অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে পুরাকীর্তি
jugantor
অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে পুরাকীর্তি

  এইচএম ফোরকান, দশমিনা (পটুয়াখালী)  

০৮ জানুয়ারি ২০২১, ২০:২৩:১৬  |  অনলাইন সংস্করণ

পুরাকীর্তির শৈল্পিক নিদর্শন অযত্নে অবহেলায়

পটুয়াখালীর দশমিনায় চোখ ধাঁধানো স্থাপত্য ও পুরাকীর্তির শৈল্পিক নিদর্শন অযত্নে অবহেলায় বিনষ্ট হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী চারটি মসজিদের খোঁজ পাওয়া গেছে। বর্তমান প্রজম্মের কেউ ওই সব মসজিদ নির্মাণের সঠিক তথ্য দিতে পারছেন না। তবে তাদের ধারণা- ২-৩শ' বছর পূর্বে এসব পুরাকীর্তি নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আদমপুর গ্রামের মুন্সি আমিরুল্লাহ জামে মসজিদ, নেহালগঞ্জ তালুকদার বাড়ির জামে মসজিদ, বেতাগী সানকিপুর সিকদার বাড়ির জামে মসজিদ ও দশমিনা আব্দুর রসিদ তালুকদার বাড়ির জামে মসজিদ উল্লেখযোগ্য। এসব মসজিদের মধ্যে দশমিনা আব্দুর রসিদ তালুকদার বাড়ির জামে মসজিদটি ১৭৪৭ সালে নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন আব্দুল মোমেন তালুকদার। তাদের ব্যক্তিগত অর্থায়ানে মসজিদটি প্রতি বছর সংস্কার করা হলেও অন্য মসজিদগুলো সংস্কার করার কারও উদ্যোগ নেই।

দক্ষিণ আদমপুর গ্রামের আমিরুল্লাহ মুন্সিবাড়ির আব্দুল খালেক মুন্সি ও অ্যাডভোকেট এনামুল হক রতন জানান, আমিরুল্লাহ মুন্সিবাড়ির বর্তমান প্রজম্ম সপ্তম বংশধর। তাদের দাবি মুন্সি আমিরুল্লাহ জামে মসজিদটি পাঁচ শতাধিক বছরের পুরনো এক গম্বুজবিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহ্যের প্রাচীন ও অন্যতম নিদর্শন। মসজিদটি স্থাপত্য শিল্পের এক অপরূপ সৌন্দর্যের দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। মুন্সি আমিরুল্লাহর সপ্তম বংশধরদের আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় মসজিদের সৌন্দর্য দিন দিন কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদগুলোর মূল ভবনের উচ্চতা প্রায় ৪০ ফুট। একেকটি মসজিদে ২৫ থেকে ৩০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদগুলোর ভিতর ও বাইরে সমস্ত পলেস্তারা ধসে ইট বের হয়ে আছে।

পরিচর্যার অভাবে শেওলা ও আগাছা গজিয়ে মসজিদটির সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়ে আছে। মসজিদটির পাশেই রয়েছে বড় বড় দীঘি।

স্থানীয়দের দাবি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর উদ্যোগ নিলে এটি হতে পারে একটি দর্শনীয় স্থান। আমিরউল্লাহ মুন্সির সপ্তম বংশধর শাহ আলম মুন্সি (৮০) জানান, অনেকবার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার মানুষ মসজিদগুলো পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেয়নি।

দশমিনা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ইসলামী ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো. ইমাম হোসেন জানান, দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে মসজিদগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়া উচিত।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এসএম শাহজাদা জানান, মসজিদগুলো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। খুলনা ও বরিশাল বিভাগের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফরোজা খান মিতা জানান, ওই সব মসজিদের খোঁজ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছি। বর্তমান সরকার এসব পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে।

অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে পুরাকীর্তি

 এইচএম ফোরকান, দশমিনা (পটুয়াখালী) 
০৮ জানুয়ারি ২০২১, ০৮:২৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পুরাকীর্তির শৈল্পিক নিদর্শন অযত্নে অবহেলায়
পুরাকীর্তির শৈল্পিক নিদর্শন অযত্নে অবহেলায়

পটুয়াখালীর দশমিনায় চোখ ধাঁধানো স্থাপত্য ও পুরাকীর্তির শৈল্পিক নিদর্শন অযত্নে অবহেলায় বিনষ্ট হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী চারটি মসজিদের খোঁজ পাওয়া গেছে। বর্তমান প্রজম্মের কেউ ওই সব মসজিদ নির্মাণের সঠিক তথ্য দিতে পারছেন না। তবে তাদের ধারণা- ২-৩শ' বছর পূর্বে এসব পুরাকীর্তি নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আদমপুর গ্রামের মুন্সি আমিরুল্লাহ জামে মসজিদ, নেহালগঞ্জ তালুকদার বাড়ির জামে মসজিদ, বেতাগী সানকিপুর সিকদার বাড়ির জামে মসজিদ ও দশমিনা আব্দুর রসিদ তালুকদার বাড়ির জামে মসজিদ উল্লেখযোগ্য। এসব মসজিদের মধ্যে দশমিনা আব্দুর রসিদ তালুকদার বাড়ির জামে মসজিদটি ১৭৪৭ সালে নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন আব্দুল মোমেন তালুকদার। তাদের ব্যক্তিগত অর্থায়ানে মসজিদটি প্রতি বছর সংস্কার করা হলেও অন্য মসজিদগুলো সংস্কার করার কারও উদ্যোগ নেই।

দক্ষিণ আদমপুর গ্রামের আমিরুল্লাহ মুন্সিবাড়ির আব্দুল খালেক মুন্সি ও অ্যাডভোকেট এনামুল হক রতন জানান, আমিরুল্লাহ মুন্সিবাড়ির বর্তমান প্রজম্ম সপ্তম বংশধর। তাদের দাবি মুন্সি আমিরুল্লাহ জামে মসজিদটি পাঁচ শতাধিক বছরের পুরনো এক গম্বুজবিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহ্যের প্রাচীন ও অন্যতম নিদর্শন। মসজিদটি স্থাপত্য শিল্পের এক অপরূপ সৌন্দর্যের দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। মুন্সি আমিরুল্লাহর সপ্তম বংশধরদের আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় মসজিদের সৌন্দর্য দিন দিন কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে।

 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদগুলোর মূল ভবনের উচ্চতা প্রায় ৪০ ফুট। একেকটি মসজিদে ২৫ থেকে ৩০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদগুলোর ভিতর ও বাইরে সমস্ত পলেস্তারা ধসে ইট বের হয়ে আছে।

পরিচর্যার অভাবে শেওলা ও আগাছা গজিয়ে মসজিদটির সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়ে আছে। মসজিদটির পাশেই রয়েছে বড় বড় দীঘি।

স্থানীয়দের দাবি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর উদ্যোগ নিলে এটি হতে পারে একটি দর্শনীয় স্থান। আমিরউল্লাহ মুন্সির সপ্তম বংশধর শাহ আলম মুন্সি (৮০) জানান, অনেকবার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার মানুষ মসজিদগুলো পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেয়নি।

 

দশমিনা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ইসলামী ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো. ইমাম হোসেন জানান, দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে মসজিদগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়া উচিত।

 

স্থানীয় সংসদ সদস্য এসএম শাহজাদা জানান, মসজিদগুলো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। খুলনা ও বরিশাল বিভাগের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফরোজা খান মিতা জানান, ওই সব মসজিদের খোঁজ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছি। বর্তমান সরকার এসব পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন