প্রেমের ফাঁদে ফেলে শিশুছাত্রীকে গণধর্ষণের পর ২ বন্ধুর ব্লাকমেইল
jugantor
প্রেমের ফাঁদে ফেলে শিশুছাত্রীকে গণধর্ষণের পর ২ বন্ধুর ব্লাকমেইল

  আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি  

১০ নভেম্বর ২০২০, ১৮:৩৫:৪৬  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রেমের ফাঁদে ফেলে দুই বন্ধু মেহেদী (২০), ও রাসেল (২২) আমতলীর পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১২) ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুই বখাটে ধর্ষণ শেষে স্কুলছাত্রীর নগ্ন ছবি মোবাইলে ধারণ করে। পুনরায় তাদের ডাকে সাড়া না দিলে ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী।

ঘটনা ঘটেছে শনিবার সন্ধ্যায় পৌর শহরের বাঁধধাট চৌরাস্তায় সকাল সন্ধ্যা হোটেলের সামনে সোলায়মানের ঘরে। ভয়ে ছাত্রীর অভিভাবকরা আইনি পদক্ষেপ নিয়ে সাহস পাচ্ছেন না।

মঙ্গলবার স্বজনরা ওই স্কুলছাত্রীকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।

জানা গেছে, উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামের বারেক মৃধার ছেলে ট্রাক হেলপার বখাটে মেহেদী আমতলী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে গত ছয় মাস ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। কিন্তু বখাটের প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হয়নি স্কুলছাত্রী।

কিন্তু তিন মাস পূর্বে বখাটে মেহেদী ওই ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সমর্থ হয়। গত শনিবার বিকালে ওই ছাত্রীর সঙ্গে দেখা করতে মেহেদী তার বন্ধু রাসেলকে নিয়ে আমতলী পৌর শহরের বাঁধঘাট চৌরাস্তায় সকাল সন্ধ্যা হোটেলে আসে। ওই হোটেল থেকে মেহেদী তার ভাবিকে দেখানোর কথা বলে ওই ছাত্রীকে হোটেলের সামনে সোলায়মানের বাসায় নিয়ে যায়।

ওই সময় সোলায়মান বাসায় ছিল। কিন্তু দুই বখাটে ও স্কুল ছাত্রীকে ঘরে তুলে দিয়ে সোলায়মান তালা দিয়ে চলে যায়। ওই বাসায় দুই বন্ধু মিলে ওই ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। অনেক কান্নাকাটি করেও দুই বখাটের হাত থেকে রক্ষা পায়নি স্কুলছাত্রী।

পরে দুই বখাটে ওই ছাত্রীর নগ্ন ছবি মোবাইলে ধারণ করে। এই ঘটনা কাউকে জানালে এবং পুনরায় তাদের ডাকে সারা না দিলে ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ায় ভয় দেখায় তারা এমন অভিযোগ ধর্ষণের শিকার স্কুল ছাত্রীর।

ওইদিন রাতেই বাসায় গিয়ে এ ঘটনা ওই ছাত্রী তার মাকে জানায়। নগ্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার ভয়ে ওই ছাত্রীর অভিভাবকরা এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহস পায়নি। সোমবার রাতে ওই দুই বখাটে মোবাইল ফোনে আবার স্কুলছাত্রীকে তাদের সঙ্গে একটি নির্জন স্থানে দেখা করার প্রস্তাব দেয়।

নিরুপায় হয়ে স্বজনরা মঙ্গলবার সকালে ওই ছাত্রীকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ওই ছাত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, মেহেদী ও তার বন্ধু রাসেল তার ভাবিকে দেখানোর কথা বলে আমাকে একটি ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। আমি অনেক কান্নাকাটি করেও রক্ষা পায়নি।

সে আরও বলেন, মোবাইলে আমার নগ্ন ছবি ধারণ করেছে ওরা। আমি যদি এ কথা কাউকে বলে দেই এবং তাদের ডাকে আবার না আসি তাহলে ওরা এই ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দিবে বলে আমাকে হুমকি দিয়েছে। গতকাল ছবির ভয় দেখিয়ে আবার আমাকে তাদের সঙ্গে নির্জন স্থানে দেখা করতে বলে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বলেন, ফেসবুকে ছবি ছেড়ে দেয়ার ভয়ে আমি আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহস পায়নি। এ ঘটনায় আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. তারান্নুম মাহযাবিন বলেন, ওই ছাত্রীর নমুনা সংগ্রহ করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুইদিন পরে নমুনার প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।

আমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রেমের ফাঁদে ফেলে শিশুছাত্রীকে গণধর্ষণের পর ২ বন্ধুর ব্লাকমেইল

 আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি 
১০ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৩৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রেমের ফাঁদে ফেলে দুই বন্ধু মেহেদী (২০), ও রাসেল (২২) আমতলীর পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১২) ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুই বখাটে ধর্ষণ শেষে স্কুলছাত্রীর নগ্ন ছবি মোবাইলে ধারণ করে। পুনরায় তাদের ডাকে সাড়া না দিলে ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী।

ঘটনা ঘটেছে শনিবার সন্ধ্যায় পৌর শহরের বাঁধধাট চৌরাস্তায় সকাল সন্ধ্যা হোটেলের সামনে সোলায়মানের ঘরে। ভয়ে ছাত্রীর অভিভাবকরা আইনি পদক্ষেপ নিয়ে সাহস পাচ্ছেন না।

মঙ্গলবার স্বজনরা ওই স্কুলছাত্রীকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।

জানা গেছে, উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামের বারেক মৃধার ছেলে ট্রাক হেলপার বখাটে মেহেদী আমতলী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে গত ছয় মাস ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। কিন্তু বখাটের প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হয়নি স্কুলছাত্রী।

কিন্তু তিন মাস পূর্বে বখাটে মেহেদী ওই ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সমর্থ হয়। গত শনিবার বিকালে ওই ছাত্রীর সঙ্গে দেখা করতে মেহেদী তার বন্ধু রাসেলকে নিয়ে আমতলী পৌর শহরের বাঁধঘাট চৌরাস্তায় সকাল সন্ধ্যা হোটেলে আসে। ওই হোটেল থেকে মেহেদী তার ভাবিকে দেখানোর কথা বলে ওই ছাত্রীকে হোটেলের সামনে সোলায়মানের বাসায় নিয়ে যায়।

ওই সময় সোলায়মান বাসায় ছিল। কিন্তু দুই বখাটে ও স্কুল ছাত্রীকে ঘরে তুলে দিয়ে সোলায়মান তালা দিয়ে চলে যায়। ওই বাসায় দুই বন্ধু মিলে ওই ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। অনেক কান্নাকাটি করেও দুই বখাটের হাত থেকে রক্ষা পায়নি স্কুলছাত্রী।

পরে দুই বখাটে ওই ছাত্রীর নগ্ন ছবি মোবাইলে ধারণ করে। এই ঘটনা কাউকে জানালে এবং পুনরায় তাদের ডাকে সারা না দিলে ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ায় ভয় দেখায় তারা এমন অভিযোগ ধর্ষণের শিকার স্কুল ছাত্রীর।

ওইদিন রাতেই বাসায় গিয়ে এ ঘটনা ওই ছাত্রী তার মাকে জানায়। নগ্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার ভয়ে ওই ছাত্রীর অভিভাবকরা এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহস পায়নি। সোমবার রাতে ওই দুই বখাটে মোবাইল ফোনে আবার স্কুলছাত্রীকে তাদের সঙ্গে একটি নির্জন স্থানে দেখা করার প্রস্তাব দেয়।

নিরুপায় হয়ে স্বজনরা মঙ্গলবার সকালে ওই ছাত্রীকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ওই ছাত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, মেহেদী ও তার বন্ধু রাসেল তার ভাবিকে দেখানোর কথা বলে আমাকে একটি ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। আমি অনেক কান্নাকাটি করেও রক্ষা পায়নি।

সে আরও বলেন, মোবাইলে আমার নগ্ন ছবি ধারণ করেছে ওরা। আমি যদি এ কথা কাউকে বলে দেই এবং তাদের ডাকে আবার না আসি তাহলে ওরা এই ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দিবে বলে আমাকে হুমকি দিয়েছে। গতকাল ছবির ভয় দেখিয়ে আবার আমাকে তাদের সঙ্গে নির্জন স্থানে দেখা করতে বলে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বলেন, ফেসবুকে ছবি ছেড়ে দেয়ার ভয়ে আমি আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহস পায়নি। এ ঘটনায় আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. তারান্নুম মাহযাবিন বলেন, ওই ছাত্রীর নমুনা সংগ্রহ করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুইদিন পরে নমুনার প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।

আমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন