শিকলে বাঁধা আলালের জীবন
jugantor
শিকলে বাঁধা আলালের জীবন

  মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি  

১১ নভেম্বর ২০২০, ২২:২২:৫৬  |  অনলাইন সংস্করণ

আলালের জীবন স্বাভাবিকই ছিল। পেশায় ছিলেন দিনমজুর; যা আয়-রোজগার করতেন তা দিয়েই পাঁচজনের জীবন চলত। কিন্তু গত দুই বছর ধরে অজ্ঞাত রোগে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শিকলে বাঁধা পড়েছে তার জীবন।

স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বাধ্য হয়েই স্বামীর পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে ঘরে আটকে রেখেছেন। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সুরমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

আলালের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম জানান, প্রায় ১০ বছরের ছেলে আকাশ, ৯ বছরের ছেলে জীবন, তিন বছরের কন্যা মিমকে নিয়ে তাদের পাঁচজনের সংসার ভালোই চলছিল। তার স্বামী পেশায় ছিলেন একজন দিনমজুর। কিন্তু গত দুই বছর ধরে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। চিকিৎসা করাতে দ্বারস্থ হন বিভিন্ন কবিরাজের কাছে।

তিনি জানান, করোনা শুরুর আগে ডাক্তার দেখানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনার কারণে তাকে আর ডাক্তার দেখানো সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে তিনি দিন দিন আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। মানুষকে দেখলেই তিনি হিংস্র হয়ে উঠেন এবং মারধর করতে উদ্যত হন। এ কারণে বাধ্য হয়ে তাকে পায়ে শিকল বেঁধে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।

মনোয়ারা বেগম জানান, তিনটি অবুঝ শিশু নিয়ে তার সংসার চালানো এবং অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিন শতক ভিটেবাড়ি একমাত্র সম্বল। পরের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে এখন কোনো রকমে টিকে আছি। কিন্তু অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা করাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। তাই টাকার অভাবে তার চিকিৎসা হচ্ছে না।

তিনি জানান, বড় ছেলে আকাশ ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। অর্থাভাবে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। চিকিৎসার জন্য এলাকার অনেকের কাছেই সহায়তা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউ সহায়তা করতে এগিয়ে আসেননি। এখন পাঁচজনের সংসার এবং স্বামীর চিকিৎসা করা মনোয়ারার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ সুরমা গ্রামের প্রতিবেশী কলেজছাত্র ফুয়াদ আলম চৌধুরী জানান, আলাল মিয়া একজন সুস্থ স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম লোক ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি অসুস্থ হয়ে পাগল হয়ে গেছেন। এ কারণে তাকে শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে। এতে দিন দিন তিনি মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন খান জানান, আলালের বিষয়টি খুবই মানবিক। সরকারের কাছে দাবি করছি তার চিকিৎসায় স্বাস্থ্য বিভাগ এগিয়ে আসবে।

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইশতিয়াক আল মামুন জানান, আলাল একজন মানসিক রোগী। দ্রুত তার চিকিৎসার প্রয়োজন। মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে তাকে চিকিৎসা দিলে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।

তিনি জানান, শিকলে বেঁধে রাখায় তিনি আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে। আমরা বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে তার পরিবারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করব।

শিকলে বাঁধা আলালের জীবন

 মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 
১১ নভেম্বর ২০২০, ১০:২২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আলালের জীবন স্বাভাবিকই ছিল। পেশায় ছিলেন দিনমজুর; যা আয়-রোজগার করতেন তা দিয়েই পাঁচজনের জীবন চলত। কিন্তু গত দুই বছর ধরে অজ্ঞাত রোগে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শিকলে বাঁধা পড়েছে তার জীবন।

স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বাধ্য হয়েই স্বামীর পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে ঘরে আটকে রেখেছেন। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সুরমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

আলালের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম জানান, প্রায় ১০ বছরের ছেলে আকাশ, ৯ বছরের ছেলে জীবন, তিন বছরের কন্যা মিমকে নিয়ে তাদের পাঁচজনের সংসার ভালোই চলছিল। তার স্বামী পেশায় ছিলেন একজন দিনমজুর। কিন্তু গত দুই বছর ধরে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। চিকিৎসা করাতে দ্বারস্থ হন বিভিন্ন কবিরাজের কাছে।

তিনি জানান, করোনা শুরুর আগে ডাক্তার দেখানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনার কারণে তাকে আর ডাক্তার দেখানো সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে তিনি দিন দিন আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। মানুষকে দেখলেই তিনি হিংস্র হয়ে উঠেন এবং মারধর করতে উদ্যত হন। এ কারণে বাধ্য হয়ে তাকে পায়ে শিকল বেঁধে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।

মনোয়ারা বেগম জানান, তিনটি অবুঝ শিশু নিয়ে তার সংসার চালানো এবং অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিন শতক ভিটেবাড়ি একমাত্র সম্বল। পরের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে এখন কোনো রকমে টিকে আছি। কিন্তু অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা করাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। তাই টাকার অভাবে তার চিকিৎসা হচ্ছে না।

তিনি জানান, বড় ছেলে আকাশ ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। অর্থাভাবে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। চিকিৎসার জন্য এলাকার অনেকের কাছেই সহায়তা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউ সহায়তা করতে এগিয়ে আসেননি। এখন পাঁচজনের সংসার এবং স্বামীর চিকিৎসা করা মনোয়ারার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ সুরমা গ্রামের প্রতিবেশী কলেজছাত্র ফুয়াদ আলম চৌধুরী জানান, আলাল মিয়া একজন সুস্থ স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম লোক ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি অসুস্থ হয়ে পাগল হয়ে গেছেন। এ কারণে তাকে শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে। এতে দিন দিন তিনি মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন খান জানান, আলালের বিষয়টি খুবই মানবিক। সরকারের কাছে দাবি করছি তার চিকিৎসায় স্বাস্থ্য বিভাগ এগিয়ে আসবে।

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইশতিয়াক আল মামুন জানান, আলাল একজন মানসিক রোগী। দ্রুত তার চিকিৎসার প্রয়োজন। মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে তাকে চিকিৎসা দিলে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।

তিনি জানান, শিকলে বেঁধে রাখায় তিনি আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে। আমরা বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে তার পরিবারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন