রাজশাহীতে বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল বন্ধের দাবি
jugantor
রাজশাহীতে বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল বন্ধের দাবি

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৮ অক্টোবর ২০২০, ২১:২৩:৩৫  |  অনলাইন সংস্করণ

উত্তরবঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি নেসকোর ভৌতিক বিল আদায় বন্ধ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন এবং সেবার মানোন্নয়নের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশের পর এবার বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি পেশ করেন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা।

স্মারকলিপির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, স্থানীয় মেয়র ও সংসদ সদস্যদের কাছেও পাঠানো হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ খাতে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে। আগামীতে আরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে লক্ষমাত্রা অর্জন করবে। অথচ রাজশাহীতে যেখানে কর্মসংস্থানের কোনো ক্ষেত্র নেই, বড় বড় কোনো শিল্প কলকারখানা নেই, শুধু বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিভিক্তিক অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। শুধু এই প্রধান দুটি আয়ের উৎসের ওপর নির্ভর করে এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকা চলে।

অথচ এখানে নেসকো প্রকৃত মিটার রিডার ছাড়াই গ্রাহকের কাছ থেকে ভৌতিক বিল আদায়ের উৎসবে মেতে উঠেছে। হালকা ঝড়োবাতাস বা সামান্য বৃষ্টি হলেই দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ চলে যায়। দিনে ও রাতে বহুবার লোডশেডিং হয়।

এসব কারণে বিভিন্ন মার্কেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র কারখানাগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ আইসিটি প্রতিষ্ঠানগুলোতে শর্টসার্কিট হচ্ছে এবং নৈমিত্তিক ব্যবহারিক কম্পিউটার, প্রিন্টার, বাসাবাড়িতে টিভি, ফ্রিজ, এসি, মোবাইল, ফ্যান, লাইটসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্মারকলিপিতে মহানগরীতে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপনেরও দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিকে আরও উল্লেখ করা হয়, স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার কার্যক্রম নিয়ে ইতিমধ্যেই ঢাকা এবং চট্টগ্রামের গ্রাহকদের সীমাহীন দুর্ভোগ দেখা গিয়েছে। এ বিষয়টি নজরে এসেছে রাজশাহীর মানুষের মাঝেও। রাজশাহীর মানুষের দাবি স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট রিচার্জের জন্য পর্যাপ্ত ভেনডিং মেশিনের ব্যবস্থা না করে গ্রাহকের ওপর যেন চাপিয়ে না দেয়া হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিরাজমান সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা হবে নেসকোর আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। রাজশাহীতে নেসকো প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর গ্রাহকদের যে ধরনের বিদ্যুৎসেবা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং সরকারের সঙ্গে যে চুক্তি সম্পাদন হয়েছিল তা দৃশ্যমান হয়নি।

এছাড়াও নেসকোর বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয় স্মারকলিপিতে।

স্মারকলিপি প্রদানের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি লিয়াকত আলী, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান, ন্যাপ নেতা মুস্তাফিজুর রহমান খান আলম, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, নারীনেত্রী সেলিনা বেগম, মহিলা পরিষদ নেত্রী আকলিমা লিমা, মুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম, কেএম জোবায়েদ হোসেন জিতু, ছাত্রনেতা জাহিদ হাসান প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল স্মারকলিপি গ্রহণ করে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন।

রাজশাহীতে বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল বন্ধের দাবি

 রাজশাহী ব্যুরো 
২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৯:২৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

উত্তরবঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি নেসকোর ভৌতিক বিল আদায় বন্ধ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন এবং সেবার মানোন্নয়নের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশের পর এবার বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। 

বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি পেশ করেন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা।

স্মারকলিপির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, স্থানীয় মেয়র ও সংসদ সদস্যদের কাছেও পাঠানো হয়। 

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ খাতে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে। আগামীতে আরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে লক্ষমাত্রা অর্জন করবে। অথচ রাজশাহীতে যেখানে কর্মসংস্থানের কোনো ক্ষেত্র নেই, বড় বড় কোনো শিল্প কলকারখানা নেই, শুধু বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিভিক্তিক অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। শুধু এই প্রধান দুটি আয়ের উৎসের ওপর নির্ভর করে এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকা চলে। 

অথচ এখানে নেসকো প্রকৃত মিটার রিডার ছাড়াই গ্রাহকের কাছ থেকে ভৌতিক বিল আদায়ের উৎসবে মেতে উঠেছে। হালকা ঝড়োবাতাস বা সামান্য বৃষ্টি হলেই দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ চলে যায়। দিনে ও রাতে বহুবার লোডশেডিং হয়। 

এসব কারণে বিভিন্ন মার্কেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র কারখানাগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ আইসিটি প্রতিষ্ঠানগুলোতে শর্টসার্কিট হচ্ছে এবং নৈমিত্তিক ব্যবহারিক কম্পিউটার, প্রিন্টার, বাসাবাড়িতে টিভি, ফ্রিজ, এসি, মোবাইল, ফ্যান, লাইটসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। 

স্মারকলিপিতে মহানগরীতে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপনেরও দাবি জানানো হয়। 

স্মারকলিপিকে আরও উল্লেখ করা হয়, স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার কার্যক্রম নিয়ে ইতিমধ্যেই ঢাকা এবং চট্টগ্রামের গ্রাহকদের সীমাহীন দুর্ভোগ দেখা গিয়েছে। এ বিষয়টি নজরে এসেছে রাজশাহীর মানুষের মাঝেও। রাজশাহীর মানুষের দাবি স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট রিচার্জের জন্য পর্যাপ্ত ভেনডিং মেশিনের ব্যবস্থা না করে গ্রাহকের ওপর যেন চাপিয়ে না দেয়া হয়।    

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিরাজমান সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা হবে নেসকোর আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। রাজশাহীতে নেসকো প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর গ্রাহকদের যে ধরনের বিদ্যুৎসেবা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং সরকারের সঙ্গে যে চুক্তি সম্পাদন হয়েছিল তা দৃশ্যমান হয়নি। 

এছাড়াও নেসকোর বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয় স্মারকলিপিতে।

স্মারকলিপি প্রদানের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি লিয়াকত আলী, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান, ন্যাপ নেতা মুস্তাফিজুর রহমান খান  আলম, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, নারীনেত্রী  সেলিনা বেগম, মহিলা পরিষদ নেত্রী আকলিমা লিমা, মুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম, কেএম জোবায়েদ হোসেন জিতু, ছাত্রনেতা জাহিদ হাসান প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল স্মারকলিপি গ্রহণ করে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন। 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন