‘এতকাল অনেক কষ্টে রইছি, মৌয়াতকালে একটু শান্তি পাইছি’
jugantor
‘এতকাল অনেক কষ্টে রইছি, মৌয়াতকালে একটু শান্তি পাইছি’

  রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি  

০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:৪৬:১৮  |  অনলাইন সংস্করণ

‘এতকাল অনেক কষ্টে রইছি, মৌয়াতকালে একটু শান্তি পাইছি। এখন দুইডা টানা পাইলে আর একটু ভালো থাকমু’- ঝালকাঠির রাজাপুরে গালুয়া ইউনিয়নের পুটিয়াখালি গ্রামের বিধবা সাহাবানুর হৃদয়বিদারক সংবাদ দেখে তাকে সাহায্য করতে আসে নাভানা গ্রুপের একটি টিম।

নাভানা গ্রুপের ওই টিম বুধবার সকালে সহায়তা নিয়ে তার বাড়িতে আসে। এ সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহাগ হাওলাদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার লাইজু, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মজিবুল হক কামালসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে সাহাবানুর হৃদয়বিদারক সংবাদ মিডিয়ায় প্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার একটি ঘর তুলে দেন। ঘরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিরা তাকে খাদ্য সহায়তা করে আসছে।

ঘর পাওয়ার পর তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এতকাল অনেক কষ্টে রইছি, মৌয়াতকালে একটু শান্তি পাইছি। এখন দুইডা টানা পাইলে আর একটু ভালো থাকমু।'

জানা গেছে, ২৫ বছর পূর্বে সাহাবানু ও তার একমাত্র পুত্র শাহজাহানকে রেখে স্বামী ইয়াছিন মারা যান। মারা যাওয়ার সময় বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই রেখে যাননি তিনি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সাহাবানু নিজে না খেয়েও একমাত্র ছেলেকে বড় করেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করার সময় হোঁচট খেয়ে কোমরে আঘাত পেয়ে আর কোমর সোজা করতে পারেননি।

এদিকে ছেলে বড় হয়ে মাকে বাড়িতে ফেলে রেখে বিয়ে করে আলাদা বাড়িতে থাকেন। মায়ের কোনো খোঁজখবর নেয়নি। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে হামাগুঁড়ি দিয়ে চলেন সাহাবানু। অনেক দুঃখে-কষ্টে চলে সাহাবানুর সংসার। বর্তমানে সাহাবানুর বয়স ৭০ বছর। স্থানীয় সাংবাদিকরা বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশ করলে বিষয়টি সবার নজরে আসে।

নাভানা গ্রুপের এজিএম আফজাল ইবনে নাজিম জানান, মিডিয়ায় প্রকাশিত সাহাবানুর হৃদয়বিদারক সংবাদ দেখে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। এখন থেকে মৃত্যুর আগপর্যন্ত সাহাবানুর সমস্ত দায়িত্ব নাভানা গ্রুপের। সাহাবানুর জন্য নগদ ২৫ হাজার টাকা স্থানীয় নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাহাবানুর যখন যা প্রয়োজন হবে সব কিছু স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

‘এতকাল অনেক কষ্টে রইছি, মৌয়াতকালে একটু শান্তি পাইছি’

 রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি 
০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৪৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

‘এতকাল অনেক কষ্টে রইছি, মৌয়াতকালে একটু শান্তি পাইছি। এখন দুইডা টানা পাইলে আর একটু ভালো থাকমু’- ঝালকাঠির রাজাপুরে গালুয়া ইউনিয়নের পুটিয়াখালি গ্রামের বিধবা সাহাবানুর হৃদয়বিদারক সংবাদ দেখে তাকে সাহায্য করতে আসে নাভানা গ্রুপের একটি টিম। 

নাভানা গ্রুপের ওই টিম বুধবার সকালে সহায়তা নিয়ে তার বাড়িতে আসে। এ সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহাগ হাওলাদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার লাইজু, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মজিবুল হক কামালসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে সাহাবানুর হৃদয়বিদারক সংবাদ মিডিয়ায় প্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার একটি ঘর তুলে দেন। ঘরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিরা তাকে খাদ্য সহায়তা করে আসছে।

ঘর পাওয়ার পর তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এতকাল অনেক কষ্টে রইছি, মৌয়াতকালে একটু শান্তি পাইছি। এখন দুইডা টানা পাইলে আর একটু ভালো থাকমু।'

জানা গেছে, ২৫ বছর পূর্বে সাহাবানু ও তার একমাত্র পুত্র শাহজাহানকে রেখে স্বামী ইয়াছিন মারা যান। মারা যাওয়ার সময় বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই রেখে যাননি তিনি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সাহাবানু নিজে না খেয়েও একমাত্র ছেলেকে বড় করেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করার সময় হোঁচট খেয়ে কোমরে আঘাত পেয়ে আর কোমর সোজা করতে পারেননি।

এদিকে ছেলে বড় হয়ে মাকে বাড়িতে ফেলে রেখে বিয়ে করে আলাদা বাড়িতে থাকেন। মায়ের কোনো খোঁজখবর নেয়নি। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে হামাগুঁড়ি দিয়ে চলেন সাহাবানু। অনেক দুঃখে-কষ্টে চলে সাহাবানুর সংসার। বর্তমানে সাহাবানুর বয়স ৭০ বছর। স্থানীয় সাংবাদিকরা বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশ করলে বিষয়টি সবার নজরে আসে।

নাভানা গ্রুপের এজিএম আফজাল ইবনে নাজিম জানান, মিডিয়ায় প্রকাশিত সাহাবানুর হৃদয়বিদারক সংবাদ দেখে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। এখন থেকে মৃত্যুর আগপর্যন্ত সাহাবানুর সমস্ত দায়িত্ব নাভানা গ্রুপের। সাহাবানুর জন্য নগদ ২৫ হাজার টাকা স্থানীয় নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাহাবানুর যখন যা প্রয়োজন হবে সব কিছু স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন