পুকুরের কচুরিপানার নিচে মিলল নিখোঁজ যুবকের গলিত লাশ
jugantor
পুকুরের কচুরিপানার নিচে মিলল নিখোঁজ যুবকের গলিত লাশ

  চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি  

০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:৪০:৩৮  |  অনলাইন সংস্করণ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নিখোঁজের প্রায় দুই মাস পর এক যুবকের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়ির নিকটবর্তী একটি পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে শুক্রবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত যুবক আলমগীর হোসেন বিশ্বাস উপজেলার খাদিমপুর গ্রামের কাতব আলী বিশ্বাসের ছেলে। পুলিশ বলেছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড।

নিহত আলমগীরের পরিবারের অভিযোগ, তার বন্ধু একই গ্রামের শিপন আলী ও শিপনের ধর্ম ভগ্নিপতি মুফা বিশ্বাস টাকার লোভে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে রাখে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর বিকাল থেকে নিখোঁজ হন যুবক আলমগীর হোসেন বিশ্বাস (২৭)। অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পিতা কাতব আলী ২১ অক্টোবর আলমডাঙ্গা থানায় একটি জিডি করেন।

এদিকে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে আলমগীরের বাড়ির নিকটবর্তী উজ্জ্বল মোল্লার লোকজন পুকুরের কচুরিপানা পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় কচুরিপানার নিচে চাপা দিয়ে রাখা আলমগীরের লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়।

আলমডাঙ্গা থানার ওসি আলমগীর কবির সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে যুবক আলমগীর বিশ্বাসের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেন।

নিহত আলমগীর বিশ্বাসের প্রতিবেশীরা জানান, আলমগীর বিশ্বাস গরু পালত এবং মোটাতাজার পর বিক্রি করত। এ কারণে সব সময় তার কাছে নগদ টাকা থাকত। আলমগীর নিখোঁজ হওয়ার সময়ও তার কাছে অনেক টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন ছিল।

নিহত আলমগীর হোসেন বিশ্বাসের বড়ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস অভিযোগ করেন, একই গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে শিপন অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিল আলমগীরের। আলমগীর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন এক স্কুলছাত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় আলুকদিয়া বাজারের নৈশপ্রহরীর হাতে ধরা পড়ে শিপন। এরপর তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

তিনি জানান, ওই সময় শিপনের কাছ থেকে নগদ ৫৩ হাজার টাকা পুলিশ উদ্ধার করে। পুলিশকে ওই টাকার মধ্যে ২০ হাজার টাকা দিয়ে শিপনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান তার স্বজনরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি আবু জিহাদ খান জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। থানায় সব কিছু রেকর্ড থাকে। ওই দিন এমন কোনো ঘটনা চুয়াডাঙ্গা থানায় হয়নি।

নিহত আলমগীর বিশ্বাসের বোন চানমনি ও ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শুক্রবার সকালে আলমগীরের লাশ উদ্ধারের পর থেকে গ্রামের শিপন ও মুফা সটকে পড়েছে।

তারা অভিযোগ করেন, আলমগীর নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আলমগীরের বন্ধু শিপন এবং শিপনের ধর্ম দুলাভাই একই গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে প্রভাবশালী মুফা বিশ্বাস বিভিন্নভাবে আমাদের বিভ্রান্ত করতে থাকে। মুফা আমাদের ওই সময় বলেছিল বেশি খোঁজাখুঁজি বা মামলার দরকার নেই। মাসখানেকের মধ্যে ঠিকই আলমগীর ফিরে আসবে। আমরা ২১ অক্টোবর আলমডাঙ্গা থানায় শিপন ও মুফা বিশ্বাসের নামে জিডি করতে যাই কিন্তু পুলিশ জিডি নিলেও জিডিতে তাদের নাম উল্লেখ করতে দেয়নি। পুলিশ বলেছিল এখন কারও নামে জিডি করলে পরে যদি আলমগীর ফিরে আসে?

এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা থানার ওসি আলমগীর কবির যুগান্তরকে বলেন, ওই সময় তারা আলমডাঙ্গা থানায় একটা সাধারণ জিডি করেছিল। তাতে কারও নাম উল্লেখ নেই। তবে এখন যেহেতু তারা অভিযোগ করছেন অবশ্যই আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব। ঘাতক যে বা যারাই হোক শিগগিরই খুঁজে গ্রেফতার করা হবে।

পুকুরের কচুরিপানার নিচে মিলল নিখোঁজ যুবকের গলিত লাশ

 চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি 
০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৪০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নিখোঁজের প্রায় দুই মাস পর এক যুবকের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়ির নিকটবর্তী একটি পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে শুক্রবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত যুবক আলমগীর হোসেন বিশ্বাস উপজেলার খাদিমপুর গ্রামের কাতব আলী বিশ্বাসের ছেলে। পুলিশ বলেছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড।

নিহত আলমগীরের পরিবারের অভিযোগ, তার বন্ধু একই গ্রামের শিপন আলী ও শিপনের ধর্ম ভগ্নিপতি মুফা বিশ্বাস টাকার লোভে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে রাখে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর বিকাল থেকে নিখোঁজ হন যুবক আলমগীর হোসেন বিশ্বাস (২৭)। অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পিতা কাতব আলী ২১ অক্টোবর আলমডাঙ্গা থানায় একটি জিডি করেন।

এদিকে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে আলমগীরের বাড়ির নিকটবর্তী উজ্জ্বল মোল্লার লোকজন পুকুরের কচুরিপানা পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় কচুরিপানার নিচে চাপা দিয়ে রাখা আলমগীরের লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়।

আলমডাঙ্গা থানার ওসি আলমগীর কবির সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে যুবক আলমগীর বিশ্বাসের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেন।

নিহত আলমগীর বিশ্বাসের প্রতিবেশীরা জানান, আলমগীর বিশ্বাস গরু পালত এবং মোটাতাজার পর বিক্রি করত। এ কারণে সব সময় তার কাছে নগদ টাকা থাকত। আলমগীর নিখোঁজ হওয়ার সময়ও তার কাছে অনেক টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন ছিল।

নিহত আলমগীর হোসেন বিশ্বাসের বড়ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস অভিযোগ করেন, একই গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে শিপন অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিল আলমগীরের। আলমগীর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন এক স্কুলছাত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় আলুকদিয়া বাজারের নৈশপ্রহরীর হাতে ধরা পড়ে শিপন। এরপর তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

তিনি জানান, ওই সময় শিপনের কাছ থেকে নগদ ৫৩ হাজার টাকা পুলিশ উদ্ধার করে। পুলিশকে ওই টাকার মধ্যে ২০ হাজার টাকা দিয়ে শিপনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান তার স্বজনরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি আবু জিহাদ খান জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। থানায় সব কিছু রেকর্ড থাকে। ওই দিন এমন কোনো ঘটনা চুয়াডাঙ্গা থানায় হয়নি।

নিহত আলমগীর বিশ্বাসের বোন চানমনি ও ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শুক্রবার সকালে আলমগীরের লাশ উদ্ধারের পর থেকে গ্রামের শিপন ও মুফা সটকে পড়েছে।

তারা অভিযোগ করেন, আলমগীর নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আলমগীরের বন্ধু শিপন এবং শিপনের ধর্ম দুলাভাই একই গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে প্রভাবশালী মুফা বিশ্বাস বিভিন্নভাবে আমাদের বিভ্রান্ত করতে থাকে। মুফা আমাদের ওই সময় বলেছিল বেশি খোঁজাখুঁজি বা মামলার দরকার নেই। মাসখানেকের মধ্যে ঠিকই আলমগীর ফিরে আসবে। আমরা ২১ অক্টোবর আলমডাঙ্গা থানায় শিপন ও মুফা বিশ্বাসের নামে জিডি করতে যাই কিন্তু পুলিশ জিডি নিলেও জিডিতে তাদের নাম উল্লেখ করতে দেয়নি। পুলিশ বলেছিল এখন কারও নামে জিডি করলে পরে যদি আলমগীর ফিরে আসে?

এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা থানার ওসি আলমগীর কবির যুগান্তরকে বলেন, ওই সময় তারা আলমডাঙ্গা থানায় একটা সাধারণ জিডি করেছিল। তাতে কারও নাম উল্লেখ নেই। তবে এখন যেহেতু তারা অভিযোগ করছেন অবশ্যই আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব। ঘাতক যে বা যারাই হোক শিগগিরই খুঁজে গ্রেফতার করা হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন