প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া কিশোরের খুদেবার্তায় জমিসহ বাড়ি পেল রমজান
jugantor
প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া কিশোরের খুদেবার্তায় জমিসহ বাড়ি পেল রমজান

  টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি  

০৭ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৪৯:৪৬  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি এড়ায়নি এক কিশোরের পাঠানো মোবাইল খুদেবার্তাও (ম্যাসেজ)। দেশের একপ্রান্ত সুদূর টেকনাফের এক অজপাড়ার কিশোরের খুদেবার্তাটিও যেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোনো ফেলনা বিষয় নয়।

এমন একটি মোবাইল বার্তা নিয়েও সাড়া দিয়েছেন তিনি। জমিসহ তৈরি করে দেয়া হয়েছে টিনশেড সেমিপাকা বাড়ি।

সোমবার কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের একজন হতদরিদ্র রিকশাচালককে জমি ও একটি বাড়ির চাবি ও দলিল হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এসব তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

এ সময় টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল মনসুর, টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী, হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনর রশিদ সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হকসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মিডিয়াকর্মী ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকার মামুন (১৭) নামের এক কিশোর মাসদুয়েক আগে প্রধানমন্ত্রীর মোবাইলে একটি খুদেবার্তা প্রেরণ করে। মামুন প্রধানমন্ত্রীকে জানায়- ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি এক অসহায় পরিবারের সন্তান। আমাদের জমিও নেই ঘরও নেই। আপনার সহযোগিতা চাই।’

জেলা প্রশাসক বলেন- ‘প্রধানমন্ত্রী নিজের মোবাইলে এরকম খুদেবার্তা পেয়েই নির্দেশনা প্রদান করেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।’ এরপর জেলা প্রশাসক টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ব্যাপারটি অবহিত করেন। টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিন গিয়ে মামুন নামের সেই কিশোরকে খুঁজে বের করে তাকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে যান। মামুনের কাছে বিস্তারিত জেনে জেলা প্রশাসক ও টেকনাফের ইউএনও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেন।

ব্যাপারটি অনেকের কাছেই যেন অবিশ্বাস্য। এ রকম ঘটনা নিয়ে অনেকেই হয়ে পড়েছেন রীতিমতো হতবাকও।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের কাটাখালী গ্রামের বাসিন্দা রিকশাচালক রমজান আলী এখন ২০ শতক জমির মালিক (সাড়ে ১২ কাঠা)। সেই জমিতে রাতারাতি নির্মিত হয়েছে টিনশেড একটি পাকা বাড়িও। আশপাশ এলাকায় এরকম কারও প্রাপ্তির কোনো খবর নেই। তাই আকস্মিক নিঃস্ব রিকশাচালক রমজান আলীর জমি ও বাড়ি প্রাপ্তির ঘটনাটি সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

মামুন জানায়- ‘পরিবারে লাগাতার অভাব-অনটনে একসময় দিশেহারা হয়ে পড়ি। তারপর সিদ্ধান্ত নিই প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন হব। প্রধানমন্ত্রীর মোবাইল নম্বর খুঁজে বের করে সাহস করে মোবাইলে দুয়েকবার সরাসরি রিং দেই; কিন্তু মোবাইল রিসিভ না হওয়ায় সে সিদ্ধান্ত নেয়-এবার সে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খুদেবার্তা (ম্যাসেজ) প্রেরণ করবে। যেই চিন্তা সেই কাজ। ম্যাসেজ পাঠানোর পরের দিন থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর লোকজন। মাত্র দুই মাসের মধ্যে তার একখণ্ড স্বপ্নের জমি ও ঘর পেয়ে যায়। এজন্য সে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।'

মামুনরা ৪ ভাই ও এক বোন। বোনের বিয়ে হয়েছে। তার বাবা-মাসহ বর্তমানে ৬ জনের সংসার। নিজেদের কোনো জমি এবং ঘর নেই। বন বিভাগের জমিতে একটি জীর্ণশীর্ণ কুঠিরে বসবাস তাদের। পুরো সংসার হতভাগা রিকশাচালক বাবা রমজান আলীর কাঁধের ওপর। অভাবের কারণে অষ্টম শ্রেণি থেকেই পাঠ চুকিয়ে নিতে বাধ্য হয় সে। কিশোর মামুন এরপর একটি দোকানে মাসিক তিন হাজার টাকায় চাকরি নেয় কিন্তু লকডাউনের কারণে সেই চাকরিও এখন নেই। ছোট তিন ভাইয়ের মধ্যে দুজন নুরানি মাদ্রাসায় পড়ে।

প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া কিশোরের খুদেবার্তায় জমিসহ বাড়ি পেল রমজান

 টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 
০৭ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৪৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি এড়ায়নি এক কিশোরের পাঠানো মোবাইল খুদেবার্তাও (ম্যাসেজ)। দেশের একপ্রান্ত সুদূর টেকনাফের এক অজপাড়ার কিশোরের খুদেবার্তাটিও যেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোনো ফেলনা বিষয় নয়।

এমন একটি মোবাইল বার্তা নিয়েও সাড়া দিয়েছেন তিনি। জমিসহ তৈরি করে দেয়া হয়েছে টিনশেড সেমিপাকা বাড়ি।

সোমবার কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের একজন হতদরিদ্র রিকশাচালককে জমি ও একটি বাড়ির চাবি ও দলিল হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এসব তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

এ সময় টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল মনসুর, টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী, হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনর রশিদ সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হকসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মিডিয়াকর্মী ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকার মামুন (১৭) নামের এক কিশোর মাসদুয়েক আগে প্রধানমন্ত্রীর মোবাইলে একটি খুদেবার্তা প্রেরণ করে। মামুন প্রধানমন্ত্রীকে জানায়- ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি এক অসহায় পরিবারের সন্তান। আমাদের জমিও নেই ঘরও নেই। আপনার সহযোগিতা চাই।’

জেলা প্রশাসক বলেন- ‘প্রধানমন্ত্রী নিজের মোবাইলে এরকম খুদেবার্তা পেয়েই নির্দেশনা প্রদান করেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।’ এরপর জেলা প্রশাসক টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ব্যাপারটি অবহিত করেন। টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিন গিয়ে মামুন নামের সেই কিশোরকে খুঁজে বের করে তাকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে যান। মামুনের কাছে বিস্তারিত জেনে জেলা প্রশাসক ও টেকনাফের ইউএনও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেন।

ব্যাপারটি অনেকের কাছেই যেন অবিশ্বাস্য। এ রকম ঘটনা নিয়ে অনেকেই হয়ে পড়েছেন রীতিমতো হতবাকও।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের কাটাখালী গ্রামের বাসিন্দা রিকশাচালক রমজান আলী এখন ২০ শতক জমির মালিক (সাড়ে ১২ কাঠা)। সেই জমিতে রাতারাতি নির্মিত হয়েছে টিনশেড একটি পাকা বাড়িও। আশপাশ এলাকায় এরকম কারও প্রাপ্তির কোনো খবর নেই। তাই আকস্মিক নিঃস্ব রিকশাচালক রমজান আলীর জমি ও বাড়ি প্রাপ্তির ঘটনাটি সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

মামুন জানায়- ‘পরিবারে লাগাতার অভাব-অনটনে একসময় দিশেহারা হয়ে পড়ি। তারপর সিদ্ধান্ত নিই প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন হব। প্রধানমন্ত্রীর মোবাইল নম্বর খুঁজে বের করে সাহস করে মোবাইলে দুয়েকবার সরাসরি রিং দেই; কিন্তু মোবাইল রিসিভ না হওয়ায় সে সিদ্ধান্ত নেয়-এবার সে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খুদেবার্তা (ম্যাসেজ) প্রেরণ করবে। যেই চিন্তা সেই কাজ। ম্যাসেজ পাঠানোর পরের দিন থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর লোকজন। মাত্র দুই মাসের মধ্যে তার একখণ্ড স্বপ্নের জমি ও ঘর পেয়ে যায়। এজন্য সে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।'

মামুনরা ৪ ভাই ও এক বোন। বোনের বিয়ে হয়েছে। তার বাবা-মাসহ বর্তমানে ৬ জনের সংসার। নিজেদের কোনো জমি এবং ঘর নেই। বন বিভাগের জমিতে একটি জীর্ণশীর্ণ কুঠিরে বসবাস তাদের। পুরো সংসার হতভাগা রিকশাচালক বাবা রমজান আলীর কাঁধের ওপর। অভাবের কারণে অষ্টম শ্রেণি থেকেই পাঠ চুকিয়ে নিতে বাধ্য হয় সে। কিশোর মামুন এরপর একটি দোকানে মাসিক তিন হাজার টাকায় চাকরি নেয় কিন্তু লকডাউনের কারণে সেই চাকরিও এখন নেই। ছোট তিন ভাইয়ের মধ্যে দুজন নুরানি মাদ্রাসায় পড়ে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন