স্কুল গেটের সামনে খাস জায়গা দখল করে চেয়ারম্যানের কার্যালয়
jugantor
স্কুল গেটের সামনে খাস জায়গা দখল করে চেয়ারম্যানের কার্যালয়

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো  

০৪ নভেম্বর ২০২০, ২০:৪৪:১৫  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজনৈতিক কার্যালয়ের নামে স্কুলের গেটের সামনে খাস জায়গা দখল করার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৭নং এলাহাবাদ ইউপির চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে। তিনি ওই ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর বাজারের খাসজমি দখলের পর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কার্যালয় স্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এআর উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটক দখল করে কার্যালয় নির্মাণ করায় শিক্ষার্থী অভিভাবকসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সরকারি দলের এই চেয়ারম্যানের এমন কর্মকাণ্ডে শুধু এলাকায় নয়, খোদ দলীয় ফোরামেও নেতিবাচক সমালোচনা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭নং এলাহাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সরকার মোহাম্মদপুর এআর উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকে ১২৭৮ দাগে ১নং খাস খতিয়ানের জায়গা দখলে নিয়ে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কার্যালয় স্থাপন করেন। এলাকার স্বনামধন্য একটি বিদ্যালয়ের ফটক দখল করে কার্যালয় নির্মাণে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

বিতর্কিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে সরকারি এ জায়গা দখল না করতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ওই চেয়ারম্যানকে মৌখিক পরামর্শ দিলেও তিনি তা আমলে নেননি। তবে সরকারি এ জায়গা দখলে স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অপরদিকে চেয়ারম্যানের এ কার্যালয়ে নিয়মিত সালিশ দরবারের ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ এবং পাঠদান ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে শুধু এলাকায় নয় খোদ চেয়ারম্যান দলীয় ফোরামেও নেতিবাচক সমালোচনা চলছে। দলের ছত্রছায়ায় থেকে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে জনসাধারণের কাছে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অনেক নেতাকর্মী।

অবিলম্বে সরকারি এ ভূমি পুনরুদ্ধার করে চেয়ারম্যানের অবৈধ এ কার্যালয় অপসারণের দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

তবে স্কুলের ফটকে খাস জায়গা দখলের বিষয়টি স্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সরকার বলেন, ব্যক্তিগত কার্যালয় নয়, সেখানে আমি দলীয় কার্যালয় স্থাপন করেছি, বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি লাগিয়েছি, আপনারা আসলেই দেখতে পারবেন এটা স্থানীয় আওয়ামী লীগের কার্যালয়।
এলাহাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল হাশেম বলেন, সিরাজুল ইসলাম সরকার দলের মার্কা নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি অবৈধভাবে স্কুলের ফটকে সরকারি জায়গা দখল করে দলীয় কার্যালয় নয় ব্যক্তিগত কার্যালয় নির্মাণ করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন। বিষয়টি নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।

উপজেলা কৃষক লীগের সদস্য সচিব মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ওই চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যান না। আগে বাজারে বিভিন্ন দোকানপাটে বসে সালিশ-দরবার করতেন। এখন স্কুলের ফটকের জায়গা দখল করে কার্যালয় বানিয়ে সেখানে সালিশ-দরবার করছেন। ওই চেয়ারম্যানের ভয়ে এলাকায় কেউ উচিত কথা বলার সাহস পায় না। তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

এলাহাবাদ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. ইউনুছ বলেন, চেয়ারম্যান খাস জায়গা দখল করে একটি ঘর নির্মাণ করেছেন বলে আমি শুনেছি। কিন্তু কেউ লিখিত অভিযোগ না করলে, আমি কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করব?

তিনি আরও বলেন, ওই বাজারে অনেকেই এমনভাবে সরকারি জায়গা দখল করে রেখেছে। আমি তো ইচ্ছা করলেই এককভাবে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি না। আমি ব্যবস্থা নিলে সবার বিরুদ্ধেই নিতে হয়।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাহিদা আক্তার বলেন, সরকারি জায়গা দখলকারী যেই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না। আমি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

স্কুল গেটের সামনে খাস জায়গা দখল করে চেয়ারম্যানের কার্যালয়

 আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো 
০৪ নভেম্বর ২০২০, ০৮:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজনৈতিক কার্যালয়ের নামে স্কুলের গেটের সামনে খাস জায়গা দখল করার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৭নং এলাহাবাদ ইউপির চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে। তিনি ওই ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর বাজারের খাসজমি দখলের পর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কার্যালয় স্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এআর উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটক দখল করে কার্যালয় নির্মাণ করায় শিক্ষার্থী অভিভাবকসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সরকারি দলের এই চেয়ারম্যানের এমন কর্মকাণ্ডে শুধু এলাকায় নয়, খোদ দলীয় ফোরামেও নেতিবাচক সমালোচনা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭নং এলাহাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সরকার মোহাম্মদপুর এআর  উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকে ১২৭৮ দাগে ১নং খাস খতিয়ানের জায়গা দখলে নিয়ে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কার্যালয় স্থাপন করেন। এলাকার স্বনামধন্য একটি বিদ্যালয়ের ফটক দখল করে কার্যালয় নির্মাণে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

বিতর্কিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে সরকারি এ জায়গা দখল না করতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ওই চেয়ারম্যানকে মৌখিক পরামর্শ দিলেও তিনি তা আমলে নেননি। তবে সরকারি এ জায়গা দখলে স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অপরদিকে চেয়ারম্যানের এ কার্যালয়ে নিয়মিত সালিশ দরবারের ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ এবং পাঠদান ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে শুধু এলাকায় নয় খোদ চেয়ারম্যান দলীয় ফোরামেও নেতিবাচক সমালোচনা চলছে। দলের ছত্রছায়ায় থেকে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে জনসাধারণের কাছে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অনেক নেতাকর্মী।

অবিলম্বে সরকারি এ ভূমি পুনরুদ্ধার করে চেয়ারম্যানের অবৈধ এ কার্যালয় অপসারণের দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

তবে স্কুলের ফটকে খাস জায়গা দখলের বিষয়টি স্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সরকার বলেন, ব্যক্তিগত কার্যালয় নয়, সেখানে আমি দলীয় কার্যালয় স্থাপন করেছি, বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি লাগিয়েছি, আপনারা আসলেই দেখতে পারবেন এটা স্থানীয় আওয়ামী লীগের কার্যালয়।
এলাহাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল হাশেম বলেন, সিরাজুল ইসলাম সরকার দলের মার্কা নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি অবৈধভাবে স্কুলের ফটকে সরকারি জায়গা দখল করে দলীয় কার্যালয় নয় ব্যক্তিগত কার্যালয় নির্মাণ করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন। বিষয়টি নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।

উপজেলা কৃষক লীগের সদস্য সচিব মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ওই চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যান না। আগে বাজারে বিভিন্ন দোকানপাটে বসে সালিশ-দরবার করতেন। এখন স্কুলের ফটকের জায়গা দখল করে কার্যালয় বানিয়ে সেখানে সালিশ-দরবার করছেন। ওই চেয়ারম্যানের ভয়ে এলাকায় কেউ উচিত কথা বলার সাহস পায় না। তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।  

এলাহাবাদ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. ইউনুছ বলেন, চেয়ারম্যান খাস জায়গা দখল করে একটি ঘর নির্মাণ করেছেন বলে আমি শুনেছি। কিন্তু কেউ লিখিত অভিযোগ না করলে, আমি কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করব?

তিনি আরও বলেন, ওই বাজারে অনেকেই এমনভাবে সরকারি জায়গা দখল করে রেখেছে। আমি তো ইচ্ছা করলেই এককভাবে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি না। আমি ব্যবস্থা নিলে সবার বিরুদ্ধেই নিতে হয়।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাহিদা আক্তার বলেন, সরকারি জায়গা দখলকারী যেই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না। আমি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন