শহীদ মিনারে জুতা পায়ে এসিল্যান্ড-ওসি
jugantor
শহীদ মিনারে জুতা পায়ে এসিল্যান্ড-ওসি

  বগুড়া ব্যুরো  

১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:৪০:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার শাজাহানপুরে শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক খান ও থানার ওসি আজিম উদ্দিন জুতা পায়ে শহীদ বেদিতে উঠেছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানের এ ছবি ফেসবুকে দেখে মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা তদন্ত সাপেক্ষে শহীদদের অবমাননাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

দুই কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, তারা ভুলবশত: জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠেছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য সোহরাব হোসেন ছান্নু জানান, তিনি কাউকে জুতা পায়ে শহীদ মিনারে দেখেননি।

ভাইস চেয়ারম্যান এম সুলতান আহমেদ জানান, তিনি দুইজনকে জুতা পায়ে দেখতে পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় শাজাহানপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন, উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু, ভাইস চেয়ারম্যান এম সুলতান আহমেদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হেফাজত আরা মিরা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক খান, শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালেবুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতরা শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বলন, এক মিনিট নীরবতা পালন ও দোয়া করেন।

এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক খান ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিম উদ্দিনের পায়ে জুতা দেখে অনেকে বিস্মিত হন। ভাইস চেয়ারম্যান এম সুলতান আহমেদ বিষয়টি নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগমের নজরে আনেন। তার নির্দেশে ওই দুই কর্মকর্তা নেমে গিয়ে জুতা খুলে আসেন।

শহীদ মিনার অবমাননার এ ছবি শাজাহানপুর উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে শেয়ার করা হয়। মঙ্গলবার বিকালে বিষয়টি সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের নজরে এলে সবার মাঝে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়। পরে ফেসবুক থেকে ছবিটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দিলীপ কুমার চৌধুরী জানান, তিনি ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন না। তবে শুনে হতাশ হয়েছেন।

তিনি বলেন, জুতা পায়ে বেদিতে উঠে শহীদদের অবমাননা করা হয়েছে। ঘটনা সত্য হলে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গৌর গোপাল গোস্বামী সাংবাদিকের বলেন, জুতা পায়েশহীদ বেদিতে উঠা দুঃখজনক ঘটনা। এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এছাড়াও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক খান জানান, ছবি তোলার জন্য ডাকা হলে তিনি ভুলবশত: অনিচ্ছাকৃত জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠেছিলেন।

থানার ওসি আজিম উদ্দিন দু:খ প্রকাশ করে একই মন্তব্য করেন।

শহীদ মিনারে জুতা পায়ে এসিল্যান্ড-ওসি

 বগুড়া ব্যুরো 
১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:৪০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার শাজাহানপুরে শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক খান ও থানার ওসি আজিম উদ্দিন জুতা পায়ে শহীদ বেদিতে উঠেছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানের এ ছবি ফেসবুকে দেখে মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা তদন্ত সাপেক্ষে শহীদদের অবমাননাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

দুই কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, তারা ভুলবশত: জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠেছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য সোহরাব হোসেন ছান্নু জানান, তিনি কাউকে জুতা পায়ে শহীদ মিনারে দেখেননি।

ভাইস চেয়ারম্যান এম সুলতান আহমেদ জানান, তিনি দুইজনকে জুতা পায়ে দেখতে পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় শাজাহানপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন, উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু, ভাইস চেয়ারম্যান এম সুলতান আহমেদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হেফাজত আরা মিরা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক খান, শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালেবুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতরা শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বলন, এক মিনিট নীরবতা পালন ও দোয়া করেন।

এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক খান ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিম উদ্দিনের পায়ে জুতা দেখে অনেকে বিস্মিত হন। ভাইস চেয়ারম্যান এম সুলতান আহমেদ বিষয়টি নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগমের নজরে আনেন। তার নির্দেশে ওই দুই কর্মকর্তা নেমে গিয়ে জুতা খুলে আসেন।

শহীদ মিনার অবমাননার এ ছবি শাজাহানপুর উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে শেয়ার করা হয়। মঙ্গলবার বিকালে বিষয়টি সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের নজরে এলে সবার মাঝে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়। পরে ফেসবুক থেকে ছবিটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দিলীপ কুমার চৌধুরী জানান, তিনি ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন না। তবে শুনে হতাশ হয়েছেন।

তিনি বলেন, জুতা পায়ে বেদিতে উঠে শহীদদের অবমাননা করা হয়েছে। ঘটনা সত্য হলে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গৌর গোপাল গোস্বামী সাংবাদিকের বলেন, জুতা পায়ে শহীদ বেদিতে উঠা দুঃখজনক ঘটনা। এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এছাড়াও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক খান জানান, ছবি তোলার জন্য ডাকা হলে তিনি ভুলবশত: অনিচ্ছাকৃত জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠেছিলেন।

থানার ওসি আজিম উদ্দিন দু:খ প্রকাশ করে একই মন্তব্য করেন।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন