পবিপ্রবিতে স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ
jugantor
পবিপ্রবিতে স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

  দুমকি (পটুয়াখালী) ও পবিপ্রবি প্রতিনিধি  

০১ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৩৭:৪৬  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) নানা অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে সচেতন শিক্ষার্থী ও নাগরিকের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগ।

পবিপ্রবির প্রো-ভিসির মেয়ে, রেজিস্ট্রারের ছেলে ও ভিসির এক নিকটাত্মীয়সহ বেশ কয়েকজনের নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার প্রতিবাদ ও নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ছাত্রলীগ ও স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলা আওয়াম লীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজ সিকদারের নেতৃত্বে তিন শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন হয়ে থানাব্রিজস্থ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ পবিপ্রবির স্বজনপ্রীতির নিয়োগ বাণিজ্য ঠেকাতে সব নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার দাবি করেছেন। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজ শিকদার অভিযোগ করেন, পবিপ্রবির ভিসি, রেজিষ্ট্রারসহ প্রভাবশালী একটি চক্র সুকৌশলে নিয়োগ বাণিজ্য শুরু করেছেন। প্রতিটি শিক্ষক পদে ২০-২৫ লাখ টাকা, সেকশন অফিসার পদে ১৫-২০ লাখ টাকার বাণিজ্য হচ্ছে। চিহ্নিত কয়েকজন দালাল (ভিসির একান্ত অনুগত) চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া রেজিস্ট্রারের ছেলে ও একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার মেয়ের নিয়োগ স্বজনপ্রীতির আশ্রয়ে ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এইসব অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ হওয়া দরকার।

তিনি বলেন, আজকে বিক্ষোভ মিছিল করেছি। এতে যদি বিতর্কিত নিয়োগ বন্ধ করা না হয়, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অবরুদ্ধসহ অচল করে দেয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

মো. সবুজ সিকদার বলেন, পবিপ্রবির প্রো-ভিসির মেয়ে, রেজিস্ট্রারের ছেলে ও ভিসির এক নিকটাত্মীয়সহ বেশ কয়েকজনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আগে থেকেই সব চূড়ান্ত করা থাকলে নিয়োগের নামে তামাশা করার দরকার কি?

উল্লেখ্য, সম্প্রতি পবিপ্রবিতে পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে ১২ জন শিক্ষক, একজন রেজিস্ট্রার, একজন পিএ টু প্রো-ভিসি, দুইজন সেকশন অফিসার, একজন উপ-খামার তত্ত্বাবধায়ক, একজন অফিস সহায়কসহ বিভিন্ন পদের নিয়োগ কার্যক্রম শুরু চলছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পরই ক্যাম্পাসে নিয়োগ বাণিজ্যের পাশাপাশি জনৈক প্রভাবশালী শিক্ষকের মেয়েকে শিক্ষক পদে, রেজিস্ট্রার পদে একজন বিভাগীয় প্রার্থী, সেকশন অফিসার পদে জনৈক প্রভাবশালী শিক্ষকের ছেলে ও নিকটাত্মীয়ের নিয়োগ চূড়ান্তের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

এছাড়া প্রায় প্রতিটি পদের বিপরীতে লাখ লাখ টাকার দেন দরবারের খবর প্রকাশ পায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না।

এ বিষয়ে পবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত বলেন, বিক্ষোভ মিছিলের খবরটি শুনেছি। নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে ছাত্রলীগের হস্তক্ষেপ অনাকাঙ্ক্ষিত। যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে তার কোনো ভিত্তি নেই। স্থানীয় তদবিরবাজ মহলের অনৈতিক চাওয়া ও তদবির না রাখায় ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করতেই ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে থাকতে পারে।

পবিপ্রবিতে স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

 দুমকি (পটুয়াখালী) ও পবিপ্রবি প্রতিনিধি 
০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৩৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) নানা অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে সচেতন শিক্ষার্থী ও নাগরিকের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগ।

পবিপ্রবির প্রো-ভিসির মেয়ে, রেজিস্ট্রারের ছেলে ও ভিসির এক নিকটাত্মীয়সহ বেশ কয়েকজনের নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার প্রতিবাদ ও নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ছাত্রলীগ ও স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলা আওয়াম লীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজ সিকদারের নেতৃত্বে তিন শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন হয়ে থানাব্রিজস্থ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ পবিপ্রবির স্বজনপ্রীতির নিয়োগ বাণিজ্য ঠেকাতে সব নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার দাবি করেছেন। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজ শিকদার অভিযোগ করেন, পবিপ্রবির ভিসি, রেজিষ্ট্রারসহ প্রভাবশালী একটি চক্র সুকৌশলে নিয়োগ বাণিজ্য শুরু করেছেন। প্রতিটি শিক্ষক পদে ২০-২৫ লাখ টাকা, সেকশন অফিসার পদে ১৫-২০ লাখ টাকার বাণিজ্য হচ্ছে। চিহ্নিত কয়েকজন দালাল (ভিসির একান্ত অনুগত) চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া রেজিস্ট্রারের ছেলে ও একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার মেয়ের নিয়োগ স্বজনপ্রীতির আশ্রয়ে ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এইসব অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ হওয়া দরকার।

তিনি বলেন, আজকে বিক্ষোভ মিছিল করেছি। এতে যদি বিতর্কিত নিয়োগ বন্ধ করা না হয়, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অবরুদ্ধসহ অচল করে দেয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

মো. সবুজ সিকদার বলেন, পবিপ্রবির প্রো-ভিসির মেয়ে, রেজিস্ট্রারের ছেলে ও ভিসির এক নিকটাত্মীয়সহ বেশ কয়েকজনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আগে থেকেই সব চূড়ান্ত করা থাকলে নিয়োগের নামে তামাশা করার দরকার কি?

উল্লেখ্য, সম্প্রতি পবিপ্রবিতে পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে ১২ জন শিক্ষক, একজন রেজিস্ট্রার, একজন পিএ টু প্রো-ভিসি, দুইজন সেকশন অফিসার, একজন উপ-খামার তত্ত্বাবধায়ক, একজন অফিস সহায়কসহ বিভিন্ন পদের নিয়োগ কার্যক্রম শুরু চলছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পরই ক্যাম্পাসে নিয়োগ বাণিজ্যের পাশাপাশি জনৈক প্রভাবশালী শিক্ষকের মেয়েকে শিক্ষক পদে, রেজিস্ট্রার পদে একজন বিভাগীয় প্রার্থী, সেকশন অফিসার পদে জনৈক প্রভাবশালী শিক্ষকের ছেলে ও নিকটাত্মীয়ের নিয়োগ চূড়ান্তের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

এছাড়া প্রায় প্রতিটি পদের বিপরীতে লাখ লাখ টাকার দেন দরবারের খবর প্রকাশ পায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না।

এ বিষয়ে পবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত বলেন, বিক্ষোভ মিছিলের খবরটি শুনেছি। নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে ছাত্রলীগের হস্তক্ষেপ অনাকাঙ্ক্ষিত। যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে তার কোনো ভিত্তি নেই। স্থানীয় তদবিরবাজ মহলের অনৈতিক চাওয়া ও তদবির না রাখায় ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করতেই ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে থাকতে পারে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন