প্রতি মাসে মাদকবিরোধী প্রচারণা চালাতে হবে আসামিকে
jugantor
মাদক মামলার রায়
প্রতি মাসে মাদকবিরোধী প্রচারণা চালাতে হবে আসামিকে

  মাগুরা প্রতিনিধি  

২৬ নভেম্বর ২০২০, ২১:১৪:০৮  |  অনলাইন সংস্করণ

মাগুরায় ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধ প্রমাণিত হলেও আদালত বিথুন নামে এক কিশোরকে কারাগারে না পাঠিয়ে শহরে-বাজারে মাদকবিরোধী প্রচারণা চালানোর রায় দিয়েছেন। এর সঙ্গে প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে থেকে তাকে আরও ছয়টি শর্ত পূরণ করতে হবে। অন্যথায় ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার মাদক মামলায় অভিনব এ রায়টি দিয়েছেন মাগুরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. জিয়াউর রহমান।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালি গ্রামের টোকন মোল্যার ছেলে বিথুন ১৯ বছর বয়সে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ বাড়ির পাশ থেকে তাকে ২০ পিস ইয়াবাসহ আটক করে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। দীর্ঘ ৫ বছর পর যাবতীয় সাক্ষ্য-প্রমাণাদি শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই মামলার রায় দেয়া হয়।

মামলায় সরকারপক্ষের আইনজীবী অজেদা সিদ্দিকী জানান, বিথুন অসচ্ছল পরিবারের একটি ছেলে। বাবা একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। অটোরিকশা চালিয়ে সে বাবা-মাসহ পরিবারের অন্যদের ভরণ-পোষণ মেটানোর দায়িত্ব পালন করে; কিন্তু ঘটনাক্রমে সে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণিত হলেও বিচারক সব দিক বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধের শাস্তির পরিবর্তে প্রবেশনের আওতায় এক বছর সময়কালের জন্য রায় দিয়েছেন।

তিনি জানান, এ সময়ের মধ্যে দোষী সাব্যস্ত আসামিকে সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রতি মাসে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দুইবার মাদকবিরোধী প্রচারণা চালাতে হবে। কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত হতে পারবে না। সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। নির্দেশ মোতাবেক আদালতে হাজিরা দিতে হবে। মাদক সেবন করতে পারবে না। খারাপ সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হিসেবে দুইটি বনজ ও তিনটি ফলজ বৃক্ষরোপণ করতে হবে।

এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে তাকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগের পাশাপাশি এক হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আর ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলেও তিনি জানান।

মাগুরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী হাসান সিরাজ সুজা। তিনি বলেন, অসৎ সঙ্গে পড়ে আসামি মাদক মামলায় জড়িয়ে যায়। প্রচলিত ধারায় তাকে কারাদণ্ড দেয়া হলে ওই কিশোরের ভবিষ্যৎ জীবন নষ্ট হয়ে যেতে পারত। সেক্ষেত্রে প্রবেশনের আওতায় আদালতের এ রায়ের কারণে সে নিজেকে সংশোধনের সুযোগ পাবে।

মাদক মামলার রায়

প্রতি মাসে মাদকবিরোধী প্রচারণা চালাতে হবে আসামিকে

 মাগুরা প্রতিনিধি 
২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৯:১৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মাগুরায় ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধ প্রমাণিত হলেও আদালত বিথুন নামে এক কিশোরকে কারাগারে না পাঠিয়ে শহরে-বাজারে মাদকবিরোধী প্রচারণা চালানোর রায় দিয়েছেন। এর সঙ্গে প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে থেকে তাকে আরও ছয়টি শর্ত পূরণ করতে হবে। অন্যথায় ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার মাদক মামলায় অভিনব এ রায়টি দিয়েছেন মাগুরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. জিয়াউর রহমান।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালি গ্রামের টোকন মোল্যার ছেলে বিথুন ১৯ বছর বয়সে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ বাড়ির পাশ থেকে তাকে ২০ পিস ইয়াবাসহ আটক করে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। দীর্ঘ ৫ বছর পর যাবতীয় সাক্ষ্য-প্রমাণাদি শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই মামলার রায় দেয়া হয়।

মামলায় সরকারপক্ষের আইনজীবী অজেদা সিদ্দিকী জানান, বিথুন অসচ্ছল পরিবারের একটি ছেলে। বাবা একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। অটোরিকশা চালিয়ে সে বাবা-মাসহ পরিবারের অন্যদের ভরণ-পোষণ মেটানোর দায়িত্ব পালন করে; কিন্তু ঘটনাক্রমে সে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণিত হলেও বিচারক সব দিক বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধের শাস্তির পরিবর্তে প্রবেশনের আওতায় এক বছর সময়কালের জন্য রায় দিয়েছেন।

তিনি জানান, এ সময়ের মধ্যে দোষী সাব্যস্ত আসামিকে সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রতি মাসে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দুইবার মাদকবিরোধী প্রচারণা চালাতে হবে। কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত হতে পারবে না। সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। নির্দেশ মোতাবেক আদালতে হাজিরা দিতে হবে। মাদক সেবন করতে পারবে না। খারাপ সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হিসেবে দুইটি বনজ ও তিনটি ফলজ বৃক্ষরোপণ করতে হবে।

এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে তাকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগের পাশাপাশি এক হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আর ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলেও তিনি জানান।

মাগুরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী হাসান সিরাজ সুজা। তিনি বলেন, অসৎ সঙ্গে পড়ে আসামি মাদক মামলায় জড়িয়ে যায়। প্রচলিত ধারায় তাকে কারাদণ্ড দেয়া হলে ওই কিশোরের ভবিষ্যৎ জীবন নষ্ট হয়ে যেতে পারত। সেক্ষেত্রে প্রবেশনের আওতায় আদালতের এ রায়ের কারণে সে নিজেকে সংশোধনের সুযোগ পাবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন