বরগুনায় পুলিশ কর্মকর্তার বিয়ে বন্ধ করল প্রশাসন!
jugantor
বরগুনায় পুলিশ কর্মকর্তার বিয়ে বন্ধ করল প্রশাসন!

  যুগান্তর রিপোর্ট, বরগুনা  

২৮ নভেম্বর ২০২০, ২১:৪৪:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

বরগুনায় এসআই সুদীপ্ত শংকর বিশ্বাস পার্থর সঙ্গে নাবালিকা কিশোরীর বিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছে। আইনের লোক হয়ে বেআইনি কাজ করায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশের লোক হওয়ায় বাল্যবিয়ের আয়োজকদের কোনো শাস্তি পেতে হয়নি।

জানা যায়, শুক্রবার রাতে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র শীলের কিশোরী মেয়ের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।

কিশোরীর পরিবার জানায়, তিন বছর আগে পূজার একটি অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ফুলঝুরি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা নির্মল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী বিষ্ণু রানী বিশ্বাসের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তারা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে যায়।

তাদের সম্পর্ককে স্থায়ী রূপ দিতে নির্মল বিশ্বাসের ছেলে পুলিশের এসআই সুদীপ্ত শংকর বিশ্বাস পার্থর সঙ্গে কিশোরীর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শুক্রবার রাতে বিয়ের কথা ছিল। আত্মীয়স্বজনকে দেয়া হয়েছিল আমন্ত্রণও। পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে বিয়েটি বন্ধ হয়ে যায়।

কিশোরীর জন্মনিবন্ধন, টিকার কার্ড, সব পরীক্ষার সনদপত্রে উল্লেখ রয়েছে- জন্ম তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০০৪। জন্ম তারিখ অনুযায়ী কিশোরীর বয়স হয়েছে ১৬ বছর এক মাস। বয়স বাড়িয়ে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন করে তার বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।

কিশোরীর বাবার বাড়িতে শুক্রবার সন্ধ্যার পর বিয়েটি পড়ানোর দিনক্ষণ ঠিক করা হয়। খবর পেয়ে বিয়ে বন্ধ করার জন্য পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নেয়। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে যাচাই করে দেখেন কিশোরীর বয়স ১৬ বছর।

তিনি বিয়েটি বন্ধ করার জন্য মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন। মহিলা বিষয়ক অধিদফতর বরগুনার উপপরিচালক মেহেরুন নাহার মুন্নী জানান, তারা কিশোরীর পিতার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছেন। কিশোরীর পিতা মুচলেকায় লিখেছেন- ১৮ বছর হওয়ার আগে মেয়ের বিয়ে দেবেন না।

বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, বাল্যবিয়ে আইনে বলা আছে- যারা বাল্যবিয়ের আয়োজন করবে তাদের দুই বছর সাজা ভোগ করতে হবে।

বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার বলেন, তিনি কিশোরীর বাবাকে সতর্ক করে দিয়েছেন। ১৮ বছরের আগে মেয়ের বিয়ে দিলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের সাজা দেয়া হবে।

বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন জানান, তারা মেয়ে ও পরিবারকে সতর্ক করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিশের এসআই সুদীপ্ত শংকর বিশ্বাস পার্থকে জানানো হয়েছে- কিশোরীকে বিয়ে করলে তাকে চাকরি হারাতে হবে।

বরগুনায় পুলিশ কর্মকর্তার বিয়ে বন্ধ করল প্রশাসন!

 যুগান্তর রিপোর্ট, বরগুনা 
২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৯:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বরগুনায় এসআই সুদীপ্ত শংকর বিশ্বাস পার্থর সঙ্গে নাবালিকা কিশোরীর বিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছে। আইনের লোক হয়ে বেআইনি কাজ করায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশের লোক হওয়ায় বাল্যবিয়ের আয়োজকদের কোনো শাস্তি পেতে হয়নি।

জানা যায়, শুক্রবার রাতে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র শীলের কিশোরী মেয়ের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।

কিশোরীর পরিবার জানায়, তিন বছর আগে পূজার একটি অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ফুলঝুরি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা নির্মল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী বিষ্ণু রানী বিশ্বাসের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তারা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে যায়।

তাদের সম্পর্ককে স্থায়ী রূপ দিতে নির্মল বিশ্বাসের ছেলে পুলিশের এসআই সুদীপ্ত শংকর বিশ্বাস পার্থর সঙ্গে কিশোরীর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শুক্রবার রাতে বিয়ের কথা ছিল। আত্মীয়স্বজনকে দেয়া হয়েছিল আমন্ত্রণও। পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে বিয়েটি বন্ধ হয়ে যায়।  

কিশোরীর জন্মনিবন্ধন, টিকার কার্ড, সব পরীক্ষার সনদপত্রে উল্লেখ রয়েছে- জন্ম তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০০৪। জন্ম তারিখ অনুযায়ী কিশোরীর বয়স হয়েছে ১৬ বছর এক মাস। বয়স বাড়িয়ে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন করে তার বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।

কিশোরীর বাবার বাড়িতে শুক্রবার সন্ধ্যার পর বিয়েটি পড়ানোর দিনক্ষণ ঠিক করা হয়। খবর পেয়ে বিয়ে বন্ধ করার জন্য পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নেয়। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে যাচাই করে দেখেন কিশোরীর বয়স ১৬ বছর।

তিনি বিয়েটি বন্ধ করার জন্য মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন। মহিলা বিষয়ক অধিদফতর বরগুনার উপপরিচালক মেহেরুন নাহার মুন্নী জানান, তারা কিশোরীর পিতার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছেন। কিশোরীর পিতা মুচলেকায় লিখেছেন- ১৮ বছর হওয়ার আগে মেয়ের বিয়ে দেবেন না।

বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, বাল্যবিয়ে আইনে বলা আছে- যারা বাল্যবিয়ের আয়োজন করবে তাদের দুই বছর সাজা ভোগ করতে হবে। 

বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার বলেন, তিনি কিশোরীর বাবাকে সতর্ক করে দিয়েছেন। ১৮ বছরের আগে মেয়ের বিয়ে দিলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের সাজা দেয়া হবে। 

বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন জানান, তারা মেয়ে ও পরিবারকে সতর্ক করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিশের এসআই সুদীপ্ত শংকর বিশ্বাস পার্থকে জানানো হয়েছে- কিশোরীকে বিয়ে করলে তাকে চাকরি হারাতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন