সেই রুবেল জেলহাজতে
jugantor
সেই রুবেল জেলহাজতে

  যুগান্তর রিপোর্ট, তাহিরপুর  

২৩ নভেম্বর ২০২০, ২৩:১১:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দামি ব্রান্ডের মোটরসাইকেল চুরি করে বিক্রি করায় অভিযুক্ত সেই রাফাতুল ইসলাম রুবেলকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। কিন্তু একই মামলার অন্য আসামি গোলাম মোস্তফা ওরফে টেরা মোস্তফা এখনও অধরা।

বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (তাহিরপুর) বিচারক মো. খালেদ মিয়া জামিন নামঞ্জুর করে রুবেলকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।

রুবেল সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কলাগাঁও গ্রামের বহুল আলোচিত মাদক, হুন্ডি ও অস্ত্র চোরাকারবারি রফিকুল ওরফে কালা রফিকের ভাই।

পুলিশ জানায়, তাহিরপুর থানায় ২৯ অক্টোবর দায়েরকৃত মোটরসাইকেল চুরির মামলায় রুবেল এজাহার নামীয় আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। বৃহস্পতিবার গোপনে সুনামগঞ্জ আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিতে যান তিনি। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। কিন্তু একই মামলার অপর আসামি উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের দুধের আউটা গ্রামের গোলাম মোস্তফাকে ধরতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া সাংবাদিকের কিশোর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় ফাঁসান এই মোস্তফা ও তার গ্যাং।

তার এই পরিকল্পনায় অংশ নেয় কয়লা,অস্ত্র চোরাকারবারি, নারী নির্যাতন ও ডাকাতি মামলার আসামি জামাল উদ্দিন ওরফে জামাল ডাকাত। এছাড়া এই চক্রের আরও সদস্যরা হলেন, সুনামগঞ্জের কলাগাঁও সীমান্তের কলাগাঁও গ্রামের বহুল আলোচিত মাদক, হুন্ডি ও অস্ত্র চোরাকারবারি রফিকুল ওরফে কালা রফিকের সহোদর ভাই রুবেল এবং উপজেলার পৈলনুপুর গ্রামের শিক্ষক পেটানো মামলার আসামির বাবা দুলাল ওরফে টিন দুলাল।

উল্লেখ্য, টেকেরহাটের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রের বাবা একটি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকের স্টাফ রিপোর্টার। অতীতে এ চক্রের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় তারই প্রতিশোধ হিসেবে ওই সাংবাদিকের ছেলেকে মোটরসাইকেল চুরির মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

থানা পুলিশের নামে সীমান্তের চোরাচালানসহ চাঁদা আদায়কারী, অস্ত্র চোরাকারবারি নজরুল ওরফে বোতল নজরুলকে নিয়ে অতীতে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন ওই সাংবাদিক। এছাড়া সুনামগঞ্জ সীমান্তে একাধিক চক্রের সন্ত্রাস, নৌ পথে চাঁদাবাজি, কয়লা চুরি-ডাকাতি, জাদুকাটা নদীর বালু পাথর চুরি, কয়লা-চুনাপাথর চুরি ডাকাতির সিন্ডিকেট বাণিজ্য, স্কুলশিক্ষক পেটানোর ঘটনা এবং বহুল আলোচিত মানিক হত্যাকাণ্ডসহ নানা সংবাদ প্রকাশ করেছেন ওই সাংবাদিক।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চক্রটি সম্প্রতি তার স্কুল পড়ুয়া কিশোর ছেলেকে ফাঁসানো কাজটি করেছে।এর আগে একই চক্র শারদীয় দুর্গাপূজার সময় ওই ছাত্রের সীমান্তের টেকেরঘাট লাকমায় থাকা প্রয়াত নানা বাড়ির শয়নকক্ষে কৌশলে বিদেশি মদের কার্টুন ও পিস্তল রেখে ফাঁসানোর অপচেষ্টা করে। তবে প্রমাণসাপেক্ষ তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

এর আগে ২০১৪ সালে সংবাদপত্রে চক্রটির অপকর্ম তুলে ধরেন ওই সাংবাদিক। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই বছরের ২৯ মার্চ সাংবাদিকদের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া ছেলের ওপর এসিড নিক্ষেপ করে তারা। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট একই চক্রের সদস্যরা দুই দফায় মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে ওই ছাত্রকে আহত করে।

সম্প্রতি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনেই চক্রটি ওই সাংবাদিক ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে যেতে থাকে অব্যাহতভাবে। সাংবাদিক তাতে কর্ণপাত না করে নিয়মিত খবর প্রকাশ করতে থাকেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চক্রটি সাংবাদিকের কিশোর ছেলের ওপর ষড়যন্ত্রমূলক মোটরসাইকেল চুরির ফাঁদে ফেলে ফাঁসিয়ে দেবার মতো অপকীর্তি ঘটায়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক বিষয়টি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় অবহিত করেন। সভায় সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকসহ তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, মামলা ও হয়রানির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

এ সময় সভায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিজিবি অধিনায়ক, জেলার বিভিন্ন থানার ওসি, ইউএনও ও জেলা পর্যায়ে কর্মরত সব গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হোসেন খাঁয়ের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে বলেন, আমার জানা মতে সাংবাদিক হাবিব সরোয়ার আজাদ ও তার কিশোর ছেলে বনেদী পরিবারের সন্তান। তাদের বংশে কোনো লোকই কোনোদিন চুরির মত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল না।

তিনি বলেন, আমি এ ঘটনায় প্রতিবাদ করেছি। প্রশাসনকে বলেছি বিষয়টি ষড়যন্ত্র হতে পারে। গোলাম মোস্তফা আমার নিকটাত্মীয় হলেও এ ঘটনায় আমার ছেলেরা জড়িত নয়।

সোমবার তাহিরপুর থানার ওসি মো. আবদুল লতিফ তরফদার বলেন, আসামি রুবেলকে শিগগিরই রিমান্ডে নিয়ে সাজানো মোটরসাইকেল চুরির ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে। পলাতক মোস্তফাকে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সেই রুবেল জেলহাজতে

 যুগান্তর রিপোর্ট, তাহিরপুর 
২৩ নভেম্বর ২০২০, ১১:১১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দামি ব্রান্ডের মোটরসাইকেল চুরি করে বিক্রি করায় অভিযুক্ত সেই রাফাতুল ইসলাম রুবেলকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। কিন্তু একই মামলার অন্য আসামি গোলাম মোস্তফা ওরফে টেরা মোস্তফা এখনও অধরা।

বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (তাহিরপুর) বিচারক মো. খালেদ মিয়া জামিন নামঞ্জুর করে রুবেলকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।

রুবেল সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কলাগাঁও গ্রামের বহুল আলোচিত মাদক, হুন্ডি ও অস্ত্র চোরাকারবারি রফিকুল ওরফে কালা রফিকের ভাই।

পুলিশ জানায়, তাহিরপুর থানায় ২৯ অক্টোবর দায়েরকৃত মোটরসাইকেল চুরির মামলায় রুবেল এজাহার নামীয় আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। বৃহস্পতিবার গোপনে সুনামগঞ্জ আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিতে যান তিনি। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। কিন্তু একই মামলার অপর আসামি উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের দুধের আউটা গ্রামের গোলাম মোস্তফাকে ধরতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া সাংবাদিকের কিশোর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় ফাঁসান এই মোস্তফা ও তার গ্যাং।

তার এই পরিকল্পনায় অংশ নেয় কয়লা,অস্ত্র চোরাকারবারি, নারী নির্যাতন ও ডাকাতি মামলার আসামি জামাল উদ্দিন ওরফে জামাল ডাকাত। এছাড়া এই চক্রের আরও সদস্যরা হলেন, সুনামগঞ্জের কলাগাঁও সীমান্তের কলাগাঁও গ্রামের বহুল আলোচিত মাদক, হুন্ডি ও অস্ত্র চোরাকারবারি রফিকুল ওরফে কালা রফিকের সহোদর ভাই রুবেল এবং উপজেলার পৈলনুপুর গ্রামের শিক্ষক পেটানো মামলার আসামির বাবা দুলাল ওরফে টিন দুলাল।

উল্লেখ্য, টেকেরহাটের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রের বাবা একটি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকের স্টাফ রিপোর্টার। অতীতে এ চক্রের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় তারই প্রতিশোধ হিসেবে ওই সাংবাদিকের ছেলেকে মোটরসাইকেল চুরির মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

থানা পুলিশের নামে সীমান্তের চোরাচালানসহ চাঁদা আদায়কারী, অস্ত্র চোরাকারবারি নজরুল ওরফে বোতল নজরুলকে নিয়ে অতীতে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন ওই সাংবাদিক। এছাড়া সুনামগঞ্জ সীমান্তে একাধিক চক্রের সন্ত্রাস, নৌ পথে চাঁদাবাজি, কয়লা চুরি-ডাকাতি, জাদুকাটা নদীর বালু পাথর চুরি, কয়লা-চুনাপাথর চুরি ডাকাতির সিন্ডিকেট বাণিজ্য, স্কুলশিক্ষক পেটানোর ঘটনা এবং বহুল আলোচিত মানিক হত্যাকাণ্ডসহ নানা সংবাদ প্রকাশ করেছেন ওই সাংবাদিক।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চক্রটি সম্প্রতি তার স্কুল পড়ুয়া কিশোর ছেলেকে ফাঁসানো কাজটি করেছে।এর আগে একই চক্র শারদীয় দুর্গাপূজার সময় ওই ছাত্রের সীমান্তের টেকেরঘাট লাকমায় থাকা প্রয়াত নানা বাড়ির শয়নকক্ষে কৌশলে বিদেশি মদের কার্টুন ও পিস্তল রেখে ফাঁসানোর অপচেষ্টা করে। তবে প্রমাণসাপেক্ষ তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

এর আগে ২০১৪ সালে সংবাদপত্রে চক্রটির অপকর্ম তুলে ধরেন ওই সাংবাদিক। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই বছরের ২৯ মার্চ সাংবাদিকদের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া ছেলের ওপর এসিড নিক্ষেপ করে তারা। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট একই চক্রের সদস্যরা দুই দফায় মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে ওই ছাত্রকে আহত করে।

সম্প্রতি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনেই চক্রটি ওই সাংবাদিক ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে যেতে থাকে অব্যাহতভাবে। সাংবাদিক তাতে কর্ণপাত না করে নিয়মিত খবর প্রকাশ করতে থাকেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চক্রটি সাংবাদিকের কিশোর ছেলের ওপর ষড়যন্ত্রমূলক মোটরসাইকেল চুরির ফাঁদে ফেলে ফাঁসিয়ে দেবার মতো অপকীর্তি ঘটায়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক বিষয়টি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় অবহিত করেন। সভায় সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকসহ তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, মামলা ও হয়রানির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

এ সময় সভায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিজিবি অধিনায়ক, জেলার বিভিন্ন থানার ওসি, ইউএনও ও জেলা পর্যায়ে কর্মরত সব গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হোসেন খাঁয়ের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে বলেন, আমার জানা মতে সাংবাদিক হাবিব সরোয়ার আজাদ ও তার কিশোর ছেলে বনেদী পরিবারের সন্তান। তাদের বংশে কোনো লোকই কোনোদিন চুরির মত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল না।

তিনি বলেন, আমি এ ঘটনায় প্রতিবাদ করেছি। প্রশাসনকে বলেছি বিষয়টি ষড়যন্ত্র হতে পারে। গোলাম মোস্তফা আমার নিকটাত্মীয় হলেও এ ঘটনায় আমার ছেলেরা জড়িত নয়।

সোমবার তাহিরপুর থানার ওসি মো. আবদুল লতিফ তরফদার বলেন, আসামি রুবেলকে শিগগিরই রিমান্ডে নিয়ে সাজানো মোটরসাইকেল চুরির ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে। পলাতক মোস্তফাকে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন