একের পর এক যৌতুক দাবি, নির্যাতনে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু
jugantor
একের পর এক যৌতুক দাবি, নির্যাতনে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু

  বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি  

২৫ নভেম্বর ২০২০, ২১:০৬:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের বানারীপাড়ায় যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও তার পরিবারের নির্যাতনে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ অনিমা জয়ধরের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনার পর অনিমা জয়ধরের ছোটভাই বাদী হয়ে বুধবার সকালে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এ দিন পুলিশ ওই মামলায় অভিযুক্ত স্বামী নরেন জয়ধর, ভাসুর নারায়ণ জয়ধর ও তার স্ত্রী কবিতা রানীকে গ্রেফতার করে কোর্টহাজতে পাঠিয়েছে।

এ ব্যাপারে থানা ও পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নরেন জয়ধরের (৩৬) সঙ্গে ছয় বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী মতিলাল হালদারের বড় মেয়ে অনিমা জয়ধরের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর নরেন জয়ধর যৌতুক হিসেবে ১০ শতাংশ সম্পত্তি দাবি করে। সে অনুযায়ী শ্বশুরালয় থেকে তাকে ওই সম্পত্তির মূল্য হিসেবে নগদ ৩০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

এর এক বছর পর নরেন জয়ধর তার স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে কাজের সন্ধানে ঢাকায় যায়। সেখানে গিয়ে সে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে নতুন করে যৌতুক আনার জন্য তার স্ত্রী অনিমা জয়ধরকে চাপ দেয়। অনিমা জয়ধর এ ব্যাপারে অপারগতা প্রকাশ করলে নরেন ঢাকায় থাকা অবস্থায় অন্য এক নারীকে বিয়ে করে। পরে তার সঙ্গে নতুন ওই স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয় বলে প্রথম স্ত্রী ও তার পরিবারকে জানায়।

এরপর নরেন গত এক বছর পূর্বে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে ফিরে আসে। সে নতুন করে অনিমা জয়ধরকে নিয়ে সংসার শুরু করে। সম্প্রতি নরেন জয়ধর ও তার পরিবার ব্যবসা করার জন্য ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী অনিমাকে তার বাবার বাড়ি থেকে ২০ হাজার টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দেয়। তিনি ওই টাকা এনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে স্বামী নরেন জয়ধর ও তার পরিবার রোববার এবং মঙ্গলবার রাতে পৃথকভাবে দুই দফা নির্যাতন করে।

মঙ্গলবার রাতে অনিমা অচেতন হয়ে পড়লে স্বামী ও তার পরিবার তাকে ডাক্তার না দেখিয়ে ও তার পরিবারকে খবর না দিয়ে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। পরে তারা অনিমাকে একটি ট্রলারে নিয়ে অন্যত্র রওনা হয়।

পাশের লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে অনিমার পরিবার ওই ট্রলার থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে ওই পল্লী চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন ওই রাতেই এসআই হাবিবুর রহমানকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে অনিমার লাশ উদ্ধার করেন।

ওসি মো. হেলাল উদ্দিন জানান, মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিদর্শক (তদন্ত) মো.জাফর আহম্মদকে দায়িত্ব দেয়া হয়। লাশের সুরাতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। একই দিন ওই মামলায় অভিযুক্ত স্বামী নরেন জয়ধরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

একের পর এক যৌতুক দাবি, নির্যাতনে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু

 বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি 
২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৯:০৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের বানারীপাড়ায় যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও তার পরিবারের নির্যাতনে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ অনিমা জয়ধরের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনার পর অনিমা জয়ধরের ছোটভাই বাদী হয়ে বুধবার সকালে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এ দিন পুলিশ ওই মামলায় অভিযুক্ত স্বামী নরেন জয়ধর, ভাসুর নারায়ণ জয়ধর ও তার স্ত্রী কবিতা রানীকে গ্রেফতার করে কোর্টহাজতে পাঠিয়েছে।

এ ব্যাপারে থানা ও পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নরেন জয়ধরের (৩৬) সঙ্গে ছয় বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী মতিলাল হালদারের বড় মেয়ে অনিমা জয়ধরের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর নরেন জয়ধর যৌতুক হিসেবে ১০ শতাংশ সম্পত্তি দাবি করে। সে অনুযায়ী শ্বশুরালয় থেকে তাকে ওই সম্পত্তির মূল্য হিসেবে নগদ ৩০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

এর এক বছর পর নরেন জয়ধর তার স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে কাজের সন্ধানে ঢাকায় যায়। সেখানে গিয়ে সে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে নতুন করে যৌতুক আনার জন্য তার স্ত্রী অনিমা জয়ধরকে চাপ দেয়। অনিমা জয়ধর এ ব্যাপারে অপারগতা প্রকাশ করলে নরেন ঢাকায় থাকা অবস্থায় অন্য এক নারীকে বিয়ে করে। পরে তার সঙ্গে নতুন ওই স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয় বলে প্রথম স্ত্রী ও তার পরিবারকে জানায়।

এরপর নরেন গত এক বছর পূর্বে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে ফিরে আসে। সে নতুন করে অনিমা জয়ধরকে নিয়ে সংসার শুরু করে। সম্প্রতি নরেন জয়ধর ও তার পরিবার ব্যবসা করার জন্য ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী অনিমাকে তার বাবার বাড়ি থেকে ২০ হাজার টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দেয়। তিনি ওই টাকা এনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে স্বামী নরেন জয়ধর ও তার পরিবার রোববার এবং মঙ্গলবার রাতে পৃথকভাবে দুই দফা নির্যাতন করে।

মঙ্গলবার রাতে অনিমা অচেতন হয়ে পড়লে স্বামী ও তার পরিবার তাকে ডাক্তার না দেখিয়ে ও তার পরিবারকে খবর না দিয়ে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। পরে তারা অনিমাকে একটি ট্রলারে নিয়ে অন্যত্র রওনা হয়।

পাশের লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে অনিমার পরিবার ওই ট্রলার থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে ওই পল্লী চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন ওই রাতেই এসআই হাবিবুর রহমানকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে অনিমার লাশ উদ্ধার করেন।

ওসি মো. হেলাল উদ্দিন জানান, মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিদর্শক (তদন্ত) মো.জাফর আহম্মদকে দায়িত্ব দেয়া হয়। লাশের সুরাতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। একই দিন ওই মামলায় অভিযুক্ত স্বামী নরেন জয়ধরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন