ওসি কামরুল কারাগারে, তথ্য না দিতে কোর্ট ইন্সপেক্টরের হুশিয়ারি
jugantor
ওসি কামরুল কারাগারে, তথ্য না দিতে কোর্ট ইন্সপেক্টরের হুশিয়ারি

  ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি  

২৯ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪৬:৩৩  |  অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার সাবেক ওসি কামরুল ইসলাম এক সপ্তাহ যাবত মাদক মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেলা কারাগারে বন্দি থাকলেও রহস্যজনক কারণে সাংবাদিকদের তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামান।

উল্টো কোর্ট ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামান কোর্টে দায়িত্বে থাকা সব পুলিশ সদস্যকে সতর্ক করে দেন যাতে কোনো অবস্থাতেই যেন ওসি কামরুল ইসলামের কারাগারে পাঠানোর খবর প্রকাশ না হয়।

অবশেষে পুলিশের নানা নাটকীয়তার পর বৃহস্পতিবার রাতে ওসি কামরুল ইসলামের কারাগারে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেল সুপার মো. মাহবুবুল আলম।

আদালত সূত্র জানায়, কঠোর গোপনীয়তায় গত ২২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন কামরুল ইসলাম। পরে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এক সপ্তাহব্যাপী ওসি কামরুল নারায়ণগঞ্জ কারাগারে রয়েছেন- এমন খবরের গুঞ্জনে গণমাধ্যম কর্মীদের নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জ আদালতের পুলিশ ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামানের মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে আদালতের দায়িত্বে থাকা একাধিক পুলিশ অফিসারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, এমন ঘটনা আমাদের জানা নেই।

তবে নারায়ণগঞ্জ আদালতের নির্ভরশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে জানায়, আদালতের দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর আসাদ রোল কল ডেকে সব পুলিশ সদস্যকে সতর্ক করে দেন- কোনো অবস্থাতেই যেন ওসি কামরুল ইসলামের কারাগারে পাঠানোর খবর প্রকাশ না হয়।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার রুপালি আবাসিক এলাকা থেকে সদর মডেল থানার এএসআই সরোয়ার্দি ও মাদক বহনকারী সাবিনা আক্তার রুনুকে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবা ও নগদ ৫ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

এ ঘটনায় বন্দর থানায় দায়েরকৃত মামলার আসামি পুলিশের এএসআই আলম সরোয়ার্দি আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, রুনুকে ইয়াবাসহ আটকের পর ওসি কামরুল ইসলামকে আমি ফোন করি। উনি আমাকে নিরাপদ স্থানে যেতে বলেন। এরপর ঘাটের কাছেই বাসা হওয়ায় আমি আসামিসহ বাসায় চলে যাই। পরে ওসি আলামত (৪৯ হাজার পিস ইয়াবা) ও ৫ লাখ টাকা রেখে রুনুসহ দুজনকে এসআই মোর্শেদের কাছে দিতে বলেন।

এএসআই আলম সরোয়ার্দি বলেন, মোর্শেদ আসামি রুনুকে নিয়ে বাসার নিচে যাওয়ার পর আমাকে ফোন দিয়ে অপর আসামিকে ছেড়ে দিতে বলেন। আসামি ছেড়ে দেয়ার আগে আমি আলামত ও টাকা রেখে দেই। ওই আলামত থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবা এনে ওসির নির্দেশমতো রাস্তা থেকে জনি নামে একজনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসি। রাতে ডিবি অভিযান চালিয়ে আলামত ও টাকা জব্দ করে।

কনস্টেবল মো. আসাদুজ্জামান জবানবন্দিতে বলেন, সরোয়ার্দির বাসায় গিয়ে রুনু ও আ. রহমানকে দেখতে পাই। সে দুজনকে ইয়াবাসহ ধরেছে। মাদকগুলো থানায় না এনে বাসায় আনার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সরোয়ার্দি বলেন, ওসি কামরুল স্যার আমাকে আসামিসহ মাদকগুলো বাসায় রাখতে বলেছে।

পুলিশের দুজন সদস্যের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওসি কামরুলের নাম আসার পরেও তাকে বাদ দিয়ে গত আগস্ট মাসে ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজিমউদ্দিন আল আজাদ।

মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি কনস্টেবল আসাদুজ্জামানের জামিন আবেদন পর্যালোচনাকালে বিষয়টি হাইকোর্টের দৃষ্টিতে আসে। এরপরই তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব এবং এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। হাইকোর্টে দেয়া ব্যাখ্যায় তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ছাড়া পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় ওসিকে আসামি করা হয়নি।

আইওর ওই ব্যাখ্যা আইনগতভাবে কতটা সঠিক সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও এসএম শাহজাহানের মতামত গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। তারা আদালতে অভিমত দিয়ে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার প্রধান কাজ মামলার তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করা। তার কোনো ক্ষমতাই নেই মামলার তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নে সিদ্ধান্ত দেয়ার। ফলে তদন্ত কর্মকর্তা ওসিকে আসামি না করার ব্যাপারে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেটা আইনগতভাবে সঠিক নয়।

এ মামলায় ওসি কামরুলের নাম আসায় আদালতের নির্দেশে গত বছরের ৪ মার্চ সদর থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। পরে তাকে মামলার চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেয়া হলে ২ এপ্রিল আবারও সদর থানায় তাকে পুনর্বহাল করা হয়। তিনি পরে ডিবি ও অন্যত্র বদলি হন।

পরে সিআইডি ওসি কামরুলকে সম্পূরক চার্জশিটভুক্ত করেন। গত ২২ অক্টোবর তিনি নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে হাজির হলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। আগামী ১ নভেম্বর তার জামির শুনানি হবে।

ওসি কামরুল কারাগারে, তথ্য না দিতে কোর্ট ইন্সপেক্টরের হুশিয়ারি

 ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি 
২৯ অক্টোবর ২০২০, ১০:৪৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার সাবেক ওসি কামরুল ইসলাম এক সপ্তাহ যাবত মাদক মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেলা কারাগারে বন্দি থাকলেও রহস্যজনক কারণে সাংবাদিকদের তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামান।

উল্টো কোর্ট ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামান কোর্টে দায়িত্বে থাকা সব পুলিশ সদস্যকে সতর্ক করে দেন যাতে কোনো অবস্থাতেই যেন ওসি কামরুল ইসলামের কারাগারে পাঠানোর খবর প্রকাশ না হয়।

অবশেষে পুলিশের নানা নাটকীয়তার পর বৃহস্পতিবার রাতে ওসি কামরুল ইসলামের কারাগারে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেল সুপার মো. মাহবুবুল আলম।

আদালত সূত্র জানায়, কঠোর গোপনীয়তায় গত ২২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন কামরুল ইসলাম। পরে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এক সপ্তাহব্যাপী ওসি কামরুল নারায়ণগঞ্জ কারাগারে রয়েছেন- এমন খবরের গুঞ্জনে গণমাধ্যম কর্মীদের নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জ আদালতের পুলিশ ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামানের মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে আদালতের দায়িত্বে থাকা একাধিক পুলিশ অফিসারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, এমন ঘটনা আমাদের জানা নেই।

তবে নারায়ণগঞ্জ আদালতের নির্ভরশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে জানায়, আদালতের দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর আসাদ রোল কল ডেকে সব পুলিশ সদস্যকে সতর্ক করে দেন- কোনো অবস্থাতেই যেন ওসি কামরুল ইসলামের কারাগারে পাঠানোর খবর প্রকাশ না হয়।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার রুপালি আবাসিক এলাকা থেকে সদর মডেল থানার এএসআই  সরোয়ার্দি ও মাদক বহনকারী সাবিনা আক্তার রুনুকে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবা ও নগদ ৫ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

এ ঘটনায় বন্দর থানায় দায়েরকৃত মামলার আসামি পুলিশের এএসআই  আলম সরোয়ার্দি আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, রুনুকে ইয়াবাসহ আটকের পর ওসি কামরুল ইসলামকে আমি ফোন করি। উনি আমাকে নিরাপদ স্থানে যেতে বলেন। এরপর ঘাটের কাছেই বাসা হওয়ায় আমি আসামিসহ বাসায় চলে যাই। পরে ওসি আলামত (৪৯ হাজার পিস ইয়াবা) ও ৫ লাখ টাকা রেখে রুনুসহ দুজনকে এসআই  মোর্শেদের কাছে দিতে বলেন।

এএসআই  আলম সরোয়ার্দি বলেন, মোর্শেদ আসামি রুনুকে নিয়ে বাসার নিচে যাওয়ার পর আমাকে ফোন দিয়ে অপর আসামিকে ছেড়ে দিতে বলেন। আসামি ছেড়ে দেয়ার আগে আমি আলামত ও টাকা রেখে দেই। ওই আলামত থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবা এনে ওসির নির্দেশমতো রাস্তা থেকে জনি নামে একজনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসি। রাতে ডিবি অভিযান চালিয়ে আলামত ও টাকা জব্দ করে।

কনস্টেবল মো. আসাদুজ্জামান জবানবন্দিতে বলেন, সরোয়ার্দির বাসায় গিয়ে রুনু ও আ. রহমানকে দেখতে পাই। সে দুজনকে ইয়াবাসহ ধরেছে। মাদকগুলো থানায় না এনে বাসায় আনার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সরোয়ার্দি বলেন, ওসি কামরুল স্যার আমাকে আসামিসহ মাদকগুলো বাসায় রাখতে বলেছে।

পুলিশের দুজন সদস্যের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওসি কামরুলের নাম আসার পরেও তাকে বাদ দিয়ে গত আগস্ট মাসে ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজিমউদ্দিন আল আজাদ।

মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি কনস্টেবল আসাদুজ্জামানের জামিন আবেদন পর্যালোচনাকালে বিষয়টি হাইকোর্টের দৃষ্টিতে আসে। এরপরই তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব এবং এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। হাইকোর্টে দেয়া ব্যাখ্যায় তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ছাড়া পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় ওসিকে আসামি করা হয়নি।

আইওর ওই ব্যাখ্যা আইনগতভাবে কতটা সঠিক সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও এসএম শাহজাহানের মতামত গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। তারা আদালতে অভিমত দিয়ে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার প্রধান কাজ মামলার তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করা। তার কোনো ক্ষমতাই নেই মামলার তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নে সিদ্ধান্ত দেয়ার। ফলে তদন্ত কর্মকর্তা ওসিকে আসামি না করার ব্যাপারে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেটা আইনগতভাবে সঠিক নয়।

এ মামলায় ওসি কামরুলের নাম আসায় আদালতের নির্দেশে গত বছরের ৪ মার্চ সদর থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। পরে তাকে মামলার চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেয়া হলে ২ এপ্রিল আবারও সদর থানায় তাকে পুনর্বহাল করা হয়। তিনি পরে ডিবি ও অন্যত্র বদলি হন।

পরে সিআইডি ওসি কামরুলকে সম্পূরক চার্জশিটভুক্ত করেন। গত ২২ অক্টোবর তিনি নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে হাজির হলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। আগামী ১ নভেম্বর তার জামির শুনানি হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন