ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নে দেড় লাখ টাকায় মীমাংসা, অফিস সহকারী গ্রেফতার
jugantor
ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নে দেড় লাখ টাকায় মীমাংসা, অফিস সহকারী গ্রেফতার

  সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি  

১০ জানুয়ারি ২০২১, ২০:৩৮:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

নাটোরের সিংড়ায় দেড় লাখ টাকায় কলেজছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনা মীমাংসা করেছেন একই কলেজের শিক্ষকরা। অত্যন্ত গোপনে অভিযুক্তকে লঘুশাস্তি আর দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে এমন ঘটনা ধাপাচাপা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রেজাউল করিমকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর দ্বাদশ শ্রেণির এক কলেজছাত্রী তার চাচাতো বোনকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করাতে সিংড়া উপজেলার হাতিয়ান্দহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে যায়। ভর্তির কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর অফিস সহকারী রেজাউল করিম কৌশলে কলেজছাত্রীকে পাশের রুমে ওজন মাপার কথা বলে নিয়ে যায়।

পরে কেউ না থাকার সুযোগে তাকে জাপটে ধরে তার স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়ন করে অফিস সহকারী রেজাউল। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মেয়েটি নিজেকে ছাড়িয়ে ছোটবোনকে নিয়ে বাড়িতে এসে ঘটনাটি পরিবারকে জানায়।

পরে মেয়েটির পরিবারের লোকজন ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে অধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেনকে ঘটনাটি জানান। তখন থেকেই অধ্যক্ষ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে উঠেন। তাকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন সহকারী অধ্যাপক প্রবীর কুমার সাহা। পরে ২৯ ডিসেম্বর কলেজের এক রুমে অভিযুক্ত রেজাউলকে চড়-থাপ্পড় আর পা ধরে মাফ চাওয়ানো হয়। জরিমানা করা হয় দেড় লাখ টাকা।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা জানান, এ সময় কলেজ অধ্যক্ষ মো. ইসমাইল হোসেন, সহকারী অধ্যাপক প্রবীর কুমার সাহা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শেরকোল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম, স্কুল ও কলেজ কমিটির সভাপতি ভেটু চৌধুরী, ডা. সামাদ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ও হাসান আলী। পরে ৪ জানুয়ারি জরিমানার দেড় লাখ টাকা জনতা ব্যাংকের হাতিয়ান্দহ শাখার মাধ্যমে ভুক্তভোগী ও তার চাচাতো বোনের মায়ের অ্যাকাউন্টে জমা দেয় অফিস সহকারী রেজাউল।

তবে এ নিয়ে অফিস সহকারী রেজাউলের মুখোমুখি হলে সব অস্বীকার করেন তিনি। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

দেড় লাখ টাকা জরিমানার কথা বলা হলে সংবাদকর্মীর উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, অযথাই কী সব কথা বলেন? এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বলেই সটকে পড়েন তিনি।

তবে ঘটনার কথা অকপটে স্বীকার করেন অধ্যক্ষ মো. ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, ছাত্রীটিকে যৌন নিপীড়নের সত্যতা পেয়ে ম্যানেজিং কমিটির লোকজন ও সহকারী অধ্যাপক প্রবীর কুমার সাহাকে নিয়ে সমঝোতা করে দিয়েছি। দেড় লাখ টাকা ভুক্তভোগী পরিবারকে দিয়েছি।

ফৌজদারি অপরাধ মীমাংসা করতে পারেন কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে মেয়েটির নানা ঝামেলা হতো। তাই মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছি।

সহকারী অধ্যাপক প্রবীর কুমার সাহা বলেন, সেদিন আমি কলেজে ছিলাম। তবে মীমাংসায় ছিলাম না। আর মীমাংসা হলেও ক্ষতি কী?

হাতিয়ান্দহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাবুব-উল-আলম জানান, কলেজের অধ্যক্ষসহ কিছু ব্যক্তি তাকে এ বিষয়ে কিছু জানাননি। ঘটনাটি তিনি লোকমুখে শুনেছেন। তিনি যতটুকু শুনেছেন সেই অনুযায়ী এ ধরনের বিচার করা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

সিংড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান জানান, ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনাটি তদন্তে রোববার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ওই প্রতিষ্ঠানে যাবেন বলে তাকে জানানো হয়েছে।

নাটোর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রমজান আলী আকন্দ জানান, ঘটনা অবগত হবার পরপরই অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আপস-মীমাংসার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, খুব গোপনে বিষয়টি আপোস মীমাংসা করা হয়েছে; যা মীমাংসা করার কোনো সুযোগ নেই। ঘটনাটি জানার পরপরই বুধবার রাতে অভিযুক্ত রেজাউলকে আটক করা হয়। রাতেই তার নামে ভুক্তভোগী তরুণী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি বলেন, অভিযুক্ত রেজাউলকে আদালতের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার দুপুরে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যৌন নিপীড়নের ঘটনা আপোস-মীমাংসাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নে দেড় লাখ টাকায় মীমাংসা, অফিস সহকারী গ্রেফতার

 সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি 
১০ জানুয়ারি ২০২১, ০৮:৩৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নাটোরের সিংড়ায় দেড় লাখ টাকায় কলেজছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনা মীমাংসা করেছেন একই কলেজের শিক্ষকরা। অত্যন্ত গোপনে অভিযুক্তকে লঘুশাস্তি আর দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে এমন ঘটনা ধাপাচাপা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রেজাউল করিমকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর দ্বাদশ শ্রেণির এক কলেজছাত্রী তার চাচাতো বোনকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করাতে সিংড়া উপজেলার হাতিয়ান্দহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে যায়। ভর্তির কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর অফিস সহকারী রেজাউল করিম কৌশলে কলেজছাত্রীকে পাশের রুমে ওজন মাপার কথা বলে নিয়ে যায়।

পরে কেউ না থাকার সুযোগে তাকে জাপটে ধরে তার স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়ন করে অফিস সহকারী রেজাউল। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মেয়েটি নিজেকে ছাড়িয়ে ছোটবোনকে নিয়ে বাড়িতে এসে ঘটনাটি পরিবারকে জানায়।

পরে মেয়েটির পরিবারের লোকজন ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে অধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেনকে ঘটনাটি জানান। তখন থেকেই অধ্যক্ষ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে উঠেন। তাকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন সহকারী অধ্যাপক প্রবীর কুমার সাহা। পরে ২৯ ডিসেম্বর কলেজের এক রুমে অভিযুক্ত রেজাউলকে চড়-থাপ্পড় আর পা ধরে মাফ চাওয়ানো হয়। জরিমানা করা হয় দেড় লাখ টাকা।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা জানান, এ সময় কলেজ অধ্যক্ষ মো. ইসমাইল হোসেন, সহকারী অধ্যাপক প্রবীর কুমার সাহা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শেরকোল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম, স্কুল ও কলেজ কমিটির সভাপতি ভেটু চৌধুরী, ডা. সামাদ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ও হাসান আলী। পরে ৪ জানুয়ারি জরিমানার দেড় লাখ টাকা জনতা ব্যাংকের হাতিয়ান্দহ শাখার মাধ্যমে ভুক্তভোগী ও তার চাচাতো বোনের মায়ের অ্যাকাউন্টে জমা দেয় অফিস সহকারী রেজাউল।

তবে এ নিয়ে অফিস সহকারী রেজাউলের মুখোমুখি হলে সব অস্বীকার করেন তিনি। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

দেড় লাখ টাকা জরিমানার কথা বলা হলে সংবাদকর্মীর উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, অযথাই কী সব কথা বলেন? এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বলেই সটকে পড়েন তিনি।

তবে ঘটনার কথা অকপটে স্বীকার করেন অধ্যক্ষ মো. ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, ছাত্রীটিকে যৌন নিপীড়নের সত্যতা পেয়ে ম্যানেজিং কমিটির লোকজন ও সহকারী অধ্যাপক প্রবীর কুমার সাহাকে নিয়ে সমঝোতা করে দিয়েছি। দেড় লাখ টাকা ভুক্তভোগী পরিবারকে দিয়েছি।

ফৌজদারি অপরাধ মীমাংসা করতে পারেন কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে মেয়েটির নানা ঝামেলা হতো। তাই মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছি।

সহকারী অধ্যাপক প্রবীর কুমার সাহা বলেন, সেদিন আমি কলেজে ছিলাম। তবে মীমাংসায় ছিলাম না। আর মীমাংসা হলেও ক্ষতি কী?

হাতিয়ান্দহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাবুব-উল-আলম জানান, কলেজের অধ্যক্ষসহ কিছু ব্যক্তি তাকে এ বিষয়ে কিছু জানাননি। ঘটনাটি তিনি লোকমুখে শুনেছেন। তিনি যতটুকু শুনেছেন সেই অনুযায়ী এ ধরনের বিচার করা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

সিংড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান জানান, ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনাটি তদন্তে রোববার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ওই প্রতিষ্ঠানে যাবেন বলে তাকে জানানো হয়েছে।

নাটোর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রমজান আলী আকন্দ জানান, ঘটনা অবগত হবার পরপরই অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আপস-মীমাংসার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, খুব গোপনে বিষয়টি আপোস মীমাংসা করা হয়েছে; যা মীমাংসা করার কোনো সুযোগ নেই। ঘটনাটি জানার পরপরই বুধবার রাতে অভিযুক্ত রেজাউলকে আটক করা হয়। রাতেই তার নামে ভুক্তভোগী তরুণী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি বলেন, অভিযুক্ত রেজাউলকে আদালতের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার দুপুরে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যৌন নিপীড়নের ঘটনা আপোস-মীমাংসাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন