৪০০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ হচ্ছে রাজশাহীর খেতুরীধামে
jugantor
৪০০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ হচ্ছে রাজশাহীর খেতুরীধামে

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৮ অক্টোবর ২০২০, ১৯:৫৫:০২  |  অনলাইন সংস্করণ

খেতুরীধাম

প্রায় ৪০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ভক্তদের সমাবেশ হচ্ছে না রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খেতুরীধামে।

১৬১১ সাল থেকে দুর্গাপূজার পর বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারীরা অহিংসার মহান সাধক ঠাকুর নরোত্তম দাসের কৃপা লাভের আশায় খেতুরীধামে বছরে একবার মিলিত হয়ে থাকেন।

তিন দিনের এ মহোৎসবে প্রতি বছর যোগ দেন দেশ-বিদেশের প্রায় ২০ লাখ সনাতন ধর্মাবলম্বী। তবে এবার করোনা মহামারীর কারণে ভক্তদের এ সমাবেশ হচ্ছে না।

বুধবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর একটি রেস্তোরাঁয় শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গদেব ট্রাস্ট বোর্ড একটি সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাস্ট বোর্ডের সভাপতি প্রফেসর ড. মদন মোহন দে বলেন, প্রতিবছর শ্রী কৃষ্ণা পঞ্চমী তিথিতে প্রেমভক্তি মহারাজ ঠাকুর শ্রীল নরোত্তম দাস মহাশয়ের তিরোভাব তিথি মহোৎসব পালিত হয়।

কিন্তু কোভিড-১৯ ঝুঁকির কারণে আগামী ৪ থেকে ৬ নভেম্বর গোদাগাড়ীর খেতুরে এবার ভক্ত সমাবেশ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য এই যে, কয়েক লাখ ভক্তের সমাগম হলে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

আবেগতাড়িত না হয়ে জীবন রক্ষা করাই বড় ধর্ম উল্লেখ করে ড. মদন মোহন দে বলেন, জীবন থাকলে ধর্মকর্ম এবং ভজন সাধন করা যাবে। তাই যতদিন পর্যন্ত করোনা ভ্যাকসিন সাধারণ মানুষের নাগালে না পৌঁছাচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আমরা আবেগতাড়িত চিন্তাভাবনা বাদ দিয়ে ভক্ত সমাগম না ঘটানোর পক্ষে। এলাকাবাসী এবং দেশবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভক্ত সমাগম না হলেও তিরোভাব তিথি মহোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। মন্দিরের ফটক বন্ধ করে তাদের নির্ধারিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালিত হবে।

নাগমন্দিরে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী কীর্তন করা হবে। এতে চারটি দল অংশ নেবে। প্রতি দলে থাকবেন মাত্র ১০ জন। রান্নাবান্নার জন্য আরও ১০ জন থাকবেন। এছাড়া ট্রাস্ট বোর্ডের ১২ জন সদস্য এবং অন্যান্য ছয়জন কর্মী থাকবেন।

সব মিলিয়ে ৭০ জনের মতো অংশ নেয়ার সুযোগ থাকবে। এর বাইরে একজনও সুযোগ পাবেন না। মন্দিরের ফটক বন্ধ রাখা হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে ট্রাস্ট বোর্ডের কথা হয়েছে। পুলিশ-প্রশাসন নির্ধারিত সময় খেতুরীধামের দিকে কোনো ভক্তকে যেতে দেবে না। মহাসড়কে বাস এলে ঘুরিয়ে দেয়া হবে। উৎসবের সময় প্রতি বছরের মতো এবার কোনো মেলা হবে না। দোকানপাট বসবে না। তাই ট্রাস্ট বোর্ডের পক্ষ থেকে ভক্তদের এবার খেতুরীধামে না আসার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গদেব ট্রাস্ট বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক শ্যামাপদ স্যানাল, সদস্য সুনন্দন দাস রতন, বাবু মণ্ডল, গণেশ চন্দ্র ঘোষ, বিকাশ কুমার সরকার, ব্যবস্থাপক গোবিন্দ চন্দ্র পাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

৪০০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ হচ্ছে রাজশাহীর খেতুরীধামে

 রাজশাহী ব্যুরো 
২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৫৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
খেতুরীধাম
খেতুরীধাম। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ৪০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ভক্তদের সমাবেশ হচ্ছে না রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খেতুরীধামে। 

১৬১১ সাল থেকে দুর্গাপূজার পর বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারীরা অহিংসার মহান সাধক ঠাকুর নরোত্তম দাসের কৃপা লাভের আশায় খেতুরীধামে বছরে একবার মিলিত হয়ে থাকেন।

তিন দিনের এ মহোৎসবে প্রতি বছর যোগ দেন দেশ-বিদেশের প্রায় ২০ লাখ সনাতন ধর্মাবলম্বী। তবে এবার করোনা মহামারীর কারণে ভক্তদের এ সমাবেশ হচ্ছে না। 

বুধবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর একটি রেস্তোরাঁয় শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গদেব ট্রাস্ট বোর্ড একটি সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাস্ট বোর্ডের সভাপতি প্রফেসর ড. মদন মোহন দে বলেন, প্রতিবছর শ্রী কৃষ্ণা পঞ্চমী তিথিতে প্রেমভক্তি মহারাজ ঠাকুর শ্রীল নরোত্তম দাস মহাশয়ের তিরোভাব তিথি মহোৎসব পালিত হয়। 

কিন্তু কোভিড-১৯ ঝুঁকির কারণে আগামী ৪ থেকে ৬ নভেম্বর গোদাগাড়ীর খেতুরে এবার ভক্ত সমাবেশ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য এই যে, কয়েক লাখ ভক্তের সমাগম হলে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

আবেগতাড়িত না হয়ে জীবন রক্ষা করাই বড় ধর্ম উল্লেখ করে ড. মদন মোহন দে বলেন, জীবন থাকলে ধর্মকর্ম এবং ভজন সাধন করা যাবে। তাই যতদিন পর্যন্ত করোনা ভ্যাকসিন সাধারণ মানুষের নাগালে না পৌঁছাচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আমরা আবেগতাড়িত চিন্তাভাবনা বাদ দিয়ে ভক্ত সমাগম না ঘটানোর পক্ষে। এলাকাবাসী এবং দেশবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভক্ত সমাগম না হলেও তিরোভাব তিথি মহোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। মন্দিরের ফটক বন্ধ করে তাদের নির্ধারিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালিত হবে। 

নাগমন্দিরে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী কীর্তন করা হবে। এতে চারটি দল অংশ নেবে। প্রতি দলে থাকবেন মাত্র ১০ জন। রান্নাবান্নার জন্য আরও ১০ জন থাকবেন। এছাড়া ট্রাস্ট বোর্ডের ১২ জন সদস্য এবং অন্যান্য ছয়জন কর্মী থাকবেন। 

সব মিলিয়ে ৭০ জনের মতো অংশ নেয়ার সুযোগ থাকবে। এর বাইরে একজনও সুযোগ পাবেন না। মন্দিরের ফটক বন্ধ রাখা হবে। 

এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে ট্রাস্ট বোর্ডের কথা হয়েছে। পুলিশ-প্রশাসন নির্ধারিত সময় খেতুরীধামের দিকে কোনো ভক্তকে যেতে দেবে না। মহাসড়কে বাস এলে ঘুরিয়ে দেয়া হবে। উৎসবের সময় প্রতি বছরের মতো এবার কোনো মেলা হবে না। দোকানপাট বসবে না। তাই ট্রাস্ট বোর্ডের পক্ষ থেকে ভক্তদের এবার খেতুরীধামে না আসার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গদেব ট্রাস্ট বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক শ্যামাপদ স্যানাল, সদস্য সুনন্দন দাস রতন, বাবু মণ্ডল, গণেশ চন্দ্র ঘোষ, বিকাশ কুমার সরকার, ব্যবস্থাপক গোবিন্দ চন্দ্র পাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন