নবাবগঞ্জে প্রতিবন্ধী-শিশুসহ একদিনে ৩টি ধর্ষণ
jugantor
নবাবগঞ্জে প্রতিবন্ধী-শিশুসহ একদিনে ৩টি ধর্ষণ

  দিনাজপুর প্রতিনিধি  

২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৭:৫৬:০৫  |  অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় শারীরিক প্রতিবন্ধী ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীসহ একদিনে তিনটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে ৪ জনকে।

উপজেলায় চলতি মাসে এ পর্যন্ত ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৩টি। আর এতে গ্রেফতার হয়েছে ১৪ জন।

পুলিশ জানায়, নবাবগঞ্জ উপজেলার পুটিমাড়া ইউনিয়নের লোকা গ্রামে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত বুধবার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্কুলছাত্রীর পিতা। এ মামলায় গ্রেফতার করা হয় রবিউল ইসলাম নামে এক যুবককে। গ্রেফতারকৃত রবিউল ইসলাম (১৯) জয়পুরহাট জেলার বুলপাড়া গ্রামের মো. মুন্না হোসেনের ছেলে।

থানায় দায়েরকৃত এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে রবিউলের পরিচয় ও সখ্যতা গড়ে উঠে। এর একপর্যায়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রবিউল ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে নবাবগঞ্জে তার বাড়িতে দেখা করতে চলে আসে। শিক্ষার্থীর বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে রবিউল জোরপূর্বক ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে।

এ সময় শিক্ষার্থীর মা বাড়িতে এসে ঘটনা দেখে ফেললে স্থানীয়দের সহায়তায় রবিউলকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে ওই শিক্ষার্থীর পিতা বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

একই দিন নবাবগঞ্জ উপজেলার তর্পণঘাট গোলাবাড়ী গ্রামে আদিবাসী এক শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় প্রতিবেশী কমলেশ হেম্ব্রম (৩০)। এ ঘটনায় প্রতিবন্ধী ওই তরুণীর পিতা নবাবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলে কমলেশ হেম্ব্রমকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত কমলেশ হেম্ব্রম নবাবগঞ্জ উপজেলার তর্পণঘাট গোলাবাড়ী গ্রামের লাল হেম্ব্রমের ছেলে।

ওই দিনই নবাবগঞ্জ উপজেলার চার্লিপাড়া গ্রামে আদিবাসী এক গৃহবধূকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণ করে ওই এলাকায় বেড়াতে আসা গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চাঙ্গুরা গ্রামের গণেশ হেম্ব্রম। এতে সহযোগিতা করে তারই সঙ্গে বেড়াতে আসা একই এলাকার অনিল মার্ডি।

এ সময় গৃহবধূর চেঁচামেচিতে এলাকাবাসী এসে গণেশ হেম্ব্রম ও তার সহযোগী অনিল মার্ডিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এ বিষয়ে গৃহবধূ বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

গ্রেফতারকৃত গণেশ হেম্ব্রম (২৫) গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চাঙ্গুরা গ্রামের বিচার হেম্ব্রমের ছেলে এবং অনিল মার্ডি (২৫) একই গ্রামের খুদকু মার্ডির ছেলে।

নবাবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সামশুল আলম জানান, একদিনে তিনটি ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত চারজনকে বুধবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, নবাবগঞ্জ থানায় চলতি মাসে এ পর্যন্ত ১৩টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। এই ১৩টি মামলায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দায়েরকৃত প্রত্যেকটি মামলায় আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ।

নবাবগঞ্জে প্রতিবন্ধী-শিশুসহ একদিনে ৩টি ধর্ষণ

 দিনাজপুর প্রতিনিধি 
২৯ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৫৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় শারীরিক প্রতিবন্ধী ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীসহ একদিনে তিনটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে ৪ জনকে।

উপজেলায় চলতি মাসে এ পর্যন্ত ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৩টি। আর এতে গ্রেফতার হয়েছে ১৪ জন।

পুলিশ জানায়, নবাবগঞ্জ উপজেলার পুটিমাড়া ইউনিয়নের লোকা গ্রামে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত বুধবার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্কুলছাত্রীর পিতা। এ মামলায় গ্রেফতার করা হয় রবিউল ইসলাম নামে এক যুবককে। গ্রেফতারকৃত রবিউল ইসলাম (১৯) জয়পুরহাট জেলার বুলপাড়া গ্রামের মো. মুন্না হোসেনের ছেলে।

থানায় দায়েরকৃত এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে রবিউলের পরিচয় ও সখ্যতা গড়ে উঠে। এর একপর্যায়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রবিউল ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে নবাবগঞ্জে তার বাড়িতে দেখা করতে চলে আসে। শিক্ষার্থীর বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে রবিউল জোরপূর্বক ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে।

এ সময় শিক্ষার্থীর মা বাড়িতে এসে ঘটনা দেখে ফেললে স্থানীয়দের সহায়তায় রবিউলকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে ওই শিক্ষার্থীর পিতা বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

একই দিন নবাবগঞ্জ উপজেলার তর্পণঘাট গোলাবাড়ী গ্রামে আদিবাসী এক শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় প্রতিবেশী কমলেশ হেম্ব্রম (৩০)। এ ঘটনায় প্রতিবন্ধী ওই তরুণীর পিতা নবাবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলে কমলেশ হেম্ব্রমকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত কমলেশ হেম্ব্রম নবাবগঞ্জ উপজেলার তর্পণঘাট গোলাবাড়ী গ্রামের লাল হেম্ব্রমের ছেলে।

ওই দিনই নবাবগঞ্জ উপজেলার চার্লিপাড়া গ্রামে আদিবাসী এক গৃহবধূকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণ করে ওই এলাকায় বেড়াতে আসা গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চাঙ্গুরা গ্রামের গণেশ হেম্ব্রম। এতে সহযোগিতা করে তারই সঙ্গে বেড়াতে আসা একই এলাকার অনিল মার্ডি।

এ সময় গৃহবধূর চেঁচামেচিতে এলাকাবাসী এসে গণেশ হেম্ব্রম ও তার সহযোগী অনিল মার্ডিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এ বিষয়ে গৃহবধূ বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

গ্রেফতারকৃত গণেশ হেম্ব্রম (২৫) গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চাঙ্গুরা গ্রামের বিচার হেম্ব্রমের ছেলে এবং অনিল মার্ডি (২৫) একই গ্রামের খুদকু মার্ডির ছেলে।

নবাবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সামশুল আলম জানান, একদিনে তিনটি ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত চারজনকে বুধবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, নবাবগঞ্জ থানায় চলতি মাসে এ পর্যন্ত ১৩টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। এই ১৩টি মামলায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দায়েরকৃত প্রত্যেকটি মামলায় আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন