সেই মোজাম্মেল ভূঁইয়া ফের গ্রেফতার
jugantor
সেই মোজাম্মেল ভূঁইয়া ফের গ্রেফতার

  যুগান্তর রিপোর্ট, তাহিরপুর  

২৬ নভেম্বর ২০২০, ২২:৩৮:৩০  |  অনলাইন সংস্করণ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়াকে ফের গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাটের কামারপট্টি থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

মোজাম্মেল উপজেলার বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়নের বাদাঘাটের আবদুর রব ভূঁইয়া ওরফে কলকী রব মিয়ার ছেলে। মা আলেনা বেগমের আয়ার চাকরির সুবাদে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চতুর্থ শ্রেণির কোয়ার্টারে বসবাস করত মোজাম্মেল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাহিরপুর থানার ওসি মো. আবদুল লতিফ তরফদার এ তথ্য যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, থানার এসআই মনিতোষ পালের নেতৃত্বে পুলিশের কয়েকটি টিম অভিযানে নেমে কৌশলে তাকে গ্রেফতার করে।

বৃহস্পতিবার ২৮ বিজিবি সুনামগঞ্জের নায়েব রাসেল বাদী হয়ে মোজাম্মেলসহ অজ্ঞাতনামা কয়েক সহযোগীর বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ রয়েছে- প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, র্যা বসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজসহ নানা শ্রেণি-পেশার লোকজনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে-ইমেইলে গুজব, কুৎসা রটনা করে আসছিল এই মোজাম্মেল।

সীমান্তের মাদক, অস্ত্র, কয়লা, পাথর চোরাকারবারি, গাড়ি চোর চক্র, জাদুকাটা নদীর বালু-পাথর চোর চক্রসহ নানা অপরাধীর সঙ্গে গোপন সখ্য গড়ে তুলে নগদ ও বিকাশে অর্থ আয়ের মাধ্যমে মোজাম্মেল তাদের ফরমায়েশি জায়েজ করতে গিয়ে গুজব ও কুৎসা রটাতো। এছাড়া বিভিন্ন অনলাইনে ভুয়া, মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের পর নিজেই ২৫ হতে ৩০টি ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে আসছিল এই মোজাম্মেল।

নিজেকে সাংবাদিক, অভিনেতা, প্রযোজক, চলচ্চিত্র সমিতির সহকারী পরিচালক পরিচয় দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার লোকজনকে প্রভাবিত করে ঢাকাই ছবিতে নায়ক-নায়িকা হিসেবে অভিনয়ে সুযোগ করে দেয়া, মিউজিক ভিডিওর হিরো-হিরোইন হিসেবে মডেল করার কথা বলে প্রতারণা করে অর্থ আদায় করে আসছিল সে।

উল্লেখ্য, সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা তৈরির ষড়যন্ত্র সফল করতে গিয়ে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি (বর্তমানে স্টাফ রিপোর্টার) হাবিব সরোয়ার আজাদের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ১১ বছরের মেধাবী স্কুলছাত্রকে ২০১৪ সালের ২৯ মার্চ রাতে এসিড নিক্ষেপ করে মোজাম্মেল।

তাহিরপুরের বাদাঘাটের পার্শ্ববর্তী কামড়াবন্দ গ্রামে এক শিক্ষিকার বাসায় প্রাইভেট পড়া অবস্থায় অন্যান্য সহপাঠীদের সঙ্গে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হলে এসিড নিক্ষেপ করে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের শিশুসন্তান ওই স্কুলছাত্রের মুখমণ্ডল ঝলসে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যায় মোজাম্মেল। পাঁচ বছর পর ২০১৯ সালের জুন মাসে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এএসপি ওবাইনের নেতৃত্বে র্যাোব-৯ সিলেটের একটি চৌকস টিম ঢাকার মগবাজার এলাকার একটি হোটেল থেকে মোজাম্মেলকে গ্রেফতার করে।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এসিড মামলাটি আপস না করায় পালিয়ে থেকে এমনকি পরবর্তীতে জেলহাজত হতে জামিনে বেরিয়ে এসে নানা সময় দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদকে পুঁজি করে লোকজনকে উস্কে দিয়ে নানা অপতৎপরতার পাশাপাশি মিথ্যা অভিযোগ, একাধিকবার মিথ্যা মামলা করিয়ে মোজাম্মেল তার লালিত কিশোর গ্যাং, তাকে লালন করে এমন কয়েকটি দুর্নীতিবাজ সন্ত্রাসী চক্র, চোরাচালানি চক্রকে ব্যবহার করে সাংবাদিক আজাদ ও তার শিশুপুত্র (বর্তমানে নবম শ্রেণির) স্কুলছাত্রকে ফাঁসাতে মরিয়া হয়ে উঠে এই মোজাম্মেল।

সেই মোজাম্মেল ভূঁইয়া ফের গ্রেফতার

 যুগান্তর রিপোর্ট, তাহিরপুর 
২৬ নভেম্বর ২০২০, ১০:৩৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়াকে ফের গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাটের কামারপট্টি থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

মোজাম্মেল উপজেলার বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়নের বাদাঘাটের আবদুর রব ভূঁইয়া ওরফে কলকী রব মিয়ার ছেলে। মা আলেনা বেগমের আয়ার চাকরির সুবাদে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চতুর্থ শ্রেণির কোয়ার্টারে বসবাস করত মোজাম্মেল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাহিরপুর থানার ওসি মো. আবদুল লতিফ তরফদার এ তথ্য যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, থানার এসআই  মনিতোষ পালের নেতৃত্বে পুলিশের কয়েকটি টিম অভিযানে নেমে কৌশলে তাকে গ্রেফতার করে।

বৃহস্পতিবার ২৮ বিজিবি সুনামগঞ্জের নায়েব রাসেল বাদী হয়ে মোজাম্মেলসহ অজ্ঞাতনামা কয়েক সহযোগীর বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ রয়েছে- প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, র্যা বসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজসহ নানা শ্রেণি-পেশার লোকজনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে-ইমেইলে গুজব, কুৎসা রটনা করে আসছিল এই মোজাম্মেল।

সীমান্তের মাদক, অস্ত্র, কয়লা, পাথর চোরাকারবারি, গাড়ি চোর চক্র, জাদুকাটা নদীর বালু-পাথর চোর চক্রসহ নানা অপরাধীর সঙ্গে গোপন সখ্য গড়ে তুলে নগদ ও বিকাশে অর্থ আয়ের মাধ্যমে মোজাম্মেল তাদের ফরমায়েশি জায়েজ করতে গিয়ে গুজব ও কুৎসা রটাতো। এছাড়া বিভিন্ন অনলাইনে ভুয়া, মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের পর নিজেই ২৫ হতে ৩০টি ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে আসছিল এই মোজাম্মেল।

নিজেকে সাংবাদিক, অভিনেতা, প্রযোজক, চলচ্চিত্র সমিতির সহকারী পরিচালক পরিচয় দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার লোকজনকে প্রভাবিত করে ঢাকাই ছবিতে নায়ক-নায়িকা হিসেবে অভিনয়ে সুযোগ করে দেয়া, মিউজিক ভিডিওর হিরো-হিরোইন হিসেবে মডেল করার কথা বলে প্রতারণা করে অর্থ আদায় করে আসছিল সে।

উল্লেখ্য, সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা তৈরির ষড়যন্ত্র সফল করতে গিয়ে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি (বর্তমানে স্টাফ রিপোর্টার) হাবিব সরোয়ার আজাদের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ১১ বছরের মেধাবী স্কুলছাত্রকে ২০১৪ সালের ২৯ মার্চ রাতে এসিড নিক্ষেপ করে মোজাম্মেল।

তাহিরপুরের বাদাঘাটের পার্শ্ববর্তী কামড়াবন্দ গ্রামে এক শিক্ষিকার বাসায় প্রাইভেট পড়া অবস্থায় অন্যান্য সহপাঠীদের সঙ্গে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হলে এসিড নিক্ষেপ করে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের শিশুসন্তান ওই স্কুলছাত্রের মুখমণ্ডল ঝলসে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যায় মোজাম্মেল। পাঁচ বছর পর ২০১৯ সালের জুন মাসে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এএসপি ওবাইনের নেতৃত্বে র্যাোব-৯ সিলেটের একটি চৌকস টিম ঢাকার মগবাজার এলাকার একটি হোটেল থেকে মোজাম্মেলকে গ্রেফতার করে।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এসিড মামলাটি আপস  না করায় পালিয়ে থেকে এমনকি পরবর্তীতে জেলহাজত হতে জামিনে বেরিয়ে এসে নানা সময় দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদকে পুঁজি করে লোকজনকে উস্কে দিয়ে নানা অপতৎপরতার পাশাপাশি মিথ্যা অভিযোগ, একাধিকবার মিথ্যা মামলা করিয়ে মোজাম্মেল তার লালিত কিশোর গ্যাং, তাকে লালন করে এমন কয়েকটি দুর্নীতিবাজ সন্ত্রাসী চক্র, চোরাচালানি চক্রকে ব্যবহার করে সাংবাদিক আজাদ ও তার শিশুপুত্র (বর্তমানে নবম শ্রেণির) স্কুলছাত্রকে ফাঁসাতে মরিয়া হয়ে উঠে এই মোজাম্মেল।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন