শেরপুরে সরকারি ধান-চাল ক্রয়ে সাড়া মিলছে না
jugantor
শেরপুরে সরকারি ধান-চাল ক্রয়ে সাড়া মিলছে না

  জাহাঙ্গীর ইসলাম, শেরপুর (বগুড়া)  

০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:৪৯:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার শেরপুরে চলতি আমন মৌসুমে সরকারি মূল্যের চেয়ে বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় ধান-চাল কেনায় সাড়া মিলছে না। মিলাররাও গুদামে চাল সরবরাহে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

গত বোরো মৌসুমের মতো আমন মৌসুমেও গুদামে চাল সরবরাহ করে লোকসানের আশঙ্কা করছেন মিলাররা। এ কারণে খাদ্য বিভাগ সময় বৃদ্ধি করলেও চালকল মালিকরা গুদামে চাল সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন না।

ফলে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে খাদ্য বিভাগ। বুধবার পর্যন্ত মাত্র দুইজন মিল মালিক খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
এদিকে চলতি আমন মৌসুমে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ১৭৮ জন লাইসেন্সধারী চালকল মালিককে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে খাদ্য বিভাগ।

গত বোরো মৌসুমে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করেও গুদামে চাল না দেয়ায় ৮৯ এবং চুক্তি না করায় ৮৯ জন মিল মালিককে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

শেরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ৪৫৩টি লাইসেন্সধারী চালকল রয়েছে। এর মধ্যে আমন চাল সরবরাহের জন্য ২৮০ জন চালকল মালিকের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট চালকল মালিকের নামে চালের বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় দুইটি সরকারি খাদ্যগুদামে চালকল মালিকদের কাছ থেকে ১১ হাজার ৮৮৭ মেট্রিক টন চাল এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে এক হাজার ৪৫২ মেট্রিক টন আমন ধান কেনা হবে। কৃষকদের মধ্য থেকে লটারি করে এবার ধান সংগ্রহ করা হবে। একজন কৃষক গুদামে সর্বোচ্চ ছয় মেট্রিক টন ধান দিতে পারবেন। এবার এক কেজি ধানের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ টাকা।

শেরপুর উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হানিফ উদ্দিন জানান, সরকার এক কেজি সিদ্ধ চাল সরবরাহের জন্য চালকল মালিকদের ৩৭ টাকা এবং এক কেজি আতপ চাল সরবরাহের জন্য ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে; যা বর্তমান বাজার মূল্যের অসঙ্গতিপূর্ণ।

তিনি জানান, সরকার ধান ও চালের যে দাম নির্ধারণ করেছেন তাও অসঙ্গতিপূর্ণ। সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসেবে প্রতি কেজি সিদ্ধ চালের মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৪১/৪২ টাকায়।

শেরপুর উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল কুদ্দুস জানান, সারা দেশের চালকল মালিকদের কেন্দ্রীয় সংগঠনের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে শেরপুরে কোনো মালিক সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন না।

তিনি জানান, সরকার ধানের সঙ্গে চালের দাম সমন্বয় করে চালের দাম বৃদ্ধি করলেই কেবল চালকল মালিকরা সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হবেন।

শেরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেকেন্দার রবিউল ইসলাম জানান, সরকার সময় বৃদ্ধি করায় আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবেন চালকলের মালিকরা। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গুদামে ধান ও চাল সরবরাহ করা যাবে।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত শেরপুর উপজেলায় ২৮০ জন লাইসেন্সধারী মিলারের মধ্যে মাত্র দুইজন মিলার তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

শেরপুরে সরকারি ধান-চাল ক্রয়ে সাড়া মিলছে না

 জাহাঙ্গীর ইসলাম, শেরপুর (বগুড়া) 
০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৪৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার শেরপুরে চলতি আমন মৌসুমে সরকারি মূল্যের চেয়ে বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় ধান-চাল কেনায় সাড়া মিলছে না। মিলাররাও গুদামে চাল সরবরাহে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

গত বোরো মৌসুমের মতো আমন মৌসুমেও গুদামে চাল সরবরাহ করে লোকসানের আশঙ্কা করছেন মিলাররা। এ কারণে খাদ্য বিভাগ সময় বৃদ্ধি করলেও চালকল মালিকরা গুদামে চাল সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন না।

ফলে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে খাদ্য বিভাগ। বুধবার পর্যন্ত মাত্র দুইজন মিল মালিক খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। 
এদিকে চলতি আমন মৌসুমে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ১৭৮ জন লাইসেন্সধারী চালকল মালিককে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে খাদ্য বিভাগ।

গত বোরো মৌসুমে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করেও গুদামে চাল না দেয়ায় ৮৯ এবং চুক্তি না করায় ৮৯ জন মিল মালিককে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

শেরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ৪৫৩টি লাইসেন্সধারী চালকল রয়েছে। এর মধ্যে আমন চাল সরবরাহের জন্য ২৮০ জন চালকল মালিকের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট চালকল মালিকের নামে চালের বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় দুইটি সরকারি খাদ্যগুদামে চালকল মালিকদের কাছ থেকে ১১ হাজার ৮৮৭ মেট্রিক টন চাল এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে এক হাজার ৪৫২ মেট্রিক টন আমন ধান কেনা হবে। কৃষকদের মধ্য থেকে লটারি করে এবার ধান সংগ্রহ করা হবে। একজন কৃষক গুদামে সর্বোচ্চ ছয় মেট্রিক টন ধান দিতে পারবেন। এবার এক কেজি ধানের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ টাকা।

শেরপুর উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হানিফ উদ্দিন জানান, সরকার এক কেজি সিদ্ধ চাল সরবরাহের জন্য চালকল মালিকদের ৩৭ টাকা এবং এক কেজি আতপ চাল সরবরাহের জন্য ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে; যা বর্তমান বাজার মূল্যের অসঙ্গতিপূর্ণ।

তিনি জানান, সরকার ধান ও চালের যে দাম নির্ধারণ করেছেন তাও অসঙ্গতিপূর্ণ। সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসেবে প্রতি কেজি সিদ্ধ চালের মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৪১/৪২ টাকায়।

শেরপুর উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল কুদ্দুস জানান, সারা দেশের চালকল মালিকদের কেন্দ্রীয় সংগঠনের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে শেরপুরে কোনো মালিক সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন না।

তিনি জানান, সরকার ধানের সঙ্গে চালের দাম সমন্বয় করে চালের দাম বৃদ্ধি করলেই কেবল চালকল মালিকরা সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হবেন।

শেরপুর  উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেকেন্দার রবিউল ইসলাম জানান, সরকার সময় বৃদ্ধি করায় আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবেন চালকলের মালিকরা। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গুদামে ধান ও চাল সরবরাহ করা যাবে।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত শেরপুর উপজেলায় ২৮০ জন লাইসেন্সধারী মিলারের মধ্যে মাত্র দুইজন মিলার তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন