প্রতিবন্ধী রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা, স্ত্রীসহ কনস্টেবলকে রিমান্ডে চায় পুলিশ
jugantor
প্রতিবন্ধী রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা, স্ত্রীসহ কনস্টেবলকে রিমান্ডে চায় পুলিশ

  মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো  

২৪ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৪০:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

রংপুরে প্রতিবন্ধী রিকশাচালক নাজমুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার রাতে তাজহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন তার স্ত্রী শ্যামলী বেগম। ওই মামলায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামি পুলিশ কনস্টেবল হাসান আলী ও তার স্ত্রী সাথী বেগমের ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এদিকে দিনভর বিক্ষোভ-সমাবেশ ও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অটোরিকশাচালকরা। এ সময় তারা নগরীতে শনিবার অটোরিকশা ধর্মঘটের ডাক দেন।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, নিহত অটোরিকশা চালক নাজমুল ইসলামকে বেআইনি আটক ও আত্মহত্যা প্ররোচনার দায়ে পুলিশ কনস্টেবল ও তার স্ত্রীকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আশরাফুল ইসলাম। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ খবর লেখা পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

এর আগে দুপুর ১২টায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্কের মোড় এলাকায় নাজমুল হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা-রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অটোরিকশাচালকরা। এ সময় ওই সড়কে প্রায় আধা ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

নিহতের স্ত্রী শ্যামলী বেগম ও স্থানীয়দের অভিযোগ, রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত কনস্টেবল হাসান আলী ও স্ত্রী সাথী বেগম পিটিয়ে রিকশাচালক নাজমুলকে হত্যা করেছে। অবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এছাড়াও বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর শাপলা চত্বরে রিকশাচালক শ্রমিক লীগ ও দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মানববন্ধন করেন। এদিকে নাজমুলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে বিচারের দাবিতে রংপুর মহানগর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যান জাতীয় শ্রমিক পার্টি আগামী শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

বুধবার দুপুরে কনস্টেবল হাসানের কোর্টপাড়ার ভাড়াবাসা থেকে দরজা ভেঙে অটোরিকশাচালক প্রতিবন্ধী নাজমুল ইসলামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে কনস্টেবল হাসান ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে তাকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগ এনে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অটোরিকশাচালকরা। বিক্ষোভের মুখে এ ঘটনায় ওইদিনই স্ত্রীসহ কনস্টেবল হাসান আলীকে আটক করে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাজহাট থানার এসআই আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় কনস্টেবল হাসান ও তার স্ত্রী সাথীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামিদের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফজলে ইলাহী খানের আদালতে নেয়া হয়। বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠান। একই আদালতে তাদের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত আদালত কী আদেশ দিয়েছেন তা জানা যায়নি।

নিহত রিকশাচালক নাজমুল ইসলামের বাড়ি লালমনিরহাটের মুস্তফি এলাকায়। নগরীর আশরতপুর ইদগাপাড়ায় বাড়িভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত হাসান আলী আশরতপুর কোটপাড়ায় বাড়িভাড়া নিয়ে পরিবারসহ বসবাস করেন। নাজমুলের পায়ের সদস্যা থাকায় দীর্ঘদিন থেকে হাসান আলীর ব্যক্তিগত একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাড়ায় চালাতেন।

নিহত নাজমুলের স্ত্রী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত মঙ্গলবার রাতে ওই রিকশা নিয়ে হাসান আলীর সঙ্গে নাজমুলের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জেরে তাকে বেধড়ক মারধর করেন হাসান আলী। একপর্যায়ে অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে কোর্টপাড়ার বাড়িতে নিয়ে যান হাসান। সেখানে তার মৃত্যু হলে তার লাশ গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে এ ঘটনা আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালান ওই পুলিশ কনস্টেবল ও তার স্ত্রী।

এদিকে বুধবার দুপুরে হাসানের ভাড়াবাসায় নাজমুলের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেরে বিক্ষোভ শুরু করেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে মেট্রোপলিটন তাজহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাদেরও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে নাজমুলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা তাজহাট থানার এসআই আশরাফুল ইসলাম বলেন, নিহতের স্ত্রীর দায়েরকৃত মামলায় আত্মহত্যার প্ররোচনা ও বেআইনি আটকের অভিযোগ করা হয়েছে। যদি ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যাকাণ্ডের অন্য কোনো আলামত পাওয়া যায় তাহলে এ মামলায় ওই ধারাও যুক্ত হয়ে মামলাটি তদন্ত কার্যক্রম চলবে। সেই কারণে আমরা এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না। তাই যারা এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে বিক্ষোভ-সমাবেশ করছেন তাদের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পর্যন্ত দেখা উচিত।

তিনি বলেন, প্রকৃত পক্ষে কোনো কারণে ওই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অনেকে বলছেন নিহতের শরীরে আঘাতে চিহ্ন আছে; তবে সুরতহাল রিপোর্টে এমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের ওই তদন্ত কর্মকর্তার দাবি।

প্রতিবন্ধী রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা, স্ত্রীসহ কনস্টেবলকে রিমান্ডে চায় পুলিশ

 মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো 
২৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:৪০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রংপুরে প্রতিবন্ধী রিকশাচালক নাজমুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার রাতে তাজহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন তার স্ত্রী শ্যামলী বেগম। ওই মামলায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামি পুলিশ কনস্টেবল হাসান আলী ও তার স্ত্রী সাথী বেগমের ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এদিকে দিনভর বিক্ষোভ-সমাবেশ ও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অটোরিকশাচালকরা। এ সময় তারা নগরীতে শনিবার অটোরিকশা ধর্মঘটের ডাক দেন। 

মামলার সূত্রে জানা গেছে, নিহত অটোরিকশা চালক নাজমুল ইসলামকে বেআইনি আটক ও আত্মহত্যা প্ররোচনার দায়ে পুলিশ কনস্টেবল ও তার স্ত্রীকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই  আশরাফুল ইসলাম। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ খবর লেখা পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

এর আগে দুপুর ১২টায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্কের মোড় এলাকায় নাজমুল হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা-রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অটোরিকশাচালকরা। এ সময় ওই সড়কে প্রায় আধা ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

নিহতের স্ত্রী শ্যামলী বেগম ও স্থানীয়দের অভিযোগ, রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত কনস্টেবল হাসান আলী ও স্ত্রী সাথী বেগম পিটিয়ে রিকশাচালক নাজমুলকে হত্যা করেছে। অবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এছাড়াও বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর শাপলা চত্বরে রিকশাচালক শ্রমিক লীগ ও দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মানববন্ধন করেন। এদিকে নাজমুলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে বিচারের দাবিতে রংপুর মহানগর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যান জাতীয় শ্রমিক পার্টি আগামী শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

বুধবার দুপুরে কনস্টেবল হাসানের কোর্টপাড়ার ভাড়াবাসা থেকে দরজা ভেঙে অটোরিকশাচালক প্রতিবন্ধী নাজমুল ইসলামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে কনস্টেবল হাসান ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে তাকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগ এনে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অটোরিকশাচালকরা। বিক্ষোভের মুখে এ ঘটনায় ওইদিনই স্ত্রীসহ কনস্টেবল হাসান আলীকে আটক করে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাজহাট থানার এসআই আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় কনস্টেবল হাসান ও তার স্ত্রী সাথীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামিদের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফজলে ইলাহী খানের আদালতে নেয়া হয়। বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠান। একই আদালতে তাদের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত আদালত কী আদেশ দিয়েছেন তা জানা যায়নি।

নিহত রিকশাচালক নাজমুল ইসলামের বাড়ি লালমনিরহাটের মুস্তফি এলাকায়। নগরীর আশরতপুর ইদগাপাড়ায় বাড়িভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত হাসান আলী আশরতপুর কোটপাড়ায় বাড়িভাড়া নিয়ে পরিবারসহ বসবাস করেন। নাজমুলের পায়ের সদস্যা থাকায় দীর্ঘদিন থেকে হাসান আলীর ব্যক্তিগত একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাড়ায় চালাতেন।

নিহত নাজমুলের স্ত্রী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত মঙ্গলবার রাতে ওই রিকশা নিয়ে হাসান আলীর সঙ্গে নাজমুলের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জেরে তাকে বেধড়ক মারধর করেন হাসান আলী। একপর্যায়ে অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে কোর্টপাড়ার বাড়িতে নিয়ে যান হাসান। সেখানে তার মৃত্যু হলে তার লাশ গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে এ ঘটনা আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালান ওই পুলিশ কনস্টেবল ও তার স্ত্রী।

এদিকে বুধবার দুপুরে হাসানের ভাড়াবাসায় নাজমুলের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেরে বিক্ষোভ শুরু করেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে মেট্রোপলিটন তাজহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাদেরও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে নাজমুলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা তাজহাট থানার এসআই আশরাফুল ইসলাম বলেন, নিহতের স্ত্রীর দায়েরকৃত মামলায় আত্মহত্যার প্ররোচনা ও বেআইনি আটকের অভিযোগ করা হয়েছে। যদি ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যাকাণ্ডের অন্য কোনো আলামত পাওয়া যায় তাহলে এ মামলায় ওই ধারাও যুক্ত হয়ে মামলাটি তদন্ত কার্যক্রম চলবে। সেই কারণে আমরা এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না। তাই যারা এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে বিক্ষোভ-সমাবেশ করছেন তাদের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পর্যন্ত দেখা উচিত।

তিনি বলেন, প্রকৃত পক্ষে কোনো কারণে ওই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অনেকে বলছেন নিহতের শরীরে আঘাতে চিহ্ন আছে; তবে সুরতহাল রিপোর্টে এমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের ওই তদন্ত কর্মকর্তার দাবি।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন