বড় ভাইয়ের কোটি টাকার স্বর্ণ আত্মসাতে ‘ছিনতাই নাটক’!
jugantor
বড় ভাইয়ের কোটি টাকার স্বর্ণ আত্মসাতে ‘ছিনতাই নাটক’!

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১৫:২৪:৫৫  |  অনলাইন সংস্করণ

ফাইল ছবি

রাজশাহীতে আত্মসাৎ করতে ছিনতাই নাটক সাজিয়েছিলেন জিতেন ধর। শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ পুঠিয়া উপজেলার জামনগর গ্রামের জিতেনের বাড়ি থেকে ১৭টির মধ্যে ১৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে।

এই জিতেনই গত ২১ ডিসেম্বর রাজশাহীর ভদ্রা মোড়ে ১৭টি স্বর্ণের বার ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছিলেন। পুলিশ জিতেন ধরকে (৪৮) গ্রেফতার করেছে। জিতেনের বাবার নাম দ্বিনেশ ধর।

বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি গত ২১ ডিসেম্বর রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল এলাকায় এই ছিনতাই নাটক সাজানো হয়েছিল। এ নিয়ে এসব স্বর্ণের প্রকৃত মালিক জিতেনের ভাই দ্বিজেন ধর নগরীর বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা করেন।

এর পর শুক্রবার বোয়ালিয়া থানা পুলিশ জিতেন ধরকে গ্রেফতার করে। পরে শনিবার এ নিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হয়।

সেখানে আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, গ্রেফতার জিতেনের বড় ভাই দ্বিজেন ধর (৫০) ফেনীতে থাকেন। গত ২১ ডিসেম্বর তিনি ফেনীর দুটি জুয়েলার্স থেকে কিনে ১৭টি স্বর্ণের বার নিয়ে ভোরে রাজশাহীর পুঠিয়ায় ভাই জিতেনের বাড়িতে আসেন। তিনি ভাই জিতেনকে বারগুলো রাখতে দেন। প্রতিটি বারের ওজন ১০ ভরি করে। মোট ১৭ বারের মূল্য এক কোটি ১২ লাখ ৭১ হাজার টাকা। জিতেন একজন ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি। তিনি এই স্বর্ণের বারগুলো আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন। এ জন্য তিনি বারের পরিবর্তে তিনটি সিসার রড কাগজে স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে স্বর্ণের বারের ব্যাগে রেখে দেন। আর আসল বারগুলো নিজের বাড়িতেই রেখে দেন।

পরে দ্বিজেন তার ভাই জিতেনকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহী শহরে মানিক জুয়েলার্সের দোকানে স্বর্ণের বার বিক্রি করতে আসেন। ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে জিতেন আগে থেকেই ছিনতাইয়ের নাটক সাজান। জিতেন ও দ্বিজেন নগরীর শিরোইল এলাকায় পৌঁছামাত্র হঠাৎ দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে চারজন ব্যক্তি এসে নিজেদের ‘প্রশাসনের লোক’ পরিচয় দেন। তাদের কাছে থাকা হ্যান্ডকাপ দেখান। তারা জিতেনের কাছে থাকা ব্যাগটি জোর করে কেড়ে নেয়। মানিব্যাগ এবং দুটি মুঠোফোনও কেড়ে নেয়া হয়। এর পর তারা মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ছিনতাইয়ের নাটকটি সাজিয়েছিলেন জিতেন। তার পরিকল্পনা মোতাবেক মিজানুর রহমান মিজান ও মৃদুল নামে দুই ব্যক্তি পুঠিয়া থেকেই বাসের পেছনে পেছনে মোটরসাইকেল নিয়ে আসেন। তারা ব্যাগ ছিনতাইয়ের জন্য শহরে অন্য তিনজনকে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রস্তুত রাখেন। জিতেন ও দ্বিজেন বাস থেকে নামলেই সে তথ্য অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেন মিজান ও মৃদুল। এর পরই ব্যাগ কেড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে আসল স্বর্ণগুলো জিতেনের বাড়িতেই ছিল। সেখান থেকে একটি বার জিতেন বিক্রি করে দেন। তাকে গ্রেফতারের সময় বাড়ি থেকে বাকি ১৬টি বার উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বোয়ালিয়া থানা পুলিশ ‘ক্লু-লেস’ ঘটনাটির রহস্য উদঘাটন করেছে। এ ঘটনায় শুধু জিতেনকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এখন তার সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বড় ভাইয়ের কোটি টাকার স্বর্ণ আত্মসাতে ‘ছিনতাই নাটক’!

 রাজশাহী ব্যুরো 
২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

রাজশাহীতে আত্মসাৎ করতে ছিনতাই নাটক সাজিয়েছিলেন জিতেন ধর। শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ পুঠিয়া উপজেলার জামনগর গ্রামের জিতেনের বাড়ি থেকে ১৭টির মধ্যে ১৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে। 

এই জিতেনই গত ২১ ডিসেম্বর রাজশাহীর ভদ্রা মোড়ে ১৭টি স্বর্ণের বার ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছিলেন। পুলিশ জিতেন ধরকে (৪৮) গ্রেফতার করেছে। জিতেনের বাবার নাম দ্বিনেশ ধর। 

বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি গত ২১ ডিসেম্বর রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল এলাকায় এই ছিনতাই নাটক সাজানো হয়েছিল। এ নিয়ে এসব স্বর্ণের প্রকৃত মালিক জিতেনের ভাই দ্বিজেন ধর নগরীর বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা করেন। 

এর পর শুক্রবার বোয়ালিয়া থানা পুলিশ জিতেন ধরকে গ্রেফতার করে। পরে শনিবার এ নিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হয়।

সেখানে আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, গ্রেফতার জিতেনের বড় ভাই দ্বিজেন ধর (৫০) ফেনীতে থাকেন। গত ২১ ডিসেম্বর তিনি ফেনীর দুটি জুয়েলার্স থেকে কিনে ১৭টি স্বর্ণের বার নিয়ে ভোরে রাজশাহীর পুঠিয়ায় ভাই জিতেনের বাড়িতে আসেন। তিনি ভাই জিতেনকে বারগুলো রাখতে দেন। প্রতিটি বারের ওজন ১০ ভরি করে। মোট ১৭ বারের মূল্য এক কোটি ১২ লাখ ৭১ হাজার টাকা। জিতেন একজন ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি। তিনি এই স্বর্ণের বারগুলো আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন। এ জন্য তিনি বারের পরিবর্তে তিনটি সিসার রড কাগজে স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে স্বর্ণের বারের ব্যাগে রেখে দেন। আর আসল বারগুলো নিজের বাড়িতেই রেখে দেন।

পরে দ্বিজেন তার ভাই জিতেনকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহী শহরে মানিক জুয়েলার্সের দোকানে স্বর্ণের বার বিক্রি করতে আসেন। ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে জিতেন আগে থেকেই ছিনতাইয়ের নাটক সাজান। জিতেন ও দ্বিজেন নগরীর শিরোইল এলাকায় পৌঁছামাত্র হঠাৎ দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে চারজন ব্যক্তি এসে নিজেদের ‘প্রশাসনের লোক’ পরিচয় দেন। তাদের কাছে থাকা হ্যান্ডকাপ দেখান। তারা জিতেনের কাছে থাকা ব্যাগটি জোর করে কেড়ে নেয়। মানিব্যাগ এবং দুটি মুঠোফোনও কেড়ে নেয়া হয়। এর পর তারা মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ছিনতাইয়ের নাটকটি সাজিয়েছিলেন জিতেন। তার পরিকল্পনা মোতাবেক মিজানুর রহমান মিজান ও মৃদুল নামে দুই ব্যক্তি পুঠিয়া থেকেই বাসের পেছনে পেছনে মোটরসাইকেল নিয়ে আসেন। তারা ব্যাগ ছিনতাইয়ের জন্য শহরে অন্য তিনজনকে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রস্তুত রাখেন। জিতেন ও দ্বিজেন বাস থেকে নামলেই সে তথ্য অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেন মিজান ও মৃদুল। এর পরই ব্যাগ কেড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে আসল স্বর্ণগুলো জিতেনের বাড়িতেই ছিল। সেখান থেকে একটি বার জিতেন বিক্রি করে দেন। তাকে গ্রেফতারের সময় বাড়ি থেকে বাকি ১৬টি বার উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বোয়ালিয়া থানা পুলিশ ‘ক্লু-লেস’ ঘটনাটির রহস্য উদঘাটন করেছে। এ ঘটনায় শুধু জিতেনকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এখন তার সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন