যে উপজেলায় চলে না যাত্রীবাহী বাস!
jugantor
যে উপজেলায় চলে না যাত্রীবাহী বাস!

  একরাম তালুকদার, দিনাজপুর  

০৯ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:২৩:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

বাস

সড়ক আছে, আছে ব্রিজ-কালভার্টও। এরপরও যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে না দিনাজপুরের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা খানসামায়। উপজেলার প্রায় ২০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক দখল করে আছে ভটভটি, নসিমন, অটোরিকশা আর ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যান।

বাস চলাচল না করার কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও এসব অবৈধ যানবাহনেই চলাচল করতে হচ্ছে প্রায় ২ লাখ মানুষকে। অবৈধ এসব বাহনে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, ঘটছে প্রাণহানিও।

আধুনিক যুগেও জনগণের এ দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে খোদ সরকার দলের নেতারই অভিযোগ করেন, সুবিধাবাদী একটি চক্রের কারণেই বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও এ উপজেলায় চলাচল করতে পারছে না যাত্রীবাহী বাস।

দিনাজপুর জেলা সদর থেকে খানসামা উপজেলার সড়কপথে দূরত্ব ৪২ কিলোমিটার। আর এখান থেকে নীলফামারী জেলা সদরের দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। সৈয়দপুরের দূরত্ব ২২ কিলোমিটার এবং বীরগঞ্জের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। উপজেলা সদর থেকে এসব স্থানে নির্মিত হয়েছে আধুনিক পাকা সড়ক। কিন্তু গত ১৫ বছর ধরে খানসামা উপজেলায় বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী বাস।

দিনাজপুর মোটর পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাহেদ রিয়াজ চৌধুরী পিম জানান, দিনাজপুর জেলার অভ্যন্তরীণ ১৫টি রুটে তাদের বাস চলাচল করে প্রায় ৩০০টি। জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১২টিতেই চলাচল করে যাত্রীবাহী বাস। একমাত্র খানসামা উপজেলায় তাদের বাস চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য হতে হয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় অবৈধ নছিমন, ভটভটি, অটোরিকশা আর ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যান চালক সমিতির চাপেই তারা এ উপজেলায় বাস চালাতে পারছেন না। এজন্য প্রশাসনিক দুর্বলতাকেই দায়ী করেন তিনি।

দিনাজপুর খানসামা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, আধুনিক সভ্যতার এ যুগে আমাদের উপজেলায় কোনো যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে না, এটা আমাদের জন্য লজ্জাকর।

তিনি বলেন, গত দেড় বছর আগে এ উপজেলায় বিআরটিসির বাস চলাচলের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল এবং চালুও হয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ না চলতেই অবৈধ যানবাহন চলাচলকারীদের চাপে বন্ধ করতে বাধ্য হতে হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কারণেই এ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চলাচল করানো সম্ভব হচ্ছে না।

খানসামা উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চলাচল না করলেও রয়েছে মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের শাখা। স্থানীয় শ্রমিক নেতা তালহা চৌধুরী এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হলেও বর্তমানে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে।

যুগান্তরকে তিনি জানান, রাস্তা সরু হওয়ার কারণে গত ১৫ বছর আগে এ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ হয়েছে। তবে তিনি জানান, বর্তমানে রাস্তাগুলো ভালো হওয়ায় আবার বাস চলাচলের জন্য মোটর মালিক সমিতিকে জানানো হয়েছে। এর আগেও স্থানীয় এমপি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর কাছে বাস চলাচল করার জন্য পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল কিন্তু কোনো ফল হয়নি।

এ বিষয়ে খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ মাহবুব-উল ইসলাম জানান, এ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চালু করতে হলে স্থানীয় উদ্যোক্তাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশাসনিকভাবে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। তবে সম্প্রতি এ উপজেলা থেকে ঢাকাগামী দুটি বাস চালু হয়েছে বলে জানান তিনি।

যে উপজেলায় চলে না যাত্রীবাহী বাস!

 একরাম তালুকদার, দিনাজপুর 
০৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:২৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বাস
ফাইল ছবি

সড়ক আছে, আছে ব্রিজ-কালভার্টও। এরপরও যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে না দিনাজপুরের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা খানসামায়। উপজেলার প্রায় ২০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক দখল করে আছে ভটভটি, নসিমন, অটোরিকশা আর ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যান।

বাস চলাচল না করার কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও এসব অবৈধ যানবাহনেই চলাচল করতে হচ্ছে প্রায় ২ লাখ মানুষকে। অবৈধ এসব বাহনে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, ঘটছে প্রাণহানিও।

আধুনিক যুগেও জনগণের এ দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে খোদ সরকার দলের নেতারই অভিযোগ করেন, সুবিধাবাদী একটি চক্রের কারণেই বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও এ উপজেলায় চলাচল করতে পারছে না যাত্রীবাহী বাস।

দিনাজপুর জেলা সদর থেকে খানসামা উপজেলার সড়কপথে দূরত্ব ৪২ কিলোমিটার। আর এখান থেকে নীলফামারী জেলা সদরের দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। সৈয়দপুরের দূরত্ব ২২ কিলোমিটার এবং বীরগঞ্জের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। উপজেলা সদর থেকে এসব স্থানে নির্মিত হয়েছে আধুনিক পাকা সড়ক। কিন্তু গত ১৫ বছর ধরে খানসামা উপজেলায় বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী বাস।

দিনাজপুর মোটর পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাহেদ রিয়াজ চৌধুরী পিম জানান, দিনাজপুর জেলার অভ্যন্তরীণ ১৫টি রুটে তাদের বাস চলাচল করে প্রায় ৩০০টি। জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১২টিতেই চলাচল করে যাত্রীবাহী বাস। একমাত্র খানসামা উপজেলায় তাদের বাস চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য হতে হয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় অবৈধ নছিমন, ভটভটি, অটোরিকশা আর ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যান চালক সমিতির চাপেই তারা এ উপজেলায় বাস চালাতে পারছেন না। এজন্য প্রশাসনিক দুর্বলতাকেই দায়ী করেন তিনি।

দিনাজপুর খানসামা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, আধুনিক সভ্যতার এ যুগে আমাদের উপজেলায় কোনো যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে না, এটা আমাদের জন্য লজ্জাকর।

তিনি বলেন, গত দেড় বছর আগে এ উপজেলায় বিআরটিসির বাস চলাচলের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল এবং চালুও হয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ না চলতেই অবৈধ যানবাহন চলাচলকারীদের চাপে বন্ধ করতে বাধ্য হতে হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কারণেই এ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চলাচল করানো সম্ভব হচ্ছে না।

খানসামা উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চলাচল না করলেও রয়েছে মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের শাখা। স্থানীয় শ্রমিক নেতা তালহা চৌধুরী এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হলেও বর্তমানে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে।

যুগান্তরকে তিনি জানান, রাস্তা সরু হওয়ার কারণে গত ১৫ বছর আগে এ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ হয়েছে। তবে তিনি জানান, বর্তমানে রাস্তাগুলো ভালো হওয়ায় আবার বাস চলাচলের জন্য মোটর মালিক সমিতিকে জানানো হয়েছে। এর আগেও স্থানীয় এমপি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর কাছে বাস চলাচল করার জন্য পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল কিন্তু কোনো ফল হয়নি।

এ বিষয়ে খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ মাহবুব-উল ইসলাম জানান, এ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চালু করতে হলে স্থানীয় উদ্যোক্তাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশাসনিকভাবে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। তবে সম্প্রতি এ উপজেলা থেকে ঢাকাগামী দুটি বাস চালু হয়েছে বলে জানান তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন