অ্যাম্বুলেন্স আছে ড্রাইভার নেই খানসামা হাসপাতালে
jugantor
অ্যাম্বুলেন্স আছে ড্রাইভার নেই খানসামা হাসপাতালে

  দিনাজপুর প্রতিনিধি  

২২ নভেম্বর ২০২০, ২২:৪৪:৫৩  |  অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুরের প্রত্যন্ত উপজেলা হিসেবে পরিচিত খানসামা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও দেড় বছর ধরে নেই কোনো চালক। এতে সময়মতো চিকিৎসাসেবা নিতে পারছেন না উপজেলার এক লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

এ অবস্থায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে এই উপজেলার মানুষকে ভরসা করতে হয় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস অথবা ভটভটি ও রিকশাভ্যানের ওপর। এতে বাড়তি ভাড়া ও চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে এ উপজেলার রোগীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (পাকেরহাট) সর্বশেষ অ্যাম্বুলেন্সচালক প্রায় দেড় বছর আগে অনিয়মের দায়ে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার গাড়ি না থাকায় তার গাড়িচালক মিলন রায় কিছুদিন অ্যাম্বুলেন্সচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নতুন গাড়ি বরাদ্দ হওয়ায় মিলন রায় তার মূল দায়িত্বে ফিরে আসেন। এতে চালকশূন্য হয়ে একটি নতুন ও দুইটি পুরাতন অ্যাম্বুলেন্স পড়ে আছে। দীর্ঘ দেড় বছর অতিবাহিত হলেও এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন কোনো অ্যাম্বুলেন্সচালক পদায়ন না হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গ্যারেজে দুটি ও খোলা আকাশের নিচে একটি পড়ে আছে। এতে অ্যাম্বুলেন্সের যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

তবে করোনার সময়ে শুধুমাত্র নমুনা পৌঁছানোর কাজে নতুন অ্যাম্বুলেন্সের চালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার গাড়িচালক মিলন রায়।

সরেজমিন দেখা যায়, খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুরুতর রোগীদের এখান থেকে স্থানান্তর করা হয় দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। স্থানান্তরিত রোগীদের পরিবহনের জন্য স্বজনদের ছুটতে হয় প্রাইভেট গাড়ির কাছে আর সুযোগ বুঝে প্রাইভেট গাড়িগুলো সরকারি ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ হাতিয়ে নেয়। বিপদে পড়ে বেশি টাকা দিয়েই উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়মিত রোগী পরিবহন করেন রোগীর স্বজনরা।

খানসামা উপজেলার পাকেরহাট গ্রামের মোকছেদুল ইসলাম নামে এক যুবক জানান, সপ্তাহখানেক আগে রাতে রোগী নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে যাই। রোগীর সমস্যা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু দিনাজপুর যাওয়ার জন্য সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক না থাকায় বেশি টাকায় প্রাইভেট একটি মাইক্রো নিয়ে আমাকে যেতে হয়। এতে টাকা বেশি লাগলেও মাইক্রো ম্যানেজ করতে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এ বিষয়ে সদ্য যোগদানকৃত খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমি যোগদানের পরেই অ্যাম্বুলেন্সের চালক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এছাড়াও একাধিকবার মৌখিকভাবে আমি তাদের জানিয়েছি। দ্রুত সময়ে শূন্যপদে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক পদায়ন হলে অত্র উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।

অ্যাম্বুলেন্স আছে ড্রাইভার নেই খানসামা হাসপাতালে

 দিনাজপুর প্রতিনিধি 
২২ নভেম্বর ২০২০, ১০:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুরের প্রত্যন্ত উপজেলা হিসেবে পরিচিত খানসামা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও দেড় বছর ধরে নেই কোনো চালক। এতে সময়মতো চিকিৎসাসেবা নিতে পারছেন না উপজেলার এক লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

এ অবস্থায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে এই উপজেলার মানুষকে ভরসা করতে হয় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস অথবা ভটভটি ও রিকশাভ্যানের ওপর। এতে বাড়তি ভাড়া ও চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে এ উপজেলার রোগীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (পাকেরহাট) সর্বশেষ অ্যাম্বুলেন্সচালক প্রায় দেড় বছর আগে অনিয়মের দায়ে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার গাড়ি না থাকায় তার গাড়িচালক মিলন রায় কিছুদিন অ্যাম্বুলেন্সচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নতুন গাড়ি বরাদ্দ হওয়ায় মিলন রায় তার মূল দায়িত্বে ফিরে আসেন। এতে চালকশূন্য হয়ে একটি নতুন ও দুইটি পুরাতন অ্যাম্বুলেন্স পড়ে আছে। দীর্ঘ দেড় বছর অতিবাহিত হলেও এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন কোনো অ্যাম্বুলেন্সচালক পদায়ন না হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গ্যারেজে দুটি ও খোলা আকাশের নিচে একটি পড়ে আছে। এতে অ্যাম্বুলেন্সের যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

তবে করোনার সময়ে শুধুমাত্র নমুনা পৌঁছানোর কাজে নতুন অ্যাম্বুলেন্সের চালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার গাড়িচালক মিলন রায়।

সরেজমিন দেখা যায়, খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুরুতর রোগীদের এখান থেকে স্থানান্তর করা হয় দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। স্থানান্তরিত রোগীদের পরিবহনের জন্য স্বজনদের ছুটতে হয় প্রাইভেট গাড়ির কাছে আর সুযোগ বুঝে প্রাইভেট গাড়িগুলো সরকারি ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ হাতিয়ে নেয়। বিপদে পড়ে বেশি টাকা দিয়েই উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়মিত রোগী পরিবহন করেন রোগীর স্বজনরা।

খানসামা উপজেলার পাকেরহাট গ্রামের মোকছেদুল ইসলাম নামে এক যুবক জানান, সপ্তাহখানেক আগে রাতে রোগী নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে যাই। রোগীর সমস্যা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু দিনাজপুর যাওয়ার জন্য সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক না থাকায় বেশি টাকায় প্রাইভেট একটি মাইক্রো নিয়ে আমাকে যেতে হয়। এতে টাকা বেশি লাগলেও মাইক্রো ম্যানেজ করতে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এ বিষয়ে সদ্য যোগদানকৃত খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমি যোগদানের পরেই অ্যাম্বুলেন্সের চালক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এছাড়াও একাধিকবার মৌখিকভাবে আমি তাদের জানিয়েছি। দ্রুত সময়ে শূন্যপদে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক পদায়ন হলে অত্র উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন