রেললাইনে বিকল ট্রাক, ১২ হাজার টাকায় ছাড়পত্র ছাড়াই দফারফা
jugantor
রেললাইনে বিকল ট্রাক, ১২ হাজার টাকায় ছাড়পত্র ছাড়াই দফারফা

  পূবাইল (গাজীপুর) প্রতিনিধি  

৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৩:৩৮:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

রেললাইনে বিকল ট্রাক, ১২ হাজার টাকায় ছাড়পত্র ছাড়াই দফারফা

রেললাইনের ওপর মালবাহী ট্রাক বিকল হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে এক ঘণ্টা ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ থাকে। এ ঘটনায় ট্রাকটিকে জব্দ করে রেলওয়ে পুলিশ।

তবে পরে ১২ হাজার টাকায় দফারফা করে ট্রাকটিকে ছাড়পত্র ছাড়া ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে টঙ্গী রেলওয়ের ফাঁড়ির ইনচার্জ নুর মোহাম্মদ ও কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল মিরেরবাজার ঢাকা বাইপাস মহাসড়কে রেলগেটের ভিতর লাইনের ওপর মালবাহী ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো ট-১১-৬৬৮৯) পিছনের দুই চাকা খুলে গেলে ঢাকা চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় গত বুধবার রাতে।

জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ট্রাকটি রেললাইনের ওপর চাকা খুলে বিকল হলে কিশোরগঞ্জগামী এগারো সিন্ধু নামে একটি যাত্রীবাহী আন্তঃনগর ট্রেনকে জরুরিভাবে থামানো হয় সেখানে। ফলে এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে ট্রেন চলাচল। পরে দুই চাকাসহ ট্রাকটি জব্দ করেন রেলওয়ে বিভাগের টঙ্গীতে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম ও রেলওয়ের পুলিশ ফাঁড়ির প্রধান এসআই নুর মোহাম্মদ।

এ ঘটনার দুদিন পর গত শুক্রবার বিকালে অনেক নাটকীয়তার পর ১২ হাজার টাকায় দুই চাকাসহ জব্দকৃত ট্রাকটি ফেরত দেয় রেলওয়ের পুলিশ।

গত বুধবার রাতে দুর্ঘটনার পর মিরেরবাজার ট্রাফিক পুলিশে কর্মরত টিআই চন্দন ও সার্জেন্ট তাইফুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে সরকারি ক্রেনের সাহায্যে রেলের ওপর থেকে ট্রাকটি সরান।

এরপর তারা খুলে যাওয়া দুটি চাকাসহ ট্রাকটি ট্রাফিক কন্ট্রোলের নির্দেশে বুঝিয়ে দেন পূবাইল থানার এসআই নুরজ্জামানকে।

পরে নুরুজ্জামান বুঝিয়ে দেন রেলওয়ে পুলিশকে। সড়কের ওপর ট্রাক পড়ে থাকায় রেল যোগাযোগ এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে। পরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলেও মিরেরবাজার চৌরাস্তার ঢাকা বাইপাস ও টঙ্গী ঘোড়াশাল মহাসড়কের যানজট চরম আকার ধারণ করে।

ট্রাফিক পুলিশ বলছে, মহাসড়কে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রথমে সড়ককে যান চলাচলের উপযোগী করতে হবে, সেটাই আমরা করেছি।

অভিযোগ উঠেছে, সড়কের যানজট আমলে না নিয়ে রাস্তার ওপর থেকে ট্রাকটি সরাতে দিচ্ছিল না রেলপুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দেয়া ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম। রাত ১টায় ডেকে আনেন টঙ্গী রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুর মোহাম্মদকে।

অবশেষ দুদিন পর শুক্রবার ট্রাকের মালিক পক্ষের মেকানিক আরজুর কাছে জব্দের ছাড়পত্র দেয়ার কথা বলে আদায় করেন ১২ হাজার টাকা। দেননি কোনো লিখিত ছাড়পত্র।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ট্রাকটি মিরেরবাজার রেলগেটে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

ট্রাক মেকানিক আরজু জানান, আমার থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়ে জব্দের ছাড়পত্র দেবে বলে দেয়নি এসআই নুর মোহাম্মদ। অনেক অনুরোধ করে চাকা দুটি ফেরত আনতে পেরেছি।

তবে টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুর মোহাম্মদ ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে জব্দকৃত ট্রাক বিনা ছাড়পত্রে ছেড়ে দেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।

তিনি যুগান্তরকে জানান, ট্রাকের বিরুদ্ধে মামলা করিনি; তাই বিনা টাকায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম বলেন, আমি ট্রাকের চাকাসহ জব্দ করে ওই রেলওয়ের পুলিশের এসআই নুর মোহাম্মদকে বুঝিয়ে দিয়েছিলাম। পরে কী হয়েছে জানি না।

