শীত তীব্র না হলেও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত উত্তরের জনপদ
jugantor
শীত তীব্র না হলেও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত উত্তরের জনপদ

  একরাম তালুকদার, দিনাজপুর  

১০ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৪০:২৮  |  অনলাইন সংস্করণ

শীতের দাপট তেমন বেশি না থাকলেও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দিনাজপুরসহ দেশের উত্তর জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তবে উত্তরের হিমেল বায়ু সক্রিয় থাকায় কুয়াশা কমলেই শীতের তীব্রতা বাড়বে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা।

বেশ কয়েক দিন থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে আচ্ছাদিত রয়েছে দিনাজপুরসহ দেশের উত্তর জনপদ। দিনের বেশির ভাগ সময় দেখা মিলছে না সূর্যের। প্রায় দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা অব্যাহত থাকছে। আবার বিকাল হলেই কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে এ জনপদ।

ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেশিরভাগ সময় সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে এবং ঝুঁকি নিয়ে। গন্তব্যে পৌঁছতে সময় লাগছে দীর্ঘক্ষণ।

ঢাকা থেকে দিনাজপুর আসার পথে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কাউগাঁও মোড় এলাকায় ট্রাকচালক সাইফুল ইসলাম জানান, ভোর ৪টায় তার দিনাজপুর শহরে পৌঁছার কথা। কিন্তু সকাল ১০টা বাজলেও গন্তব্যে পৌঁছতে পারেননি। ঘন কুয়াশার কারণে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ও ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। সকাল ১০টায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময়ও ট্রাকের হেডলাইট জ্বলছিল।

এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা বেশিদূর না যাওয়ায় সড়ক ও মহাসড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। মঙ্গলবারও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।

তবে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকলেও গত কয়েক দিন থেকে শীতের দাপট তেমন নেই দিনাজপুরসহ উত্তরের এ জনপদে। দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিনাজপুর জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বোত্তরের উপজেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধি এবং উষ্ণ ও শীতল বায়ুর সংমিশ্রণের কারণেই এ অঞ্চলে কুয়াশার প্রভাব পড়েছে।

তবে তিনি জানান, বর্তমানে এ অঞ্চলে উত্তর-পশ্চিমের হিমবায়ু সক্রিয় আছে। ঘন কুয়াশার ফলে সেই বায়ু প্রবাহিত হতে পারছে না। এ কারণেই শীতের তীব্রতা তেমন বেশি নেই।

তিনি জানান, আগামী দুই-একদিনের মধ্যেই কুয়াশার প্রভাব কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আগত হিমালয়ের হিমশীতল বায়ু সক্রিয় আছে, সেহেতু কুয়াশার প্রভাব কমে আসলেই এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাবে বলে আভাস দেন তিনি।

অন্যদিকে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের শীতের দুর্ভোগ লাঘবে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে প্রশাসন। দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম জানান, ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ৫৫ হাজার কম্বল দিনাজপুরে এসেছে।

শীত তীব্র না হলেও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত উত্তরের জনপদ

 একরাম তালুকদার, দিনাজপুর 
১০ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৪০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

শীতের দাপট তেমন বেশি না থাকলেও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দিনাজপুরসহ দেশের উত্তর জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তবে উত্তরের হিমেল বায়ু সক্রিয় থাকায় কুয়াশা কমলেই শীতের তীব্রতা বাড়বে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা।

বেশ কয়েক দিন থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে আচ্ছাদিত রয়েছে দিনাজপুরসহ দেশের উত্তর জনপদ। দিনের বেশির ভাগ সময় দেখা মিলছে না সূর্যের। প্রায় দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা অব্যাহত থাকছে। আবার বিকাল হলেই কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে এ জনপদ।

ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেশিরভাগ সময় সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে এবং ঝুঁকি নিয়ে। গন্তব্যে পৌঁছতে সময় লাগছে দীর্ঘক্ষণ।

ঢাকা থেকে দিনাজপুর আসার পথে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কাউগাঁও মোড় এলাকায় ট্রাকচালক সাইফুল ইসলাম জানান, ভোর ৪টায় তার দিনাজপুর শহরে পৌঁছার কথা। কিন্তু সকাল ১০টা বাজলেও গন্তব্যে পৌঁছতে পারেননি। ঘন কুয়াশার কারণে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ও ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। সকাল ১০টায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময়ও ট্রাকের হেডলাইট জ্বলছিল।

এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা বেশিদূর না যাওয়ায় সড়ক ও মহাসড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। মঙ্গলবারও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।
 
তবে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকলেও গত কয়েক দিন থেকে শীতের দাপট তেমন নেই দিনাজপুরসহ উত্তরের এ জনপদে। দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিনাজপুর জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর  সর্বোত্তরের উপজেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধি এবং উষ্ণ ও শীতল বায়ুর সংমিশ্রণের কারণেই এ অঞ্চলে কুয়াশার প্রভাব পড়েছে।

তবে তিনি জানান, বর্তমানে এ অঞ্চলে উত্তর-পশ্চিমের হিমবায়ু সক্রিয় আছে। ঘন কুয়াশার ফলে সেই বায়ু প্রবাহিত হতে পারছে না। এ কারণেই শীতের তীব্রতা তেমন বেশি নেই।

তিনি জানান, আগামী দুই-একদিনের মধ্যেই কুয়াশার প্রভাব কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আগত হিমালয়ের হিমশীতল বায়ু সক্রিয় আছে, সেহেতু কুয়াশার প্রভাব কমে আসলেই এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাবে বলে আভাস দেন তিনি।

অন্যদিকে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের শীতের দুর্ভোগ লাঘবে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে প্রশাসন। দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম জানান, ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ৫৫ হাজার কম্বল দিনাজপুরে এসেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন