৮৭ প্রার্থীর মধ্যে ৩৪ জনই কলেজের মুখ দেখেননি
jugantor
৮৭ প্রার্থীর মধ্যে ৩৪ জনই কলেজের মুখ দেখেননি

  একরাম তালুকদার, দিনাজপুর  

১০ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৫১:২৫  |  অনলাইন সংস্করণ

দেড়শ’ বছরের প্রাচীন দিনাজপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ জানুয়ারি। এ নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী মোট ৮৭ জন প্রার্থীর ৩৪ জনই শিক্ষাজীবনে দেখেনি কলেজের মুখ। অর্থাৎ শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস।

মাধ্যমিক পাস করেছেন ৭ জন, উচ্চ মাধ্যমিক ১৭ জন, স্নাতক পাস করেছেন ২৪ জন এবং মাস্টার্স পাস করেছেন একজন। আর ৪ জন প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিলকৃত হলফনামা পর্যালোচনা করেই এসব তথ্য জানা যায়।

দিনাজপুর পৌরসভা নির্বাচনে ১২টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬৪ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন ২২ জন, মাধ্যমিক পাস করেছেন ৪ জন, উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন ১৩ জন এবং স্নাতক পাস করেছেন ২১ জন।

সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের ৪টি ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৮ জন প্রার্থী। এই ১৮ জনের মধ্যে ১২ জন অষ্টম শ্রেণি পাস, একজন মাধ্যমিক পাস এবং ৫ জন পাস করেছেন উচ্চ মাধ্যমিক। স্নাতক পর্যন্ত কেউ লেখাপড়া করেননি নারী প্রার্থীদের মধ্যে।

মেয়র পদে মোট ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে মাস্টার্স পাস করেছেন একজন, স্নাতক পাস করেছেন ৩ জন এবং মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন একজন প্রার্থী।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর পৌর নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জায়েদ ইবনে আবুল ফজল জানান, পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদণ্ড বেঁধে দেয়া হয়নি নির্বাচন কমিশন থেকে। তবে হলফনামায় প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে এবং এর প্রমাণাদি পেশ করতে হবে।

এ বিষয়ে দিনাজপুরের শিক্ষাবিদ ময়েজউদ্দীন আহম্মেদ বলেন, একজন কাউন্সিলর যদি পৌরসভার আইন ও বিধি-বিধানের পাতা খুলে না পড়তে পারেন এবং সেসব আইন ও বিধি-বিধান সম্পর্কে যদি না বুঝতে পারেন, তাহলে তিনি পৌরসভায় কাজ করবেন কীভাবে? তাই পৌরসভার একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হতে হলে অবশ্যই তার মধ্যে বিদ্যাবুদ্ধি থাকতে হবে। বিদ্যাবুদ্ধি না থাকলে তিনি আইন, বিধি-বিধান ও তার দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে জানতে পারবেন না। এতে একদিকে তিনি ভালোভাবে পৌরসভার কার্যাবলী সম্পন্ন করতে পারবেন না, পাশাপাশি নাগরিকরাও তাদের কাছ থেকে প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন। এজন্য শিক্ষিতদের পৌরসভার পদে আসা উচিত।

দিনাজপুর নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে তার মধ্যে মানবিক শিক্ষা আছে কিনা, তিনি একজন মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ কিনা, সেই বিষয়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন এবং মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষদেরই জনপ্রতিনিধি হিসেবে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ১৮৬৯ সালে স্থাপিত দিনাজপুর পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার ৮০৩ জন। এই ভোটাররাই আগামী ১৬ জানুয়ারি নির্বাচিত করবেন ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে একজন মেয়র, ৬৪ জনের মধ্য থেকে ১২ জন কাউন্সিলর এবং ১৮ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে ৪ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরকে।

৮৭ প্রার্থীর মধ্যে ৩৪ জনই কলেজের মুখ দেখেননি

 একরাম তালুকদার, দিনাজপুর 
১০ জানুয়ারি ২০২১, ১০:৫১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দেড়শ’ বছরের প্রাচীন দিনাজপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ জানুয়ারি। এ নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী মোট ৮৭ জন প্রার্থীর ৩৪ জনই শিক্ষাজীবনে দেখেনি কলেজের মুখ। অর্থাৎ শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস।

মাধ্যমিক পাস করেছেন ৭ জন, উচ্চ মাধ্যমিক ১৭ জন, স্নাতক পাস করেছেন ২৪ জন এবং মাস্টার্স পাস করেছেন একজন। আর ৪ জন প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিলকৃত হলফনামা পর্যালোচনা করেই এসব তথ্য জানা যায়।

দিনাজপুর পৌরসভা নির্বাচনে ১২টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬৪ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন ২২ জন, মাধ্যমিক পাস করেছেন ৪ জন, উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন ১৩ জন এবং স্নাতক পাস করেছেন ২১ জন।

সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের ৪টি ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৮ জন প্রার্থী। এই ১৮ জনের মধ্যে ১২ জন অষ্টম শ্রেণি পাস, একজন মাধ্যমিক পাস এবং ৫ জন পাস করেছেন উচ্চ মাধ্যমিক। স্নাতক পর্যন্ত কেউ লেখাপড়া করেননি নারী প্রার্থীদের মধ্যে।

মেয়র পদে মোট ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে মাস্টার্স পাস করেছেন একজন, স্নাতক পাস করেছেন ৩ জন এবং মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন একজন প্রার্থী।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর পৌর নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জায়েদ ইবনে আবুল ফজল জানান, পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদণ্ড বেঁধে দেয়া হয়নি নির্বাচন কমিশন থেকে। তবে হলফনামায় প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে এবং এর প্রমাণাদি পেশ করতে হবে।

এ বিষয়ে দিনাজপুরের শিক্ষাবিদ ময়েজউদ্দীন আহম্মেদ বলেন, একজন কাউন্সিলর যদি পৌরসভার আইন ও বিধি-বিধানের পাতা খুলে না পড়তে পারেন এবং সেসব আইন ও বিধি-বিধান সম্পর্কে যদি না বুঝতে পারেন, তাহলে তিনি পৌরসভায় কাজ করবেন কীভাবে? তাই পৌরসভার একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হতে হলে অবশ্যই তার মধ্যে বিদ্যাবুদ্ধি থাকতে হবে। বিদ্যাবুদ্ধি না থাকলে তিনি আইন, বিধি-বিধান ও তার দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে জানতে পারবেন না। এতে একদিকে তিনি ভালোভাবে পৌরসভার কার্যাবলী সম্পন্ন করতে পারবেন না, পাশাপাশি নাগরিকরাও তাদের কাছ থেকে প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন। এজন্য শিক্ষিতদের পৌরসভার পদে আসা উচিত।

দিনাজপুর নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে তার মধ্যে মানবিক শিক্ষা আছে কিনা, তিনি একজন মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ কিনা, সেই বিষয়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন এবং মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষদেরই জনপ্রতিনিধি হিসেবে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ১৮৬৯ সালে স্থাপিত দিনাজপুর পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার ৮০৩ জন। এই ভোটাররাই আগামী ১৬ জানুয়ারি নির্বাচিত করবেন ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে একজন মেয়র, ৬৪ জনের মধ্য থেকে ১২ জন কাউন্সিলর এবং ১৮ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে ৪ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরকে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন