ডিসি-ইউএনও-এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতার মামলা
jugantor
ডিসি-ইউএনও-এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতার মামলা

  মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি  

২৭ নভেম্বর ২০২০, ২৩:২৪:৫৭  |  অনলাইন সংস্করণ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কোটি কোটি টাকার ৮৬ শতাংশ সরকারি জমি উদ্ধার করে বিএনপি নেতার করা মামলার আসামি হয়েছেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) মো. জুবায়ের হোসেন।

বিএনপি নেতা ফিরোজ হায়দার খান আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে হাইকোর্টে তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়। এর পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মির্জাপুর গোড়াই শিল্পাঞ্চলের নাজিরপাড়া এলাকায় সিএস খতিয়ান ৩০৯, এসএ খতিয়ান ইজা-১ ও ২৮৬১ নম্বর দাগে ৮৪ শতাংশ সরকারি পুকুর রয়েছে। এ ছাড়া ২ নম্বর খতিয়ানে ৩৩০০ নম্বর দাগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৬ শতাংশ জমি রয়েছে। এই জমি করটিয়া জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নীর কাছ থেকে ১৯৪১ ও ১৯৪২ সালে গোড়াই এলাকার ওয়াজেদ আলীর ছেলে আবদুল মান্নান জমিদারী পত্তন নেন।

পরবর্তীতে টাঙ্গাইল জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি বিএনপি নেতা ফিরোজ হায়দার খান ২০০৭ সালে ১৯ জুলাই মির্জাপুর রেজিস্ট্রি অফিসে আবদুল মান্নানের স্ত্রী জেবুননেছার কাছ থেকে ২৪১১ ও ২৪১২ নম্বর দলিল মূলে ক্রয় করেন। পরে এলার্ট নোটিশের (ল্যান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে ৭৩/২০০৭/০৮ ও ৭৪/২০০৭/০৮ নম্বরে নিজ নামে দুটি নামজারি করেন। নিজ নামে নামজারি করাতে পারলেও খাজনা প্রদানের জন্য হোল্ডিং চালু করতে পারেননি ফিরোজ হায়দার খান।

চলমান জরিপে ফিরোজ হায়দার খানের নামে জমিটি মাঠ জরিপে রেকর্ড হয়। পরবর্তীতে উক্ত রেকর্ডের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ টাঙ্গাইল জোনাল সেটেল্টমেন্ট অফিসে আপত্তি (১১৮০৪/০৯) দাখিল করেন। আপত্তির প্রেক্ষিতে জোনাল সেটেল্টমেন্ট অফিস ফিরোজ হায়দারের নামে রেকর্ড বাতিল পূর্ব ১৪/০৬/২০১০/৮৩৮(৪) নম্বর স্মারকে পুনরায় শুনানির আদেশ দেন।

ফিরোজ হায়দার খান শুনানিতে উপস্থিত না হয়ে টাঙ্গাইলের জোনাল সেটেল্টমেন্ট কর্মকর্তা মাহবুবা হাসনাতের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ৫৭৯১/২০১০ রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট পুনরায় শুনানির চিঠির কার্যক্রম স্থগিত করেন। সেইসঙ্গে উক্ত পুকুর ফিরোজ হায়দার খানকে ভোগ করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

ফিরোজ হায়দার খান রাতের আঁধারে পুকুরে মাটি ভরাট করে শ্রেণি পরিবর্তনের কাজ শুরু করেন। এ ছাড়া পুকুরের চারপাশে প্রাচীর নির্মাণ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তার কাজ বন্ধ করেন এবং সরকারি মালিকানা পুকুর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন।

পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন পুকুরের চারপাশের প্রাচীর ভেঙে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি সরিয়ে পুনরায় পুকুরে পরিণত করেন। পরে চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর বিএনপি নেতা ফিরোজ হায়দার খান আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে হাইকোর্টে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা ফিরোজ হায়দার খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি আইন অমান্য করি নাই। আইনকে শ্রদ্ধা দেখিয়ে আদালতে মামলা করেছি। আদালত যে রায় দিবে আমি তা মেনে নিব।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন জানান, ২০১৩ সালে হাইকোর্টের একটি আদেশ আছে। তাতে বলা আছে- কোনো জলাধার ভরাট করা যাবে না। ফিরোজ হায়দার খান সেই আইন অমান্য করেছেন। আমরা তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক বলেন, ফিরোজ হায়দার খানের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, প্রশাসন জনস্বার্থে রাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করছে। ফিরোজ হায়দার খান উচ্চ আদালতকে ভুল বুঝিয়ে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছেন।

ডিসি-ইউএনও-এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতার মামলা

 মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি 
২৭ নভেম্বর ২০২০, ১১:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কোটি কোটি টাকার ৮৬ শতাংশ সরকারি জমি উদ্ধার করে বিএনপি নেতার করা মামলার আসামি হয়েছেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) মো. জুবায়ের হোসেন।

বিএনপি নেতা ফিরোজ হায়দার খান আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে হাইকোর্টে তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়। এর পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মির্জাপুর গোড়াই শিল্পাঞ্চলের নাজিরপাড়া এলাকায় সিএস খতিয়ান ৩০৯, এসএ খতিয়ান ইজা-১ ও ২৮৬১ নম্বর দাগে ৮৪ শতাংশ সরকারি পুকুর রয়েছে। এ ছাড়া ২ নম্বর খতিয়ানে ৩৩০০ নম্বর দাগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৬ শতাংশ জমি রয়েছে। এই জমি করটিয়া জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নীর কাছ থেকে ১৯৪১ ও ১৯৪২ সালে গোড়াই এলাকার ওয়াজেদ আলীর ছেলে আবদুল মান্নান জমিদারী পত্তন নেন।

পরবর্তীতে টাঙ্গাইল জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি বিএনপি নেতা ফিরোজ হায়দার খান ২০০৭ সালে ১৯ জুলাই মির্জাপুর রেজিস্ট্রি অফিসে আবদুল মান্নানের স্ত্রী জেবুননেছার কাছ থেকে ২৪১১ ও ২৪১২ নম্বর দলিল মূলে ক্রয় করেন। পরে এলার্ট নোটিশের (ল্যান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে ৭৩/২০০৭/০৮ ও ৭৪/২০০৭/০৮ নম্বরে নিজ নামে দুটি নামজারি করেন। নিজ নামে নামজারি করাতে পারলেও খাজনা প্রদানের জন্য হোল্ডিং চালু করতে পারেননি ফিরোজ হায়দার খান।

চলমান জরিপে ফিরোজ হায়দার খানের নামে জমিটি মাঠ জরিপে রেকর্ড হয়। পরবর্তীতে উক্ত রেকর্ডের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ টাঙ্গাইল জোনাল সেটেল্টমেন্ট অফিসে আপত্তি (১১৮০৪/০৯) দাখিল করেন। আপত্তির প্রেক্ষিতে জোনাল সেটেল্টমেন্ট অফিস ফিরোজ হায়দারের নামে রেকর্ড বাতিল পূর্ব ১৪/০৬/২০১০/৮৩৮(৪) নম্বর স্মারকে পুনরায় শুনানির আদেশ দেন।

ফিরোজ হায়দার খান শুনানিতে উপস্থিত না হয়ে টাঙ্গাইলের জোনাল সেটেল্টমেন্ট কর্মকর্তা মাহবুবা হাসনাতের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ৫৭৯১/২০১০ রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট পুনরায় শুনানির চিঠির কার্যক্রম স্থগিত করেন। সেইসঙ্গে উক্ত পুকুর ফিরোজ হায়দার খানকে ভোগ করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

ফিরোজ হায়দার খান রাতের আঁধারে পুকুরে মাটি ভরাট করে শ্রেণি পরিবর্তনের কাজ শুরু করেন। এ ছাড়া পুকুরের চারপাশে প্রাচীর নির্মাণ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তার কাজ বন্ধ করেন এবং সরকারি মালিকানা পুকুর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন।

পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন পুকুরের চারপাশের প্রাচীর ভেঙে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি সরিয়ে পুনরায় পুকুরে পরিণত করেন। পরে চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর বিএনপি নেতা ফিরোজ হায়দার খান আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে হাইকোর্টে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা ফিরোজ হায়দার খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি আইন অমান্য করি নাই। আইনকে শ্রদ্ধা দেখিয়ে আদালতে মামলা করেছি। আদালত যে রায় দিবে আমি তা মেনে নিব।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন জানান, ২০১৩ সালে হাইকোর্টের একটি আদেশ আছে। তাতে বলা আছে- কোনো জলাধার ভরাট করা যাবে না। ফিরোজ হায়দার খান সেই আইন অমান্য করেছেন। আমরা তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক বলেন, ফিরোজ হায়দার খানের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, প্রশাসন জনস্বার্থে রাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করছে। ফিরোজ হায়দার খান উচ্চ আদালতকে ভুল বুঝিয়ে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছেন।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন