প্রধানমন্ত্রীকে নিজের আঁকা ছবি দেখাতে চান বাকপ্রতিবন্ধী মিতু
jugantor
প্রধানমন্ত্রীকে নিজের আঁকা ছবি দেখাতে চান বাকপ্রতিবন্ধী মিতু

  পবিত্র তালুকদার, চাটমোহর (পাবনা)  

০২ নভেম্বর ২০২০, ০০:৪৫:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রীকে নিজের আঁকা ছবি দেখাতে চান বাকপ্রতিবন্ধী মিতু

আর দশটা মেয়ের মতোই চলাফেরা নয় বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর। কথা বলতে না পারার কষ্ট তাড়িয়ে বেড়ায় তাকে। এইচএসসি প্রথম বর্ষের এই ছাত্রী পড়াশোনা ও সংসারের কাজে বেশ মনোযোগী। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে গেছে তার চারুকারু’র কাজ।

কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই পেন্সিল ও রঙ-তুলির ছোঁয়ায় আর্ট পেপারে একে একে এঁকে চলেছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রাসেল, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ নানা গুণী জনের ছবি।

শুধুমাত্র চোখের দেখায় হুবহু ছবি এঁকে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ধূলাউড়ি গ্রামের কুটিশ্বর-সুমিত্রা দাস দম্পতির ছোট মেয়ে মিতু হরিপুর দুর্গাদাস স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী।

ভালো শিক্ষার্থী হিসেবে কলেজে রয়েছে বেশ সুনাম। শত বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে চলেছে মিতু। তবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অনেকদূর যাবে মিতু। কিন্তু দরিদ্র বাবার সংসারে বাধা উপেক্ষা করেই এগিয়ে চলেছে প্রতিভাবান এই তরুণী।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উঠানে দাঁড়িয়ে আর্ট পেপারে ছবি আঁকছে মিতু। কথা বলার প্রবল আকুতি থাকলেও ইশারার মাধ্যমে অপরিচিত লোকজন দেখে কুশল বিনিময় করে সে। চোখের পলকে পেন্সিল ও রঙ-তুলির ছোঁয়ায় এঁকে চলেছে নানা গুণীজনদের ছবি। শুধু কী তাই, মিতুর বাড়ির সব ঘরেই দেব-দেবীর ছবিতে পরিপূর্ণ। ছবিগুলো দেখে মনে হবে দোকান থেকে কেনা। অথচ সব ছবিই মিতু নিজ হাতে এঁকেছে।

জানা গেল, তৃতীয় শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বিভিন্ন ছবি দেখে নিজে নিজেই আঁকা শেখে মিতু। এরপর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিণত হতে থাকে। সামনে কাউকে বসিয়ে দিলে হুবহু এঁকে দেয়া তার পক্ষে কোনো বিষয়ই নয়।

মিতুর বাবা কুটিশ্বর দাস বলেন, বড় মেয়ের পর ছোট মেয়েও (মিতু) বাকপ্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেয়ায় খুব ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু বড় হওয়ার পর মিতুকে স্কুলে ভর্তি করে দিই। ভেবেছিলাম প্রাইমারি পাস করলে আর পড়াব না। কিন্তু মেয়ের প্রবল আগ্রহ দেখে বাধা দেইনি। আর্ট-পেপার ও রঙ পেন্সিলসহ নানা সরঞ্জাম কিনতে অনেক টাকা লাগে। তবে শত কষ্ট হলেও মিতুকে অনেকদূর নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে।

মা সুমিত্রা রানী দাস বলেন, মিতু ইশারা করে ওর মনের কথা বোঝানোর চেষ্টা করে। তখন খুব খারাপ লাগে! ছবি আঁকার প্রতিও প্রবল আগ্রহ। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট ভাই শেখ রাসেলের ছবি আঁকতে খুব পছন্দ করে মিতু।

তিনি বলেন, মিতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি আঁকে আর ইশারা করে উনাকে দেখানোর কথা বলে। কিন্তু আমরা গ্রামের মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর নাগাল পাবো কীভাবে? জানি আমার মেয়ের স্বপ্ন বাস্তবে পূরণ হওয়ার নয়। তবে চাই মেয়ে পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাবলম্বী হোক।

অংকন শিক্ষক মানিক কুমার দাস যুগান্তরকে বলেন, মিতুর প্রতিভা ঈশ্বর প্রদত্ত। সে কথা বলতে না পারলেও তার আঁকানো ছবি কথা বলে। একটা বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে শত প্রতিকূলতাকে জয় করে যেভাবে ছবি আঁকে তাতে আশ্চর্য হওয়া ছাড়া উপায় নাই। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মিতু অনেকদূর যাবে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীকে নিজের আঁকা ছবি দেখাতে চান বাকপ্রতিবন্ধী মিতু

 পবিত্র তালুকদার, চাটমোহর (পাবনা) 
০২ নভেম্বর ২০২০, ১২:৪৫ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
প্রধানমন্ত্রীকে নিজের আঁকা ছবি দেখাতে চান বাকপ্রতিবন্ধী মিতু
বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর হাতে আঁকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রাসেল ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি। ছবি: যুগান্তর

আর দশটা মেয়ের মতোই চলাফেরা নয় বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর। কথা বলতে না পারার কষ্ট তাড়িয়ে বেড়ায় তাকে। এইচএসসি প্রথম বর্ষের এই ছাত্রী পড়াশোনা ও সংসারের কাজে বেশ মনোযোগী। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে গেছে তার চারুকারু’র কাজ।

কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই পেন্সিল ও রঙ-তুলির ছোঁয়ায় আর্ট পেপারে একে একে এঁকে চলেছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রাসেল, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ নানা গুণী জনের ছবি।

শুধুমাত্র চোখের দেখায় হুবহু ছবি এঁকে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ধূলাউড়ি গ্রামের কুটিশ্বর-সুমিত্রা দাস দম্পতির ছোট মেয়ে মিতু হরিপুর দুর্গাদাস স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী। 

ভালো শিক্ষার্থী হিসেবে কলেজে রয়েছে বেশ সুনাম। শত বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে চলেছে মিতু। তবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অনেকদূর যাবে মিতু। কিন্তু দরিদ্র বাবার সংসারে বাধা উপেক্ষা করেই এগিয়ে চলেছে প্রতিভাবান এই তরুণী।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উঠানে দাঁড়িয়ে আর্ট পেপারে ছবি আঁকছে মিতু। কথা বলার প্রবল আকুতি থাকলেও ইশারার মাধ্যমে অপরিচিত লোকজন দেখে কুশল বিনিময় করে সে। চোখের পলকে পেন্সিল ও রঙ-তুলির ছোঁয়ায় এঁকে চলেছে নানা গুণীজনদের ছবি। শুধু কী তাই, মিতুর বাড়ির সব ঘরেই দেব-দেবীর ছবিতে পরিপূর্ণ। ছবিগুলো দেখে মনে হবে দোকান থেকে কেনা। অথচ সব ছবিই মিতু নিজ হাতে এঁকেছে। 

জানা গেল, তৃতীয় শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বিভিন্ন ছবি দেখে নিজে নিজেই আঁকা শেখে মিতু। এরপর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিণত হতে থাকে। সামনে কাউকে বসিয়ে দিলে হুবহু এঁকে দেয়া তার পক্ষে কোনো বিষয়ই নয়। 

মিতুর বাবা কুটিশ্বর দাস বলেন, বড় মেয়ের পর ছোট মেয়েও (মিতু) বাকপ্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেয়ায় খুব ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু বড় হওয়ার পর মিতুকে স্কুলে ভর্তি করে দিই। ভেবেছিলাম প্রাইমারি পাস করলে আর পড়াব না। কিন্তু মেয়ের প্রবল আগ্রহ দেখে বাধা দেইনি। আর্ট-পেপার ও রঙ পেন্সিলসহ নানা সরঞ্জাম কিনতে অনেক টাকা লাগে। তবে শত কষ্ট হলেও মিতুকে অনেকদূর নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে।

মা সুমিত্রা রানী দাস বলেন, মিতু ইশারা করে ওর মনের কথা বোঝানোর চেষ্টা করে। তখন খুব খারাপ লাগে! ছবি আঁকার প্রতিও প্রবল আগ্রহ। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট ভাই শেখ রাসেলের ছবি আঁকতে খুব পছন্দ করে মিতু। 

তিনি বলেন, মিতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি আঁকে আর ইশারা করে উনাকে দেখানোর কথা বলে। কিন্তু আমরা গ্রামের মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর নাগাল পাবো কীভাবে? জানি আমার মেয়ের স্বপ্ন বাস্তবে পূরণ হওয়ার নয়। তবে চাই মেয়ে পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাবলম্বী হোক। 

অংকন শিক্ষক মানিক কুমার দাস যুগান্তরকে বলেন, মিতুর প্রতিভা ঈশ্বর প্রদত্ত। সে কথা বলতে না পারলেও তার আঁকানো ছবি কথা বলে। একটা বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে শত প্রতিকূলতাকে জয় করে যেভাবে ছবি আঁকে তাতে আশ্চর্য হওয়া ছাড়া উপায় নাই। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মিতু অনেকদূর যাবে বলে জানান তিনি।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন