ওসি প্রদীপকে আদালতে এনেও তোলা হয়নি এজলাসে
jugantor
দুদক প্রতিবেদন না দেয়ায়
ওসি প্রদীপকে আদালতে এনেও তোলা হয়নি এজলাসে

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

৩০ নভেম্বর ২০২০, ২০:২৪:০৫  |  অনলাইন সংস্করণ

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে আদালতে আনা হলেও দুদক প্রতিবেদন না দেয়ায় তাকে এজলাসে তোলা হয়নি।

দুদক সূত্র জানিয়েছে- কক্সবাজারের টেকনাফ থানার সাবেক (সাময়িক বরখাস্ত) ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার তদন্ত এখনও শেষ করতে পারেনি দুদক। এ কারণে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি।

ওসি প্রদীপ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো. রাশেদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। গুলিতে সিনহার মৃত্যুর পর প্রদীপকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, সোমবার সকালে ওসি প্রদীপকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলায় চট্টগ্রাম কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এদিন অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় তার হাজিরার দিন ধার্য ছিল।

এছাড়াও প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে দুদকের প্রতিবেদন দাখিলের তারিখও ছিল সোমবার। প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় এবং কারারুদ্ধ প্রদীপের জামিনের আবেদন না থাকায় প্রদীপকে প্রসিকিউশন থেকে এজলাসে হাজির করা হয়নি।

দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক যুগান্তরকে জানান, দুদক প্রতিবেদন না দেয়ায় সাবেক ওসি প্রদীপকে আদালতে আনলেও এজলাসে তোলা হয়নি। তাকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকির অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার অধিকতর তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

গত ২৩ আগস্ট টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে প্রায় চার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকা ওসি প্রদীপ ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করেছেন বলে দুদক অভিযোগ এনেছে। আরও ১৩ লাখ ১৩ হাজার ১৭৫ টাকার সম্পদের তথ্য বিবরণীতে গোপন করার অভিযোগও আনা হয়েছে চুমকির বিরুদ্ধে। সেজন্য গত ১২ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম কারাগারে আনা হয় প্রদীপকে। তখন থেকে চট্টগ্রাম কারাগারেই আছেন তিনি।

১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি এসআই হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন প্রদীপ কুমার দাশ। এসআই পদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করতে লাগামহীন হয়ে পড়েন প্রদীপ। তার সম্পদ দৃশ্যমান হতে থাকে ২০০২ সালের পর থেকে। প্রদীপের সব সম্পত্তিই তার স্ত্রী চুমকির নামে; যার বিশ্বাসযোগ্য জ্ঞাত-আয়ের কোনো উৎস নেই।

২০১৮ সালে দুদকের তদন্ত কমিটি প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের তদন্ত শুরু করে। ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল তাদের সম্পদের হিসাব জমা দিতে বলা হলেও চুমকি তা জমা দেন ২০১৯ সালের ১২ মে।

দুদক প্রতিবেদন না দেয়ায়

ওসি প্রদীপকে আদালতে এনেও তোলা হয়নি এজলাসে

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
৩০ নভেম্বর ২০২০, ০৮:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে আদালতে আনা হলেও দুদক প্রতিবেদন না দেয়ায় তাকে এজলাসে তোলা হয়নি।

দুদক সূত্র জানিয়েছে- কক্সবাজারের টেকনাফ থানার সাবেক (সাময়িক বরখাস্ত) ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার তদন্ত এখনও শেষ করতে পারেনি দুদক। এ কারণে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি।

ওসি প্রদীপ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো. রাশেদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। গুলিতে সিনহার মৃত্যুর পর প্রদীপকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, সোমবার সকালে ওসি প্রদীপকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলায় চট্টগ্রাম কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এদিন অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় তার হাজিরার দিন ধার্য ছিল।

এছাড়াও প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে দুদকের প্রতিবেদন দাখিলের তারিখও ছিল সোমবার। প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় এবং কারারুদ্ধ প্রদীপের জামিনের আবেদন না থাকায় প্রদীপকে প্রসিকিউশন থেকে এজলাসে হাজির করা হয়নি।

দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক যুগান্তরকে জানান, দুদক প্রতিবেদন না দেয়ায় সাবেক ওসি প্রদীপকে আদালতে আনলেও এজলাসে তোলা হয়নি। তাকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকির অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার অধিকতর তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

গত ২৩ আগস্ট টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে প্রায় চার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকা ওসি প্রদীপ ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করেছেন বলে দুদক অভিযোগ এনেছে। আরও ১৩ লাখ ১৩ হাজার ১৭৫ টাকার সম্পদের তথ্য বিবরণীতে গোপন করার অভিযোগও আনা হয়েছে চুমকির বিরুদ্ধে। সেজন্য গত ১২ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম কারাগারে আনা হয় প্রদীপকে। তখন থেকে চট্টগ্রাম কারাগারেই আছেন তিনি।

১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি এসআই হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন প্রদীপ কুমার দাশ। এসআই পদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করতে লাগামহীন হয়ে পড়েন প্রদীপ। তার সম্পদ দৃশ্যমান হতে থাকে ২০০২ সালের পর থেকে। প্রদীপের সব সম্পত্তিই তার স্ত্রী চুমকির নামে; যার বিশ্বাসযোগ্য জ্ঞাত-আয়ের কোনো উৎস নেই।

২০১৮ সালে দুদকের তদন্ত কমিটি প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের তদন্ত শুরু করে। ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল তাদের সম্পদের হিসাব জমা দিতে বলা হলেও চুমকি তা জমা দেন ২০১৯ সালের ১২ মে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ওসি প্রদীপ কুমার দাস

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন