ভয়ে পরিবার নিয়ে গভীর রাতে বাসভবন ছেড়েছেন হাবিপ্রবির ভিসি
jugantor
ভয়ে পরিবার নিয়ে গভীর রাতে বাসভবন ছেড়েছেন হাবিপ্রবির ভিসি

  দিনাজপুর প্রতিনিধি  

১৩ জানুয়ারি ২০২১, ২১:২৭:৫৪  |  অনলাইন সংস্করণ

নিরাপত্তার অভাবে রাতারাতি পরিবার নিয়ে ক্যাম্পাসের বাসভবন থেকে ঢাকায় চলে গেছেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেম। ১৮ দিনের মধ্যে ২২ কর্মকর্তার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং রাতারাতি অ্যাডহক ভিত্তিতে বেশ কিছু কর্মকর্তা নিয়োগে চাপ দেয়ায় তিনি ঢাকায় চলে যান বলে জানা গেছে।

এ নিয়ে হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। এর আগে মঙ্গলবার পরিবার নিয়ে দিনভর বাসভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর হাবিপ্রবিতে ৬২ জন শিক্ষক এবং গত বছরের ২৬ ও ২৮ জানুয়ারি ২২ জন কর্মকর্তা ও ৫০ জন কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর করোনা পরিস্থিতি ও নানান অভিযোগে বন্ধ থাকে নিয়োগ প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে আগামী ৩১ জানুয়ারি ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেমের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় চাকরি প্রার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু শিক্ষক এসব নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চাপপ্রয়োগ করে আসছে ভাইস চ্যান্সেলরকে।

এ নিয়ে প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের সঙ্গে ভিসির মতবিরোধও চরমে পৌঁছে। এ অবস্থায় ভিসির অসহযোগিতায় একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে অচলাবস্থা সৃষ্টির অভিযোগ এনে গত ৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োজিত ১৭ জন শিক্ষক তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন।

এরই মধ্যে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. মো. ফজলুল হককে পদ থেকে অপসারণ করেন ভাইস চ্যান্সেলর। পরবর্তীতে দুইপক্ষের সমঝোতায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন প্রশাসনিক পদে নিয়োজিত ১৭ জন শিক্ষক এবং প্রফেসর ডা. মো. ফজলুল হককে রেজিস্ট্রার পদে পুনর্বহাল করেন ভিসি।

কিন্তু ভিসি প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেমের মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় আবারও শুরু হয় নিয়োগের জন্য চাপ প্রয়োগ। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে চাকরিপ্রার্থীরা ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিকালের দিকে বেশ কিছু ছাত্র বাসভবনের প্রাচীর টপকে ভেতরে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রশাসনকে খবর দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ সময় রেজিস্ট্রারসহ প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োজিত শিক্ষকরাও ভিসির বাসভবনে প্রবেশ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিকালে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম মাগফুরুল আব্বাসী ও সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার ভিসির বাসভবনে প্রবেশ করেন। বাইরে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।

গভীর রাতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এলে চাকরিপ্রার্থী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ভিসির বাসভবন থেকে চলে আসেন। এরপর রাত ৩টায় পরিবার নিয়ে বাসভবন ছেড়ে সড়ক পথে ঢাকায় রওনা হন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেম। এ সময় তিনি লিখিতভাবে ট্রেজারার ড. বিধান চন্দ্র হালদারকে দায়িত্ব দিয়ে যান।

এ ব্যাপারে ট্রেজারার ড. বিধান চন্দ্র হালদার জানান, বুধবার সকালে এসে তিনি জানতে পারেন, স্ত্রীর অসুস্থতা দেখিয়ে কাউকে না জানিয়েই ঢাকায় চলে গেছেন ভাইস চ্যান্সেলর। ঢাকায় যাওয়ার প্রাক্কালে তিনি লিখিতভাবে তাকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন।

তিনি জানান, বুধবার শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিষয়ে বোর্ড মিটিং হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি গভীর রাতে চলে যাওয়ায় এসব শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেমের সঙ্গে বুধবার দুপুরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চাকরির দাবিতে মঙ্গলবার দিনভর পরিবারসহ তাকে বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। একপর্যায়ে চাকরিপ্রার্থীরা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে কলাপসিবল গেট ধাক্কাধাক্কি করে এবং অকথ্য ভাষায় চেঁচামেচি শুরু করে। এ সময় তার বাসভবনের বিদ্যুৎ ও পানি বন্ধ করে দেয়া হয়। বিদ্যুতের অভাবে বাসভবনে অন্ধকারে ছিলেন তিনি। পানির অভাবে পরিবার নিয়ে অসহায় অবস্থায় থাকতে হয়ে তাকে।

তিনি জানান, রাতে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. ফজলুল হকসহ অন্যান্য শিক্ষকরা তার বাসভবনে প্রবেশ করেন। এ সময় চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষকরা তাকে নিয়োগ দেয়ার জন্য চাপপ্রয়োগ করেন।

তিনি বলেন, রাতেই তাকে অ্যাডহক ভিত্তিতে বেশকিছু কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য চাপপ্রয়োগ করা হয় এবং আগামী ৩১ জানুয়ারি তার মেয়াদকালীন সময়ের মধ্যে ২২ জন কর্মকর্তা নিয়োগ এবং রিজেন্টবোর্ড করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য চাপপ্রয়োগ করা হয়। এ সময়ের মধ্যে কোনোভাবেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

ভিসি বলেন, তিনি কখনই অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি এবং করবেনও না।

ভাইস চ্যান্সেলর জানান, সারাদিন এ দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় নিরাপত্তার অভাবে এবং তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় রাতেই সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। আসার আগে লিখিতভাবে ট্রেজারারকে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. ফজলুল হক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বল্পতা আছে বলেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ভাইস চ্যান্সেলর দীর্ঘদিন থেকেই এসব নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছেন। চাকরিসহ বিভিন্ন দাবিতে চাকরিপ্রার্থী ও অন্যান্য ছাত্ররা মঙ্গলবার ভাইস চ্যান্সেলরের বাসভবনে গিয়েছিল। চাকরিপ্রার্থীরা ভাইস চ্যান্সেলরকে নিয়োগের জন্য কোনো চাপ দেননি বলে জানান তিনি।

দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, মঙ্গলবার বেশকিছু ছাত্র চাকরির দাবিসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের বাসভবনে অবস্থান নিয়েছিলেন। এর মধ্যে চাকরিপ্রার্থীরাও ছিলেন। তারা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বুধবার সকালে তিনি শুনেছেন, ভাইস চ্যান্সেলর রাতেই ঢাকায় চলে গেছেন।

ভয়ে পরিবার নিয়ে গভীর রাতে বাসভবন ছেড়েছেন হাবিপ্রবির ভিসি

 দিনাজপুর প্রতিনিধি 
১৩ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:২৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নিরাপত্তার অভাবে রাতারাতি পরিবার নিয়ে ক্যাম্পাসের বাসভবন থেকে ঢাকায় চলে গেছেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেম। ১৮ দিনের মধ্যে ২২ কর্মকর্তার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং রাতারাতি অ্যাডহক ভিত্তিতে বেশ কিছু কর্মকর্তা নিয়োগে চাপ দেয়ায় তিনি ঢাকায় চলে যান বলে জানা গেছে।

এ নিয়ে হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। এর আগে মঙ্গলবার পরিবার নিয়ে দিনভর বাসভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর হাবিপ্রবিতে ৬২ জন শিক্ষক এবং গত বছরের ২৬ ও ২৮ জানুয়ারি ২২ জন কর্মকর্তা ও ৫০ জন কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর করোনা পরিস্থিতি ও নানান অভিযোগে বন্ধ থাকে নিয়োগ প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে আগামী ৩১ জানুয়ারি ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেমের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় চাকরি প্রার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু শিক্ষক এসব নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চাপপ্রয়োগ করে আসছে ভাইস চ্যান্সেলরকে।

এ নিয়ে প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের সঙ্গে ভিসির মতবিরোধও চরমে পৌঁছে। এ অবস্থায় ভিসির অসহযোগিতায় একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে অচলাবস্থা সৃষ্টির অভিযোগ এনে গত ৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োজিত ১৭ জন শিক্ষক তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন।

এরই মধ্যে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. মো. ফজলুল হককে পদ থেকে অপসারণ করেন ভাইস চ্যান্সেলর। পরবর্তীতে দুইপক্ষের সমঝোতায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন প্রশাসনিক পদে নিয়োজিত ১৭ জন শিক্ষক এবং প্রফেসর ডা. মো. ফজলুল হককে রেজিস্ট্রার পদে পুনর্বহাল করেন ভিসি।

কিন্তু ভিসি প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেমের মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় আবারও শুরু হয় নিয়োগের জন্য চাপ প্রয়োগ। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে চাকরিপ্রার্থীরা ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিকালের দিকে বেশ কিছু ছাত্র বাসভবনের প্রাচীর টপকে ভেতরে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রশাসনকে খবর দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ সময় রেজিস্ট্রারসহ প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োজিত শিক্ষকরাও ভিসির বাসভবনে প্রবেশ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিকালে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম মাগফুরুল আব্বাসী ও সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার ভিসির বাসভবনে প্রবেশ করেন। বাইরে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।

গভীর রাতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এলে চাকরিপ্রার্থী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ভিসির বাসভবন থেকে চলে আসেন। এরপর রাত ৩টায় পরিবার নিয়ে বাসভবন ছেড়ে সড়ক পথে ঢাকায় রওনা হন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেম। এ সময় তিনি লিখিতভাবে ট্রেজারার ড. বিধান চন্দ্র হালদারকে দায়িত্ব দিয়ে যান।

এ ব্যাপারে ট্রেজারার ড. বিধান চন্দ্র হালদার জানান, বুধবার সকালে এসে তিনি জানতে পারেন, স্ত্রীর অসুস্থতা দেখিয়ে কাউকে না জানিয়েই ঢাকায় চলে গেছেন ভাইস চ্যান্সেলর। ঢাকায় যাওয়ার প্রাক্কালে তিনি লিখিতভাবে তাকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন।

তিনি জানান, বুধবার শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিষয়ে বোর্ড মিটিং হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি গভীর রাতে চলে যাওয়ায় এসব শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেমের সঙ্গে বুধবার দুপুরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চাকরির দাবিতে মঙ্গলবার দিনভর পরিবারসহ তাকে বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। একপর্যায়ে চাকরিপ্রার্থীরা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে কলাপসিবল গেট ধাক্কাধাক্কি করে এবং অকথ্য ভাষায় চেঁচামেচি শুরু করে। এ সময় তার বাসভবনের বিদ্যুৎ ও পানি বন্ধ করে দেয়া হয়। বিদ্যুতের অভাবে বাসভবনে অন্ধকারে ছিলেন তিনি। পানির অভাবে পরিবার নিয়ে অসহায় অবস্থায় থাকতে হয়ে তাকে।

তিনি জানান, রাতে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. ফজলুল হকসহ অন্যান্য শিক্ষকরা তার বাসভবনে প্রবেশ করেন। এ সময় চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষকরা তাকে নিয়োগ দেয়ার জন্য চাপপ্রয়োগ করেন।

তিনি বলেন, রাতেই তাকে অ্যাডহক ভিত্তিতে বেশকিছু কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য চাপপ্রয়োগ করা হয় এবং আগামী ৩১ জানুয়ারি তার মেয়াদকালীন সময়ের মধ্যে ২২ জন কর্মকর্তা নিয়োগ এবং রিজেন্টবোর্ড করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য চাপপ্রয়োগ করা হয়। এ সময়ের মধ্যে কোনোভাবেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

ভিসি বলেন, তিনি কখনই অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি এবং করবেনও না।

ভাইস চ্যান্সেলর জানান, সারাদিন এ দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় নিরাপত্তার অভাবে এবং তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় রাতেই সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। আসার আগে লিখিতভাবে ট্রেজারারকে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. ফজলুল হক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বল্পতা আছে বলেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ভাইস চ্যান্সেলর দীর্ঘদিন থেকেই এসব নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছেন। চাকরিসহ বিভিন্ন দাবিতে চাকরিপ্রার্থী ও অন্যান্য ছাত্ররা মঙ্গলবার ভাইস চ্যান্সেলরের বাসভবনে গিয়েছিল। চাকরিপ্রার্থীরা ভাইস চ্যান্সেলরকে নিয়োগের জন্য কোনো চাপ দেননি বলে জানান তিনি।

দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, মঙ্গলবার বেশকিছু ছাত্র চাকরির দাবিসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের বাসভবনে অবস্থান নিয়েছিলেন। এর মধ্যে চাকরিপ্রার্থীরাও ছিলেন। তারা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বুধবার সকালে তিনি শুনেছেন, ভাইস চ্যান্সেলর রাতেই ঢাকায় চলে গেছেন।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন