ভাই-ভাবি-ভাতিজাকে একাই খুন করে দ্বীন ইসলাম!
jugantor
ভাই-ভাবি-ভাতিজাকে একাই খুন করে দ্বীন ইসলাম!

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ও কটিয়াদী প্রতিনিধি  

৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৬:২২:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

আসাদ মিয়া, তার স্ত্রী পারভীন আক্তার ও তাদের শিশুপুত্র লিয়ন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে নিখোঁজের একদিন পর বাড়ির পাশ থেকে একসঙ্গে মাটিচাপা বাবা-মা ও শিশু পুত্রের লাশ উদ্ধার করেছেন পুলিশ। এ সময় নিহতের ছোট ভাই দ্বীন ইসলামসহ চারজনকে আটক করা হয়।

তবে দ্বীন ইসলাম একাই তিনজনকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

নিহতরা হলেন উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জামষাইট কান্দাপাড়া গ্রামের আসাদ মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী পারভীন আক্তার (৪২) ও শিশুপুত্র লিয়ন (৭)।

দ্বীন ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশকে জানায়, জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তিনি একাই তিনজনকে হত্যা করেছেন। বুধবার রাত ১টার দিকে শাবল দিয়ে বড় ভাই আসাদকে হত্যা করার পর ভাবি পারভীন আক্তার ও ভাতিজা লিওনকে হত্যা করে। পরে ঘরের পাশেই একটি গর্ত খুঁড়ে প্রথমে গর্তে ভাই আসাদ পরে ভাবী এবং ভাতিজাকে রেখে মাটি চাপা দিয়ে রাখে।

নির্মম এ ঘটনাটি তিনি একাই ঘটিয়েছে বলে দায় স্বীকার করলেও পুলিশ অধিকতর তদন্তের স্বার্থে আটক অন্যান্যদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্ত অব্যাহত রেখেছেন।

কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে শুক্রবার ডা. রাকিব আশকারীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টিম ময়নাতদন্তের কাজ করছেন। ময়নাতদন্তের পর নিহতের বড় ছেলে তোফাজ্জল হোসেন লাশ গ্রহণ করে বাড়িতে এনে জানাজার নামাজ ও দাফনের পর মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ যুগান্তরকে জানান, এ ঘটনার প্রকৃতি দেখে মনে হয়েছে পূর্ব পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। তাই এ ঘটনায় নিহত আসাদের ভাই দ্বীন ইসলাম, দুই বোন নাজমা ও তাসলিমা এবং তাসলিমার স্বামী ফজলু মিয়াকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসাদের মাকেও থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন পুলিশ সুপার।

তিনি আরও জানান, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্বীন ইসলাম একাই শাবল দিয়ে তিনজনকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখে বলে শিকার করেছে। আরও তদন্ত চলছে।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি এম এ জলিল জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

উল্লেখ্য, নিখোঁজের একদিন পর কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার নিজ বাড়ির পাশ থেকে মাটি খুঁড়ে বাবা-মা ও ছেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জামষাইট কান্দাপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি সংলগ্ন বাঁশঝাড় থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাত থেকে ওই গ্রামের বাড়ি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় তারা তিনজন। ওই রাতেই তাদের মেঝ ছেলে মোফাজ্জল এ ঘটনা কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশকে জানায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ওই বাঁশঝাড়ে নতুন মাটি দেখে সন্দেহ হয় ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরা বড় ছেলে তোফাজ্জলের।

পরে খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এ সময় একই গর্ত থেকে নিখোঁজ এ তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

ভাই-ভাবি-ভাতিজাকে একাই খুন করে দ্বীন ইসলাম!

 কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ও কটিয়াদী প্রতিনিধি 
৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৪:২২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আসাদ মিয়া, তার স্ত্রী পারভীন আক্তার ও তাদের শিশুপুত্র লিয়ন
আসাদ মিয়া, তার স্ত্রী পারভীন আক্তার ও তাদের শিশুপুত্র লিয়ন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে নিখোঁজের একদিন পর বাড়ির পাশ থেকে একসঙ্গে মাটিচাপা বাবা-মা ও শিশু পুত্রের লাশ উদ্ধার করেছেন পুলিশ। এ সময় নিহতের ছোট ভাই দ্বীন ইসলামসহ চারজনকে আটক করা হয়।

তবে দ্বীন ইসলাম একাই তিনজনকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

নিহতরা হলেন উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জামষাইট কান্দাপাড়া গ্রামের আসাদ মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী পারভীন আক্তার (৪২) ও শিশুপুত্র লিয়ন (৭)।

দ্বীন ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশকে জানায়, জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তিনি একাই তিনজনকে হত্যা করেছেন। বুধবার রাত ১টার দিকে শাবল দিয়ে বড় ভাই আসাদকে হত্যা করার পর ভাবি পারভীন আক্তার ও ভাতিজা লিওনকে হত্যা করে। পরে ঘরের পাশেই একটি গর্ত খুঁড়ে প্রথমে গর্তে ভাই আসাদ পরে ভাবী এবং ভাতিজাকে রেখে মাটি চাপা দিয়ে রাখে।

নির্মম এ ঘটনাটি তিনি একাই ঘটিয়েছে বলে দায় স্বীকার করলেও পুলিশ অধিকতর তদন্তের স্বার্থে আটক অন্যান্যদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্ত অব্যাহত রেখেছেন।

কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে শুক্রবার ডা. রাকিব আশকারীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টিম ময়নাতদন্তের কাজ করছেন। ময়নাতদন্তের পর নিহতের বড় ছেলে তোফাজ্জল হোসেন লাশ গ্রহণ করে বাড়িতে এনে জানাজার নামাজ ও দাফনের পর মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ যুগান্তরকে জানান, এ ঘটনার প্রকৃতি দেখে মনে হয়েছে পূর্ব পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। তাই এ ঘটনায় নিহত আসাদের ভাই দ্বীন ইসলাম, দুই বোন নাজমা ও তাসলিমা এবং তাসলিমার স্বামী ফজলু মিয়াকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসাদের মাকেও থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন পুলিশ সুপার।

তিনি আরও জানান, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্বীন ইসলাম একাই শাবল দিয়ে তিনজনকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখে বলে শিকার করেছে। আরও তদন্ত চলছে।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি এম এ জলিল জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

উল্লেখ্য, নিখোঁজের একদিন পর কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার নিজ বাড়ির পাশ থেকে মাটি খুঁড়ে বাবা-মা ও ছেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জামষাইট কান্দাপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি সংলগ্ন বাঁশঝাড় থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশ জানায়, বুধবার রাত থেকে ওই গ্রামের বাড়ি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় তারা তিনজন। ওই রাতেই তাদের মেঝ ছেলে মোফাজ্জল এ ঘটনা কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশকে জানায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ওই বাঁশঝাড়ে নতুন মাটি দেখে সন্দেহ হয় ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরা বড় ছেলে তোফাজ্জলের।  

পরে খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এ সময় একই গর্ত থেকে নিখোঁজ এ তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন