দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে কনস্টেবল হারুন
jugantor
পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যু
দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে কনস্টেবল হারুন

  সিলেট ব্যুরো  

০১ নভেম্বর ২০২০, ২২:৩৮:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

আদালত থেকে কারাগারে নেয়া হচ্ছে কনস্টেবল হারুনুর রশিদকে

সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে নিহত রায়হান হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া বরখাস্ত কনস্টেবল হারুনুর রশিদকে রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত।

রোববার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডসহ মোট ৮ দিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাকে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করে।

এ সময় হারুন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি না হলে বিচারক মো. জিয়াদুর রহমান তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এর আগে আরেক পুলিশ কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকেও দুই দফায় আট দিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই। তবে তিনি এ ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেননি। তাকেও কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আর গত বৃহস্পতিবার থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন এএসআই আশেক এলাহী।

জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর রাতে বরখাস্ত কনস্টেবল হারুনুর রশিদকে এসএমপির পুলিশ লাইনস থেকে গ্রেফতার করে পিবিআই। পরদিন সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নীলা প্রথম দফায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর ২৯ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিলেটে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক মো. জিয়াদুর রহমান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক মুহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে কনস্টেবল হারুনকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

রায়হান নিহতের ঘটনায় এ পর্যন্ত তিন পুলিশসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন- এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, টিটু চন্দ্র দাস ও ছিনতাইয়ের অভিযোগকারী সাইদুর শেখ।

এদিকে রায়হান হত্যার ২০ দিন অতিবাহিত হলেও ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত তৎকালীন বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই (বরখাস্ত) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পবিত্র মিলাদুন্নবী (সা.) ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার কারণে কয়েক দিন আন্দোলন কর্মসূচি থেকে সরে থাকলেও এবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে যাচ্ছেন রায়হান আহমদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। রায়হান হত্যার ঘটনায় জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে সিলেটের ‘বৃহত্তর আখালিয়া (বার হামছায়া) সংগ্রাম পরিষদ’।

এ নিয়ে রোববার রাতে করণীয় নির্ধারণে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

বৃহত্তর আখালিয়া (বার হামছায়া) সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ও স্থানীয় কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান যুগান্তরকে বলেন, বৈঠকে সবার পরামর্শক্রমে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজনে সর্বসম্মতিক্রমে কঠোর কর্মসূচিও আসতে পাবে। তবে এটা নির্ভর করে স্থানীয় মুরব্বিদের সিদ্ধান্তের ওপর।

প্রসঙ্গত, গত ১১ অক্টোবর ভোরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন রায়হান আহমদ (৩৪)। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। রায়হান সিলেট নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরীর রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে কাজ করতেন।

এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হেফাজতে মৃত্যু আইনে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী। স্ত্রীর দায়ের করা মামলাটির তদন্ত করছে পিবিআই। মামলার প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর পলাতক রয়েছেন। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে রায়হানকে ফাঁড়িতে এনে নির্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ পায় কমিটি।

তদন্ত কমিটির সুপারিশে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়।

পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যু

দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে কনস্টেবল হারুন

 সিলেট ব্যুরো 
০১ নভেম্বর ২০২০, ১০:৩৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আদালত থেকে কারাগারে নেয়া হচ্ছে কনস্টেবল হারুনুর রশিদকে
আদালত থেকে কারাগারে নেয়া হচ্ছে কনস্টেবল হারুনুর রশিদকে

সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে নিহত রায়হান হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া বরখাস্ত কনস্টেবল হারুনুর রশিদকে রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত।

রোববার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডসহ মোট ৮ দিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাকে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করে।

এ সময় হারুন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি না হলে বিচারক মো. জিয়াদুর রহমান তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এর আগে আরেক পুলিশ কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকেও দুই দফায় আট দিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই। তবে তিনি এ ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেননি। তাকেও কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আর গত বৃহস্পতিবার থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন এএসআই  আশেক এলাহী।

জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর রাতে বরখাস্ত কনস্টেবল হারুনুর রশিদকে এসএমপির পুলিশ লাইনস থেকে গ্রেফতার করে পিবিআই। পরদিন সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নীলা প্রথম দফায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর ২৯ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিলেটে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক মো. জিয়াদুর রহমান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক মুহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে কনস্টেবল হারুনকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

রায়হান নিহতের ঘটনায় এ পর্যন্ত তিন পুলিশসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন- এএসআই  আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, টিটু চন্দ্র দাস ও ছিনতাইয়ের অভিযোগকারী সাইদুর শেখ।

এদিকে রায়হান হত্যার ২০ দিন অতিবাহিত হলেও ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত তৎকালীন বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই (বরখাস্ত) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পবিত্র মিলাদুন্নবী (সা.) ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার কারণে কয়েক দিন আন্দোলন কর্মসূচি থেকে সরে থাকলেও এবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে যাচ্ছেন রায়হান আহমদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। রায়হান হত্যার ঘটনায় জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে সিলেটের ‘বৃহত্তর আখালিয়া (বার হামছায়া) সংগ্রাম পরিষদ’।

এ নিয়ে রোববার রাতে করণীয় নির্ধারণে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

বৃহত্তর আখালিয়া (বার হামছায়া) সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ও স্থানীয় কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান যুগান্তরকে বলেন, বৈঠকে সবার পরামর্শক্রমে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজনে সর্বসম্মতিক্রমে কঠোর কর্মসূচিও আসতে পাবে। তবে এটা নির্ভর করে স্থানীয় মুরব্বিদের সিদ্ধান্তের ওপর।

প্রসঙ্গত, গত ১১ অক্টোবর ভোরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন রায়হান আহমদ (৩৪)। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। রায়হান সিলেট নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরীর রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে কাজ করতেন।

এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হেফাজতে মৃত্যু আইনে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী। স্ত্রীর দায়ের করা মামলাটির তদন্ত করছে পিবিআই। মামলার প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর পলাতক রয়েছেন। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে রায়হানকে ফাঁড়িতে এনে নির্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ পায় কমিটি।

তদন্ত কমিটির সুপারিশে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এএসআই  আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যু

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন