যে কারণে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে বিদ্যালয়টি
jugantor
যে কারণে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে বিদ্যালয়টি

  ফরিদ আহম্মেদ রুবেল, শ্রীবরদী (শেরপুর)  

০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:১০:০৮  |  অনলাইন সংস্করণ

পরিবারতন্ত্রের জালে আটকে আছে শেরপুরের শ্রীবরদীর ভটপুর এইচইউ উচ্চ বিদ্যালয়। ক্রমেই ভেঙে পড়ছে শিক্ষা কার্যক্রমসহ অবকাঠামো। ব্রিটিশ আমলের আলোচিত এ বিদ্যালয়টি নিয়ে সচেতন মানুষের মাঝে উঠছে নানা প্রশ্ন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে বলেন, একই ব্যক্তি প্রায় ২০ বছর যাবত রয়েছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে। প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ বেশ কয়েকজন ওই বিদ্যালয়ের সভাপতির কাছের আত্মীয়। এতে ব্যাহত হচ্ছে উন্নয়ন ও শিক্ষা কার্যক্রম।

জানা যায়, ভটপুর এইচইউ উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৯৪৪ সালে। এ বিদ্যালয়ে ভূমির পরিমাণ প্রায় ৩ একর। এর মধ্যে প্রায় এক একর ভূমিতে বিদ্যালয় ভবনসহ রয়েছে বিশাল একটি খেলার মাঠ।

ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত বিদ্যালয়টির এক সময় এলাকায় ছিল ব্যাপক নাম-ডাক। ছাত্রছাত্রী ছিল ভরপুর। পড়ালেখার মান ছিল খুবই ভালো। ওই বিদ্যালয় মাঠে প্রায় সারা বছর খেলাধুলায় মেতে থাকত শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় শিশু-কিশোররা। বিদ্যালয় মাঠকে কেন্দ্র করে চলত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানা কার্যক্রম। কালের বিবর্তনে হারিয়েছে বিদ্যালয়টির ঐতিহ্য।

এলাকার সচেতন মানুষের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ ভূমি বেহাত হয়েছে। ভূমি উদ্ধারে নেই কোনো তৎপরতা। দিন দিন কমছে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা।

সভাপতি আব্দুল হালিমের বোনের মেয়ে তাহমিনা ইয়াসমিন প্রধান শিক্ষক, আরেক বোনের ছেলে নাজমূল হাসান রোমান সহকারী প্রধান শিক্ষক, ছোটভাই মোকারম বিল্লাহ সহকারী লাইব্রেরিয়ানসহ বেশ কয়েকজন নিকটাত্মীয় চাকরি করছেন।

সভাপতির ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় বিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না। নিয়মানুযায়ী বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয় ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেনের কথা থাকলেও তা হয় না।

এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তাহমিনা ইয়াসমিন বলেন, ২০১০ সালে আমি সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। বর্তমানে বিদ্যালয়ের দুই একর ৪৮ শতাংশ ভূমির খাজনা পরিশোধ করা আছে। এর মধ্যে এক একর ২০ শতাংশ ভূমি বিদ্যালয় ভবন ও খেলার মাঠ। বেদখল হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ ভূমি। অবশিষ্ট ভূমি সাবেক প্রধান শিক্ষক কীভাবে, কত বছর যাবত লিজ দিয়েছেন তা আমি জানি না।

এসব নানা অনিয়ম অস্বীকার করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, বিদ্যালয়টির ভূমি নিয়ে সমস্যা আগে থেকেই। তবে এসব সমস্যা নিরসনে কমিটির সদস্য ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আলম তালুকদার বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন ব্যতীত আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ বিধিসম্মত নয়। তবে এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যে কারণে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে বিদ্যালয়টি

 ফরিদ আহম্মেদ রুবেল, শ্রীবরদী (শেরপুর) 
০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:১০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পরিবারতন্ত্রের জালে আটকে আছে শেরপুরের শ্রীবরদীর ভটপুর এইচইউ উচ্চ বিদ্যালয়। ক্রমেই ভেঙে পড়ছে শিক্ষা কার্যক্রমসহ অবকাঠামো। ব্রিটিশ আমলের আলোচিত এ বিদ্যালয়টি নিয়ে সচেতন মানুষের মাঝে উঠছে নানা প্রশ্ন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে বলেন, একই ব্যক্তি প্রায় ২০ বছর যাবত রয়েছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে। প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ বেশ কয়েকজন ওই বিদ্যালয়ের সভাপতির কাছের আত্মীয়। এতে ব্যাহত হচ্ছে উন্নয়ন ও শিক্ষা কার্যক্রম।

জানা যায়, ভটপুর এইচইউ উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৯৪৪ সালে। এ বিদ্যালয়ে ভূমির পরিমাণ প্রায় ৩ একর। এর মধ্যে প্রায় এক একর ভূমিতে বিদ্যালয় ভবনসহ রয়েছে বিশাল একটি খেলার মাঠ।

ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত বিদ্যালয়টির এক সময় এলাকায় ছিল ব্যাপক নাম-ডাক। ছাত্রছাত্রী ছিল ভরপুর। পড়ালেখার মান ছিল খুবই ভালো। ওই বিদ্যালয় মাঠে প্রায় সারা বছর খেলাধুলায় মেতে থাকত শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় শিশু-কিশোররা। বিদ্যালয় মাঠকে কেন্দ্র করে চলত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানা কার্যক্রম। কালের বিবর্তনে হারিয়েছে বিদ্যালয়টির ঐতিহ্য।

এলাকার সচেতন মানুষের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ ভূমি বেহাত হয়েছে। ভূমি উদ্ধারে নেই কোনো তৎপরতা। দিন দিন কমছে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা।

সভাপতি আব্দুল হালিমের বোনের মেয়ে তাহমিনা ইয়াসমিন প্রধান শিক্ষক, আরেক বোনের ছেলে নাজমূল হাসান রোমান সহকারী প্রধান শিক্ষক, ছোটভাই মোকারম বিল্লাহ সহকারী লাইব্রেরিয়ানসহ বেশ কয়েকজন নিকটাত্মীয় চাকরি করছেন।

সভাপতির ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় বিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না। নিয়মানুযায়ী বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয় ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেনের কথা থাকলেও তা হয় না।

এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তাহমিনা ইয়াসমিন বলেন, ২০১০ সালে আমি সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। বর্তমানে বিদ্যালয়ের দুই একর ৪৮ শতাংশ ভূমির খাজনা পরিশোধ করা আছে। এর মধ্যে এক একর ২০ শতাংশ ভূমি বিদ্যালয় ভবন ও খেলার মাঠ। বেদখল হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ ভূমি। অবশিষ্ট ভূমি সাবেক প্রধান শিক্ষক কীভাবে, কত বছর যাবত লিজ দিয়েছেন তা আমি জানি না।

এসব নানা অনিয়ম অস্বীকার করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, বিদ্যালয়টির ভূমি নিয়ে সমস্যা আগে থেকেই। তবে এসব সমস্যা নিরসনে কমিটির সদস্য ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আলম তালুকদার বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন ব্যতীত আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ বিধিসম্মত নয়। তবে এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন