সময়সীমা শেষ, ১ কেজি ধান-চালও পায়নি খাদ্য বিভাগ
jugantor
সময়সীমা শেষ, ১ কেজি ধান-চালও পায়নি খাদ্য বিভাগ

  একরাম তালুকদার, দিনাজপুর  

০১ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৩০:৪৫  |  অনলাইন সংস্করণ

চলতি সরকারী আমন সংগ্রহ অভিযান শুরুর প্রায় একমাস হতে চললেও ধানের জেলা দিনাজপুরে এখন পর্যন্ত এক কেজি ধান অথবা চাল সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ।

এমনকি সংগ্রহ অভিযানে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেনি মিল মালিকরা। মিল মালিকরা বলছেন, ধানের সঙ্গে চালের মূল্য নির্ধারণের অসঙ্গতির কারণেই খাদ্য বিভাগের সঙ্গে তারা চুক্তিবদ্ধ হননি।

এই অবস্থায় দিনাজপুরে এবার আমন সংগ্রহ অভিযান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে খাদ্য বিভাগ বলছে, মিল মালিকদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।

দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর জেলায় চলতি আমন সংগ্রহ অভিযানে ২৬ টাকা কেজি দরে ১১ হাজার ৯৬৭ মেট্রিক টন ধান, ৩৭ টাকা কেজি দরে ৬৭ হাজার ১৯১ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৩৬ টাকা কেজি দরে ৬ হাজার ৯’শ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারী এই খাদ্য সংগ্রহ অভিযানে ৭ নভেম্বর থেকে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় এবং ১৫ নভেম্বর থেকে মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল ক্রয় শুরুর কথা। এজন্য খাদ্য বিভাগের সঙ্গে মিল মালিকদের চুক্তি সম্পাদনের সময়সীমা ছিল ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত।

কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা অতিবাহিত হলেও খাদ্য বিভাগের সাথে চুক্তিবদ্ধ হননি দিনাজপুরের মিল মালিকরা। অন্যদিকে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একজন কৃষকও ধান দিতে আসেনি সরকারী খাদ্য গুদামে। ফলে আমন সংগ্রহ অভিযান শুরুর প্রায় একমাস হতে চললেও এখন পর্যন্ত এক ছটাক ধান ও চাল সংগ্রহ শুরু করতে পারেনি দিনাজপুর জেলা খাদ্য বিভাগ।

দিনাজপুর জেলায় খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুজ্জামান জানান, দিনাজপুর জেলায় ৭৪ হাজার ৯১ মেট্রিক চাল ক্রয়ের লক্ষে মিল মালিকদের সঙ্গে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত চুক্তি প্রক্রিয়া সম্পাদনের মেয়াদ ছিল। কিন্তু জেলার ১ হাজার ৩৭৫ জন বৈধ মিল মালিকের মধ্যে এই সময়ের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করেছে মাত্র ৩০ জন। এই ৩০ জন মিল মালিক ২ হাজার ৫’শ টন চাল সরবরাহের জন্য চুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।

তবে মিল মালিকদের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে। সম্ভবত আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হবে, যদিও এখন পর্যন্ত লিখিতভাবে জানানো হয়নি কেন্দ্রীয় খাদ্য অধিদফতর থেকে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানান, গত বোরো সংগ্রহ অভিযানে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েও চাল সরবরাহ না করায় ৭২৪ জন মিল মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এদিকে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করার ব্যাপারে দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক সমিতির নেতা সহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন জানান, এবার সরকার যে আমন সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে, তাতে ধানের সঙ্গে চালের মূল্যের সমন্বয়হীনতার রয়েছে। প্রতি কেজি ধানের মূল্য ২৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই হিসেবে চালের মূল্য নির্ধারণ করা উচিত ছিল প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪২ টাকা। কিন্তু প্রতি কেজি চালের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭ টাকা।

সংগ্রহ অভিযানে হিসাবের এই বৈষম্য দূর করে এবং ধানের মূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই চালের মূল্য নির্ধারণ করা হলে মিল মালিকরা ঠিকই চুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতো।

তিনি জানান, খাদ্য বিভাগ চুক্তি প্রক্রিয়া সম্পাদনের মেয়াদ আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে মূল্য নির্ধারণের এই সমন্বয়হীনতা দূর করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অপরদিকে দিনাজপুরের ধানের বাজারে ৭৫ কেজির গুটি স্বর্ণ ধানের বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০ টাকায়, সুমন স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায় এবং কটরা পারি ধানের বস্তা (৭৫কেজি) বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯৫০ টাকায়।

অর্থাৎ সরকার প্রতি কেজি ধানের সংগ্রহ মূল্য ২৬ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারে প্রতি কেজি ধান বিক্রি হচ্ছে ২৭ থেকে প্রায় ২৮ টাকায়। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে ধানের দাম বেশী থাকায় এবার সরকারী খাদ্য সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সময়সীমা শেষ, ১ কেজি ধান-চালও পায়নি খাদ্য বিভাগ

 একরাম তালুকদার, দিনাজপুর 
০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:৩০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

চলতি সরকারী আমন সংগ্রহ অভিযান শুরুর প্রায় একমাস হতে চললেও ধানের জেলা দিনাজপুরে এখন পর্যন্ত এক কেজি ধান অথবা চাল সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। 

এমনকি সংগ্রহ অভিযানে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেনি মিল মালিকরা। মিল মালিকরা বলছেন, ধানের সঙ্গে চালের মূল্য নির্ধারণের অসঙ্গতির কারণেই খাদ্য বিভাগের সঙ্গে তারা চুক্তিবদ্ধ হননি। 

এই অবস্থায় দিনাজপুরে এবার আমন সংগ্রহ অভিযান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে খাদ্য বিভাগ বলছে, মিল মালিকদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।   

দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর জেলায় চলতি আমন সংগ্রহ অভিযানে ২৬ টাকা কেজি দরে ১১ হাজার ৯৬৭ মেট্রিক টন ধান, ৩৭ টাকা কেজি দরে ৬৭ হাজার ১৯১ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৩৬ টাকা কেজি দরে ৬ হাজার ৯’শ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

সরকারী এই খাদ্য সংগ্রহ অভিযানে ৭ নভেম্বর থেকে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় এবং ১৫ নভেম্বর থেকে মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল ক্রয় শুরুর কথা। এজন্য খাদ্য বিভাগের সঙ্গে মিল মালিকদের চুক্তি সম্পাদনের সময়সীমা ছিল ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত।  

কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা অতিবাহিত হলেও খাদ্য বিভাগের সাথে চুক্তিবদ্ধ হননি দিনাজপুরের মিল মালিকরা। অন্যদিকে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একজন কৃষকও ধান দিতে আসেনি সরকারী খাদ্য গুদামে। ফলে আমন সংগ্রহ অভিযান শুরুর প্রায় একমাস হতে চললেও এখন পর্যন্ত এক ছটাক ধান ও চাল সংগ্রহ শুরু করতে পারেনি দিনাজপুর জেলা খাদ্য বিভাগ। 

দিনাজপুর জেলায় খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুজ্জামান জানান,  দিনাজপুর জেলায় ৭৪ হাজার ৯১ মেট্রিক চাল ক্রয়ের লক্ষে মিল মালিকদের সঙ্গে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত চুক্তি প্রক্রিয়া সম্পাদনের মেয়াদ ছিল। কিন্তু জেলার ১ হাজার ৩৭৫ জন বৈধ মিল মালিকের মধ্যে এই সময়ের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করেছে মাত্র ৩০ জন। এই ৩০ জন মিল মালিক ২ হাজার ৫’শ টন চাল সরবরাহের জন্য চুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। 

তবে মিল মালিকদের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে। সম্ভবত আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হবে, যদিও এখন পর্যন্ত লিখিতভাবে জানানো হয়নি কেন্দ্রীয় খাদ্য অধিদফতর থেকে। 

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানান, গত বোরো সংগ্রহ অভিযানে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েও চাল সরবরাহ না করায় ৭২৪ জন মিল মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। 

এদিকে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করার ব্যাপারে দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক সমিতির নেতা সহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন জানান, এবার সরকার যে আমন সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে, তাতে ধানের সঙ্গে চালের মূল্যের সমন্বয়হীনতার রয়েছে। প্রতি কেজি ধানের মূল্য ২৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই হিসেবে চালের মূল্য নির্ধারণ করা উচিত ছিল প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪২ টাকা। কিন্তু প্রতি কেজি চালের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭ টাকা। 

সংগ্রহ অভিযানে হিসাবের এই বৈষম্য দূর করে এবং ধানের মূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই চালের মূল্য নির্ধারণ করা হলে মিল মালিকরা ঠিকই চুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতো। 

তিনি জানান, খাদ্য বিভাগ চুক্তি প্রক্রিয়া সম্পাদনের মেয়াদ আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে মূল্য নির্ধারণের এই সমন্বয়হীনতা দূর করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। 

অপরদিকে দিনাজপুরের ধানের বাজারে ৭৫ কেজির গুটি স্বর্ণ ধানের বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০ টাকায়, সুমন স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায় এবং কটরা পারি ধানের বস্তা (৭৫কেজি) বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯৫০ টাকায়। 

অর্থাৎ সরকার প্রতি কেজি ধানের সংগ্রহ মূল্য ২৬ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারে প্রতি কেজি ধান বিক্রি হচ্ছে ২৭ থেকে প্রায় ২৮ টাকায়। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে ধানের দাম বেশী থাকায় এবার সরকারী খাদ্য সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন