পৌর নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে লাঞ্ছনা, আ’লীগ নেতার আত্মহত্যা
jugantor
পৌর নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে লাঞ্ছনা, আ’লীগ নেতার আত্মহত্যা

  বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি  

১০ নভেম্বর ২০২০, ২০:১৭:৫৩  |  অনলাইন সংস্করণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী বাছাই নিয়ে মারধর ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন কয়েক নেতা। এ ঘটনার পর আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দিন (৬০) নিজ বাড়িতে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা সদরের দুর্গারামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বোরহান ওই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।

জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ১০ডিসেম্বর বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে এবার একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে ছিলেন। মেয়র পদে দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, প্রচার সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সহ-সভাপতি আমির হোসেন আনোয়ার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান ভূঁইয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল আহমেদ।

উপজেলা আওয়ামী লীগ, স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার উপজেলা সদরের মাওলাগঞ্জ বাজারের এবি তাজুল ইসলাম মিলনায়তনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভোটের মাধ্যমে দলীয় প্রার্থী বাছাই করেন। কাউন্সিলে পৌর আওয়ামী লীগের কমিটির ৬৮ জন ভোটার এবং ৯টি ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলিয়ে আরও ১৮ জন ভোটার ছিলেন।

প্রার্থী নির্বাচনের এই কাউন্সিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আবুল খায়ের দুলাল। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন ৩১ ভোট, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান ভূঁইয়া ২৫ ভোট, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ১৮ ভোট, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ১১ ভোট ও সহসভাপতি আমির হোসেন ১ ভোট ও এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন ও ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল আহমেদ শূন্য ভোট পান। সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ায় তোফাজ্জল হোসেন ১০ ডিসেম্বরের পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের পর ১ ভোট পাওয়ায় সোমবার সন্ধ্যায় আমির হোসেনের কর্মী সমর্থকরা গ্রামের অন্যান্য ভোটার ও আওয়ামী লীগ নেতাদের মারধর ও লাঞ্ছিত করেন। এ সময় দুর্গারামপুর গ্রামের বাসিন্দা পৌর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ইদ্রিস মিয়াকে মারধর ও পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য বোরহান উদ্দিন লাঞ্ছনার শিকার হন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমির হোসেনসহ ৫-৬ জন নেতাকর্মী বোরহান উদ্দিনের বাসায় যান। সোমবার সন্ধ্যার ঘটনা মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার দুর্গারামপুর মাদ্রাসার মাঠে বসে সমাধান করবেন বলে বোরহানকে জানান। নেতাকর্মীরা যাওয়ার পরপর বোরহান উদ্দিন নিজ ঘরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়।

বোরহান উদ্দিনের ছেলে জামাল উদ্দিন বলেন, আমি এখন কোনো মন্তব্য করতে চাই না। বাবার লাশ দাফন করার পর বিষয়টি নিয়ে আমি সংবাদ সম্মেলন করব। তখন সব বলব।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয় নেতাদের কাছে লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার পর অপমান সইতে না পেরে আওয়ামী লীগের এ ত্যাগী প্রবীণ নেতা আত্মহত্যা করেছেন।

পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আমির হোসেন আনোয়ার বলেন, তাকে কোনো মারধর করা হয়নি। তার বাড়িতে কেউ কোনো হামলা করেনি বা রাতে কেউ যায়নি। মঙ্গলবার সকালে এলাকার মুরুব্বির নিয়ে বোরহান ভাইয়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম। ভোট নিয়ে সোমবার রাতে যে মিছিল বা সভা হয়েছে এসব আর হবে না বিষয়টি বোরহান ভাইকে জানিয়েছি।

তিনি বলেন, বোরহান ভাই অনেক ভালো ও সৎ মানুষ ছিলেন।

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি সালাহউদ্দিন চৌধুরী জানান, বোরহান ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে এখনও থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।

পৌর নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে লাঞ্ছনা, আ’লীগ নেতার আত্মহত্যা

 বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি 
১০ নভেম্বর ২০২০, ০৮:১৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী বাছাই নিয়ে মারধর ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন কয়েক নেতা। এ ঘটনার পর আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দিন (৬০) নিজ বাড়িতে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা সদরের দুর্গারামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বোরহান ওই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।

জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ১০ডিসেম্বর বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে এবার একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে ছিলেন। মেয়র পদে দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, প্রচার সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সহ-সভাপতি আমির হোসেন আনোয়ার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান ভূঁইয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল আহমেদ।

উপজেলা আওয়ামী লীগ, স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার উপজেলা সদরের মাওলাগঞ্জ বাজারের এবি তাজুল ইসলাম মিলনায়তনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভোটের মাধ্যমে দলীয় প্রার্থী বাছাই করেন। কাউন্সিলে পৌর আওয়ামী লীগের কমিটির ৬৮ জন ভোটার এবং ৯টি ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলিয়ে আরও ১৮ জন ভোটার ছিলেন।

প্রার্থী নির্বাচনের এই কাউন্সিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আবুল খায়ের দুলাল। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন ৩১ ভোট, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান ভূঁইয়া ২৫ ভোট, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ১৮ ভোট, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ১১ ভোট ও সহসভাপতি আমির হোসেন ১ ভোট ও এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন ও ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল আহমেদ শূন্য ভোট পান। সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ায় তোফাজ্জল হোসেন ১০ ডিসেম্বরের পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের পর ১ ভোট পাওয়ায় সোমবার সন্ধ্যায় আমির হোসেনের কর্মী সমর্থকরা গ্রামের অন্যান্য ভোটার ও আওয়ামী লীগ নেতাদের মারধর ও লাঞ্ছিত করেন। এ সময় দুর্গারামপুর গ্রামের বাসিন্দা পৌর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ইদ্রিস মিয়াকে মারধর ও পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য বোরহান উদ্দিন লাঞ্ছনার শিকার হন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমির হোসেনসহ ৫-৬ জন নেতাকর্মী বোরহান উদ্দিনের বাসায় যান। সোমবার সন্ধ্যার ঘটনা মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার দুর্গারামপুর মাদ্রাসার মাঠে বসে সমাধান করবেন বলে বোরহানকে জানান। নেতাকর্মীরা যাওয়ার পরপর বোরহান উদ্দিন নিজ ঘরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়।

বোরহান উদ্দিনের ছেলে জামাল উদ্দিন বলেন, আমি এখন কোনো মন্তব্য করতে চাই না। বাবার লাশ দাফন করার পর বিষয়টি নিয়ে আমি সংবাদ সম্মেলন  করব। তখন সব বলব।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয় নেতাদের কাছে লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার পর অপমান সইতে না পেরে আওয়ামী লীগের এ ত্যাগী প্রবীণ নেতা আত্মহত্যা করেছেন।

পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আমির হোসেন আনোয়ার বলেন, তাকে কোনো মারধর করা হয়নি। তার বাড়িতে কেউ কোনো হামলা করেনি বা রাতে কেউ যায়নি। মঙ্গলবার সকালে এলাকার মুরুব্বির নিয়ে বোরহান ভাইয়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম। ভোট নিয়ে সোমবার রাতে যে মিছিল বা সভা হয়েছে এসব আর হবে না বিষয়টি বোরহান ভাইকে জানিয়েছি।

তিনি বলেন, বোরহান ভাই অনেক ভালো ও সৎ মানুষ ছিলেন।

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি সালাহউদ্দিন চৌধুরী জানান, বোরহান ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে এখনও থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন