ফাটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। নাজিম উদ্দিনের কাছে থাকা গরু বিক্রির ৬৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। পরে শাহিনা বেগম ও তার স্বামী নাজিম উদ্দিনকে উদ্ধার করে লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। পরে দুজনকেই রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ইউপি সদস্য শাহিনা বেগম আরও অভিযোগ করে বলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিম ১৯৭১ সালে রাজাকার ছিলেন। ওই সময় তার (শাহিনা বেগম) নানাকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছিলেন রহিম চেয়ারম্যান। ওই ঘটনায় রহিম চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে আবদুর রহিম বলেন, ঘটনার বিষয়টি আমি শুনেছি। কিন্তু কী কারণে ঘটেছে, তা আমি কিছুই জানি না। প্রকৃত ঘটনা হল- ওই নারী ইউপি সদস্য ভিজিএফ কার্ড দেয়ার নামে অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। তার জেরেই ঘটনাটি ঘটতে পারে। আর আমার বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে একটি মিথ্যা মামলা হয়েছে। সেটিকে কেন্দ্র করে বারবার আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করা হয়ে থাকে।

লংগদুতে নারী ইউপি সদস্যের মাথা ফাটাল সাবেক চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনী

 রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি 
২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০:৫০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
রাঙ্গামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন গুলশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য শাহিনা বেগম।
রাঙ্গামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন গুলশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য শাহিনা বেগম।

রাঙ্গামাটির লংগদুতে সংরক্ষিত আসনের নারী ইউপি সদস্য ও তার স্বামীর মাথা ফাটিয়েছে সাবেক চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনী। ১৯ অক্টোবর উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের গুলশাখালী বাজারে এ ঘটনা ঘটনা ঘটে।

সোমবার সকালে রাঙ্গামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন গুলশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য শাহিনা বেগম। এ সময় তার স্বামী নাজিম উদ্দিন এবং তার বোন ও মামলার বাদী হোসনে আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

শাহিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তিনি ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে তার ওয়ার্ড এলাকার গুলশাখালী বাজারের ইউপি কার্যালয়ের সামনে সরকারের বরাদ্দ দেয়া দুস্থ পরিবারের মধ্যে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করছিলেন। ওই সময় হঠাৎ সদলবলে হাজির হয়ে প্রত্যেককে পাঁচটি করে ১০ জনের জন্য ভিজিএফ কার্ড দেয়ার দাবি করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিমের পোষ্য সন্ত্রাসীরা। অন্যথায় ভিজিএফ কার্ড বিতরণ বন্ধ রাখতে হবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায় তারা।

পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইউপি সদস্য শাহিনা বেগমের স্বামী নাজিম উদ্দিনের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় আগে ওতপেতে থাকা রহিম চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসীরা। ওই সময় এলাপাতাড়ি লোহার রড ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শাহিনা বেগমের স্বামী নাজিম উদ্দিনের মাথা ফাটিয়ে এবং পায়ের রগ কেটে গুরুতর আহত করে সন্ত্রাসীরা। স্বামীকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল গিয়ে হাজির হলে ইউপি সদস্য শাহিনা বেগমকেও মাথা ফাটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। নাজিম উদ্দিনের কাছে থাকা গরু বিক্রির ৬৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। পরে শাহিনা বেগম ও তার স্বামী নাজিম উদ্দিনকে উদ্ধার করে লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। পরে  দুজনকেই রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ইউপি সদস্য শাহিনা বেগম আরও অভিযোগ করে বলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিম ১৯৭১ সালে রাজাকার ছিলেন। ওই সময় তার (শাহিনা বেগম) নানাকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছিলেন রহিম চেয়ারম্যান। ওই ঘটনায় রহিম চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে আবদুর রহিম বলেন, ঘটনার বিষয়টি আমি শুনেছি। কিন্তু কী কারণে ঘটেছে, তা আমি কিছুই জানি না। প্রকৃত ঘটনা হল- ওই নারী ইউপি সদস্য ভিজিএফ কার্ড দেয়ার নামে অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। তার জেরেই ঘটনাটি ঘটতে পারে। আর আমার বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে একটি মিথ্যা মামলা হয়েছে। সেটিকে কেন্দ্র করে বারবার আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করা হয়ে থাকে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন