মেঘনায় পিতা হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধনে ৩ প্রতিবন্ধী সন্তান
jugantor
মেঘনায় পিতা হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধনে ৩ প্রতিবন্ধী সন্তান

  মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি  

০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১৫:২৪:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী দুই ভাইবোন। আরেক বোন শারীরিক প্রতিবন্ধী। এই প্রতিবন্ধকতা নিয়েই মানববন্ধনে এসে অশ্রু সজল চোখে পিতা হত্যার বিচার চাইলেন কুমিল্লার মেঘনার নিহত গোলাম মহিউদ্দিনের সন্তানেরা।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন (বিএইচআরসি) মেঘনা উপজেলা শাখা। এই মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অসহায় সন্তানেরা।

শনিবার সকাল সোয়া ১০টায় উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে বাসস্ট্যান্ডে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন শেষে র‌্যালি নিয়ে থানার ওসির কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।

মানববন্ধনে মেঘনা উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের আহ্বায়ক মাহবুব উল্লাহ শিকদার বলেন, মেঘনার শিবনগর গ্রামের গোলাম মহিউদ্দিন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

সংবাদ পেয়ে আমরা তার বাড়িতে গিয়ে দেখতে পাই তিনটি প্রতিবন্ধী সন্তান। পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন মহিউদ্দিন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পরিবারটি পুরোপুরি অসহায়।

যেহেতু এ হত্যামামলার আসামিরা এখনো আইনের আওতায় আসেনি, আমরা এই মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে মানবাধিকার কমিশন মেঘনা শাখার পক্ষ থেকে বলছি, সিভিল প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন আপনারা পারেন সব কিছুই।

আপনারা যদি চেষ্টা করেন এই অসহায় পরিবারের পক্ষে দাড়িয়ে আসামিরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তাদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের মুখোমুখি করতে পারেন।

মেঘনা উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের উপদেষ্টা খালেক মাস্টার বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং প্রশাসন, মিডিয়া ও প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে জোর দাবি জানাই- এই হত্যাকাণ্ডের যেন কঠিন থেকে কঠিনতর বিচার হয়। যারা দোষী তাদের যেন ফাঁসি হয়।

শুধু মানবাধিকার কর্মী নয়, উপজেলা চেয়ারম্যান, প্রতিটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ সর্বস্তরের জনগণকে এ হত্যার বিচার দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মানববন্ধনে উপজেলার মানবাধিকার কর্মী, সাধারণ মানুষ ও নিহত মহিউদ্দিনের স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, মহিউদ্দিন হত্যার ২২ দিন হয়ে গেছে কিন্তু এখনো কোনো আসামি ধরা পড়েনি। বিষয়টি নিয়ে মহিউদ্দিনের পরিবার হতাশ হয়ে পড়েছে। আসামিদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় এনে ন্যায় বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করা হয় স্মারকলিপিতে।

উল্লেখ্য, জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য গত ১২ নভেম্বর মুজিবসেনা ঐক্যলীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে সালিশের মধ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয় গোলাম মহিউদ্দিনকে। এ ঘটনায় ১৪ নভেম্বর নিহতের স্ত্রী মাফিয়া বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মেঘনায় পিতা হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধনে ৩ প্রতিবন্ধী সন্তান

 মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 
০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী দুই ভাইবোন। আরেক বোন শারীরিক প্রতিবন্ধী। এই প্রতিবন্ধকতা নিয়েই মানববন্ধনে এসে অশ্রু সজল চোখে পিতা হত্যার বিচার চাইলেন কুমিল্লার মেঘনার নিহত গোলাম মহিউদ্দিনের সন্তানেরা।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন (বিএইচআরসি) মেঘনা উপজেলা শাখা।  এই মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অসহায় সন্তানেরা।

শনিবার সকাল সোয়া ১০টায় উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে বাসস্ট্যান্ডে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন শেষে র‌্যালি নিয়ে থানার ওসির কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।

মানববন্ধনে মেঘনা উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের আহ্বায়ক মাহবুব উল্লাহ শিকদার বলেন, মেঘনার শিবনগর গ্রামের গোলাম মহিউদ্দিন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

সংবাদ পেয়ে আমরা তার বাড়িতে গিয়ে দেখতে পাই তিনটি প্রতিবন্ধী সন্তান। পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন মহিউদ্দিন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পরিবারটি পুরোপুরি অসহায়।

যেহেতু এ হত্যামামলার আসামিরা এখনো আইনের আওতায় আসেনি, আমরা এই মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে মানবাধিকার কমিশন মেঘনা শাখার পক্ষ থেকে বলছি, সিভিল প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন আপনারা পারেন সব কিছুই।

আপনারা যদি চেষ্টা করেন এই অসহায় পরিবারের পক্ষে দাড়িয়ে আসামিরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তাদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের মুখোমুখি করতে পারেন।

মেঘনা উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের উপদেষ্টা খালেক মাস্টার বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং প্রশাসন, মিডিয়া ও প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে জোর দাবি জানাই- এই হত্যাকাণ্ডের যেন কঠিন থেকে কঠিনতর বিচার হয়।  যারা দোষী তাদের যেন ফাঁসি হয়।

শুধু মানবাধিকার কর্মী নয়, উপজেলা চেয়ারম্যান, প্রতিটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ সর্বস্তরের জনগণকে এ হত্যার বিচার দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মানববন্ধনে উপজেলার মানবাধিকার কর্মী, সাধারণ মানুষ ও নিহত মহিউদ্দিনের স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।  

স্মারকলিপিতে বলা হয়, মহিউদ্দিন হত্যার ২২ দিন হয়ে গেছে কিন্তু এখনো কোনো আসামি ধরা পড়েনি। বিষয়টি নিয়ে মহিউদ্দিনের পরিবার হতাশ হয়ে পড়েছে। আসামিদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় এনে ন্যায় বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করা হয় স্মারকলিপিতে।

উল্লেখ্য, জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য গত ১২ নভেম্বর মুজিবসেনা ঐক্যলীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে সালিশের মধ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয় গোলাম মহিউদ্দিনকে।  এ ঘটনায় ১৪ নভেম্বর নিহতের স্ত্রী মাফিয়া বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন