ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান তৃতীয় লিঙ্গের রিতু
jugantor
ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান তৃতীয় লিঙ্গের রিতু

  কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি  

০৫ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৪০:১১  |  অনলাইন সংস্করণ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম রিতু নামে এক হিজড়া এবার ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান। রিতু নির্বাচিত হলে তিনি হবেন তাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে দেশের দ্বিতীয় জনপ্রতিনিধি।

আগামী ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। শত শত কর্মী সমর্থক নিয়ে এলাকায় মোটরসাইকেল শো-ডাউনসহ সভা সমাবেশ ও গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন তিনি।

কয়েকদিন আগে নজরুল ইসলাম রিতু তার শত শত কর্মী সমর্থক নিয়ে মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, সিএনজি ও নসিমনসহ নিজ এলাকা ও শহরে শোডাউন শেষে কালীগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের দলীয় কার্যালয়ে আসেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম রিতু জানান, আগামী ইউপি নির্বাচনে তিনি দলীয় নৌকা প্রতীক পেতে আশাবাদী। এলাকার মানুষ তার পাশে রয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার উন্নয়নে মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির ও রাস্তা নির্মাণে সহযোগিতা ছাড়াও এলাকার দুঃস্থ অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন।

তৃতীয় লিঙ্গের এই প্রার্থী রিতু তার নিজের জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, তার জন্মস্থান কালীগঞ্জ। উপজেলার ত্রিলোচনপুর দাদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের সন্তান রিতু ৬ ভাইবোনের মধ্যে ৩য় সন্তান। তার ৩ ভাই ঢাকাতে থাকে ও বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। জন্মের পর তৃতীয় লিঙ্গ সনাক্তের কারণে ৫ বছর বয়সে তাকে গ্রাম ছেড়ে ঢাকাতে চলে যেতে হয়।

সামান্য লেখাপড়া করলেও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতায় প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোনো সম্ভব হয়নি। ছোটবেলা থেকেই ঢাকার ডেমরা থানাতে তার দলের গুরুমার কাছেই বেড়ে উঠেছেন। এখন তার বয়স ৪০ বছর। গুরুমার পরের দায়িত্বটা তিনি পালন করছেন। তার দলে ৭০ জন হিজড়া আছে। বর্তমানে ঢাকাতে থাকলেও প্রতিনিয়ত তিনি তার গ্রামের বাড়ি দাদপুরে আসা যাওয়া করেন।

রিতু আরও জানান, ঢাকাতে তিনি তাদের সম্প্রদায়ের দলে থাকলেও পরিবারের টানে প্রায়ই বাড়িতে আসতেন। তার জমানো অর্থ দিয়ে প্রায় ১৫ বছর ধরে জন্মস্থান দাদপর গ্রামসহ ইউনিয়নবাসীর উন্নয়নে সহযোগিতা করছেন। এলাকার মাদ্রাসা, মসজিদ মন্দিরের উন্নয়নে দান করেছেন অর্থ।

তিনি জানান, তার পরিবার আওয়ামী মনোভাবাপন্ন। এছাড়াও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ এলাকার হাজার হাজার মানুষ তাকে সমর্থন করছেন। তিনি রাজনৈতিকভাবে দলের সক্রিয় কর্মী না হলেও নিজেকে আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক বলে জানান।

বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শাকিল ও সাগর হোসেন বলেন, হিজড়া সম্প্রদায়ের রিতু আমাদের গ্রামেরই সন্তান। তিনি তাদের গ্রামের উন্নয়নে ও অসহায় গ্রামবাসীদের সহযোগিতা করে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত উপজেলা নির্বাচনে পার্শ্ববর্তী উপজেলা কোটচাঁদপুরের পিংকি খাতুন নামে এক হিজড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি দেশের মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের প্রথম জনপ্রতিনিধির স্বীকৃতি পান।

ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান তৃতীয় লিঙ্গের রিতু

 কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি 
০৫ জানুয়ারি ২০২১, ১০:৪০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম রিতু নামে এক হিজড়া এবার ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান। রিতু নির্বাচিত হলে তিনি হবেন তাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে দেশের দ্বিতীয় জনপ্রতিনিধি।

আগামী ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। শত শত কর্মী সমর্থক নিয়ে এলাকায় মোটরসাইকেল শো-ডাউনসহ সভা সমাবেশ ও গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন তিনি। 

কয়েকদিন আগে নজরুল ইসলাম রিতু তার শত শত কর্মী সমর্থক নিয়ে মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, সিএনজি ও নসিমনসহ নিজ এলাকা ও শহরে শোডাউন শেষে কালীগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের দলীয় কার্যালয়ে আসেন। 

চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম রিতু জানান, আগামী ইউপি নির্বাচনে তিনি দলীয় নৌকা প্রতীক পেতে আশাবাদী। এলাকার মানুষ তার পাশে রয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার উন্নয়নে মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির ও রাস্তা নির্মাণে সহযোগিতা ছাড়াও এলাকার দুঃস্থ অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন।

তৃতীয় লিঙ্গের এই প্রার্থী রিতু তার নিজের জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, তার জন্মস্থান কালীগঞ্জ। উপজেলার ত্রিলোচনপুর দাদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের সন্তান রিতু ৬ ভাইবোনের মধ্যে ৩য় সন্তান। তার ৩ ভাই ঢাকাতে থাকে ও বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। জন্মের পর তৃতীয় লিঙ্গ সনাক্তের কারণে ৫ বছর বয়সে তাকে গ্রাম ছেড়ে ঢাকাতে চলে যেতে হয়। 

সামান্য লেখাপড়া করলেও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতায় প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোনো সম্ভব হয়নি। ছোটবেলা থেকেই ঢাকার ডেমরা থানাতে তার দলের গুরুমার কাছেই বেড়ে উঠেছেন। এখন তার বয়স ৪০ বছর। গুরুমার পরের দায়িত্বটা তিনি পালন করছেন। তার দলে ৭০ জন হিজড়া আছে। বর্তমানে ঢাকাতে থাকলেও প্রতিনিয়ত তিনি তার গ্রামের বাড়ি দাদপুরে আসা যাওয়া করেন।

রিতু আরও জানান, ঢাকাতে তিনি তাদের সম্প্রদায়ের দলে থাকলেও পরিবারের টানে প্রায়ই বাড়িতে আসতেন। তার জমানো অর্থ দিয়ে প্রায় ১৫ বছর ধরে জন্মস্থান দাদপর গ্রামসহ ইউনিয়নবাসীর উন্নয়নে সহযোগিতা করছেন। এলাকার মাদ্রাসা, মসজিদ মন্দিরের উন্নয়নে দান করেছেন অর্থ। 

তিনি জানান, তার পরিবার আওয়ামী মনোভাবাপন্ন। এছাড়াও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ এলাকার হাজার হাজার মানুষ তাকে সমর্থন করছেন। তিনি রাজনৈতিকভাবে দলের সক্রিয় কর্মী না হলেও নিজেকে আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক বলে জানান। 

বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শাকিল ও সাগর হোসেন বলেন, হিজড়া সম্প্রদায়ের রিতু আমাদের গ্রামেরই সন্তান। তিনি তাদের গ্রামের উন্নয়নে ও অসহায় গ্রামবাসীদের সহযোগিতা করে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। 

উল্লেখ্য, এর আগে গত উপজেলা নির্বাচনে পার্শ্ববর্তী উপজেলা কোটচাঁদপুরের পিংকি খাতুন নামে এক হিজড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি দেশের মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের প্রথম জনপ্রতিনিধির স্বীকৃতি পান। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন