সৌদিতে মেশিনগান দিয়ে বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

  নরসিংদী প্রতিনিধি

নিহত আজিজুল তালুকদার

সৌদি আরবে এক বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করেছে খামিজ মোসায়েত নামে এক সৌদি নাগরিক। নিহত আজিজুল তালুকদার (৪০) নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা বিএনপির মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। গত ইউপি নির্বাচনে চরমধুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনও করেন।

ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার দুপুরে সৌদি আরবের আবা ডিস্টেকের খামিস মুসায়েতের সারাত আবিদা এলাকায়। নিহত আজিজুল রায়পুরা উপজেলার চরমধুয়া ইউনিয়নের রমজান আলী তালুকদারের ছেলে। 

নিহতের ছোট ভাই মাসুম তালুকদার সৌদি থেকে ফোনে ও পারিবারিক সূত্র জানায়, ঘটনার দিন দুপুরের খাবার শেষে আজিজুল ও তার ভাগ্নে সাগর নিজেদের দোকানে কাজ করছিলেন। এ সময় খামিজ মোসায়েত নামে এক সৌদি নাগরিক সবজি কিনতে আসেন। সবজি ভালো না বলে তাদেরকে অকথ্য গালিগালাজ করেন ওই সৌদিয়ান। এ সময় আজিজুল তাকে গালিগালাজ করতে বারণ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে আজিজুলের গায়ে হাত তোলেন সৌদিয়ান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে সৌদিয়ান দোকান থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে চলে যান।

এর কিছুক্ষণ পর এসএমজি মেশিনগান নিয়ে দোকানের সামনে এসে প্রথমে দোকানের সাটারে গুলি করেন। এ সময় তার ভাগ্নে আজিজুলের ছোট ভাই মাসুদকে ফোন করলে তিনি পাশের দোকান থেকে এসে দেখেন সৌদিয়ান তার ভাইকে লক্ষ্য করে গুলি করছেন। সৌদিয়ান দোকানের ভেতরে ঢুকে ছোট ভাইয়ের সামনেই আজিজুলকে লক্ষ্য করে ৪টি গুলি করেন। এ সময় আজিজুর পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আরও একটি গুলি করেন ওই সৌদিয়ান। গুলিটি তার পায়ের উরুতে লেগে তার মাংশপেশি ছিঁড়ে যায় এবং ব্যাপক রক্তক্ষরণের পর আজিজুল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

সৌদিয়ান চলে গেলে তার ভাই ও ভাগ্নে এবং বাংলাদেশি লোকজন ছুটে এসে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
 
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, নিহত আজিজুল ইসলাম তালুকদার প্রায় ১২ বছর যাবৎ সৌদিপ্রবাসী। মাঝে মধ্যে তিনি বাংলাদেশে আসতেন এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। 


নিহতের ছোট ভাই মাসুম তালুকদার জানান, হাসপাতালে পুলিশ এসে জানতে চায় হত্যাকারীকে তারা চিনতে পেরেছেন কিনা। এ সময় পরিচয় বললে পুলিশ তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে ওই সৌদিয়ানকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর সৌদিয়ান পুলিশের কাছে অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন।

মাসুম তালুকদার আরও জানান, সোমবার বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার কথা তাদেরকে জানানো হয়েছে। ভাইয়ের লাশ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানানো হয় দূতাবাস থেকে।
  
তিনি বলেন, সৌদিতে আমাদের দুটি দোকান রয়েছে। একটি আমার ছোট ভাই মাসুম তালুকদার চালায়, আরেকটিতে আমার বড় ভাই আজিজুল ও ভাগ্নে সাগর বসতেন।

আমাদের চার ভাইয়ের মধ্যে আজিজুল দ্বিতীয়। তার আশামনি (১২) নামে এক মেয়ে এবং শাফিন তালুকদার (৬) ও ফাতিন তালুকদার (৪) নামে ২ ছেলে রয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবে প্রবাসী আজিজুল তালুকদারকে হত্যার খবর তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরমধুয়ায় পৌঁছলে শোকের ছায়া নেমে আসে।

লোকজন বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে। স্বজনরা দ্রুত সময়ের মধ্যে নিহতের লাশ বাড়িতে আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।