রেললাইনে বিকল ট্রাক, ১২ হাজার টাকায় ছাড়পত্র ছাড়াই দফারফা

 পূবাইল (গাজীপুর) প্রতিনিধি 
৩১ অক্টোবর ২০২০, ০১:৩৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
রেললাইনে বিকল ট্রাক, ১২ হাজার টাকায় ছাড়পত্র ছাড়াই দফারফা
ছবি: যুগান্তর

রেললাইনের ওপর মালবাহী ট্রাক বিকল হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে এক ঘণ্টা ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ থাকে।  এ ঘটনায় ট্রাকটিকে জব্দ করে রেলওয়ে পুলিশ।

তবে পরে ১২ হাজার টাকায় দফারফা করে ট্রাকটিকে ছাড়পত্র ছাড়া ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে টঙ্গী রেলওয়ের ফাঁড়ির ইনচার্জ নুর মোহাম্মদ ও কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল মিরেরবাজার ঢাকা বাইপাস মহাসড়কে রেলগেটের ভিতর লাইনের ওপর মালবাহী ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো ট-১১-৬৬৮৯) পিছনের দুই চাকা খুলে গেলে ঢাকা চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় গত বুধবার রাতে।

জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ট্রাকটি রেললাইনের ওপর চাকা খুলে বিকল হলে কিশোরগঞ্জগামী এগারো সিন্ধু নামে একটি যাত্রীবাহী আন্তঃনগর ট্রেনকে জরুরিভাবে থামানো হয় সেখানে। ফলে এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে ট্রেন চলাচল। পরে দুই চাকাসহ ট্রাকটি জব্দ করেন রেলওয়ে বিভাগের টঙ্গীতে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম ও রেলওয়ের পুলিশ ফাঁড়ির প্রধান এসআই নুর মোহাম্মদ।

এ ঘটনার দুদিন পর গত শুক্রবার বিকালে অনেক নাটকীয়তার পর ১২ হাজার টাকায় দুই চাকাসহ জব্দকৃত ট্রাকটি ফেরত দেয় রেলওয়ের পুলিশ।
 
গত বুধবার রাতে দুর্ঘটনার পর মিরেরবাজার ট্রাফিক পুলিশে কর্মরত টিআই চন্দন ও সার্জেন্ট তাইফুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে সরকারি ক্রেনের সাহায্যে রেলের ওপর থেকে ট্রাকটি সরান।

এরপর তারা খুলে যাওয়া দুটি চাকাসহ ট্রাকটি ট্রাফিক কন্ট্রোলের নির্দেশে বুঝিয়ে দেন পূবাইল থানার এসআই নুরজ্জামানকে।

পরে নুরুজ্জামান বুঝিয়ে দেন রেলওয়ে পুলিশকে। সড়কের ওপর ট্রাক পড়ে থাকায় রেল যোগাযোগ এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে। পরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলেও মিরেরবাজার চৌরাস্তার ঢাকা বাইপাস ও টঙ্গী ঘোড়াশাল মহাসড়কের যানজট চরম আকার ধারণ করে।

ট্রাফিক পুলিশ বলছে, মহাসড়কে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রথমে সড়ককে যান চলাচলের উপযোগী করতে হবে, সেটাই আমরা করেছি।

অভিযোগ উঠেছে, সড়কের যানজট আমলে না নিয়ে রাস্তার ওপর থেকে ট্রাকটি সরাতে দিচ্ছিল না রেলপুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দেয়া ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম।  রাত ১টায় ডেকে আনেন টঙ্গী রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুর মোহাম্মদকে।

অবশেষ দুদিন পর শুক্রবার ট্রাকের মালিক পক্ষের মেকানিক আরজুর কাছে জব্দের ছাড়পত্র দেয়ার কথা বলে আদায় করেন ১২ হাজার টাকা। দেননি কোনো লিখিত ছাড়পত্র।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ট্রাকটি মিরেরবাজার রেলগেটে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

ট্রাক মেকানিক আরজু জানান, আমার থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়ে জব্দের ছাড়পত্র দেবে বলে দেয়নি এসআই নুর মোহাম্মদ। অনেক অনুরোধ করে চাকা দুটি ফেরত আনতে পেরেছি।

তবে টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুর মোহাম্মদ ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে জব্দকৃত ট্রাক বিনা ছাড়পত্রে ছেড়ে দেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।

তিনি যুগান্তরকে জানান, ট্রাকের বিরুদ্ধে মামলা করিনি; তাই বিনা টাকায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম বলেন, আমি ট্রাকের চাকাসহ জব্দ করে ওই রেলওয়ের পুলিশের এসআই নুর মোহাম্মদকে বুঝিয়ে দিয়েছিলাম। পরে কী হয়েছে জানি না।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন