মেয়র ও মন্ত্রীপুত্রের সমর্থকদের সংঘর্ষে প্রার্থী-সাংবাদিকসহ জখম ১২
jugantor
মেয়র ও মন্ত্রীপুত্রের সমর্থকদের সংঘর্ষে প্রার্থী-সাংবাদিকসহ জখম ১২

  নরসিংদী প্রতিনিধি  

১৪ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৫৭:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

নরসিংদীর মনোহরদীতে পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে হামলা পাল্টাহামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩ কাউন্সিলর প্রার্থী, সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর চালানো হয়। প্রতিপক্ষের হামলায় আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর দুই ভাইসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির গাড়িসহ দুইটি গাড়ি ও ৮টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। বুধবার গভীর রাতে মনোহরদী হিন্দুপাড়াসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে এসে উভয়পক্ষের সমর্থকদের সরিয়ে নিলে ভোর ৪টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

এদিকে সাংবাদিকের বাড়িতে মেয়র সমর্থকদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সংবাদকর্মীরা।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে বর্তমানে ৬টিতেই বিএনপির কাউন্সিলররা দায়িত্ব পালন করছেন। যাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই বর্তমান মেয়র আমিনুর রশিদ সুজনের সখ্যতা রয়েছে। তারা এবারও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

এদিকে তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি কাউন্সিলর প্রার্থীদের ৪টি ওয়ার্ডে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদের প্রার্থী করেছেন শিল্পমন্ত্রীর ছেলে মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদী। এ নিয়ে মেয়র সুজনের সঙ্গে মন্ত্রীপুত্র সাদীর মতবিরোধ দেখা দেয়।

এর মধ্যে বুধবার রাত ৮টায় মনোহরদী হিন্দুপাড়া সার্বজনীন দুর্গাবাড়িতে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আমিনুর রশিদ সুজনের সর্বশেষ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক বাবু প্রিয়াশীষ রায়, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিল্পমন্ত্রীর ছোটভাই নজরুল মজিদ মাহমুদ স্বপন ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যকরী সদস্য মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদীসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে যোগ দেন।

রাত ১১টার দিকে সভা শেষে ফেরার পথে কাউন্সিলর প্রার্থী হারুন মাঝি ও খোকন রায়ের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে হারুন মাঝির পক্ষে অবস্থান নেন মেয়র সুজনের সমর্থকরা। আর খোকন রায়ের পক্ষে অবস্থান নেন সাদীর সমর্থকরা। উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে মেয়রের দুই ভাইসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। এ সময় উভয় পক্ষের ৮টি মোটরসাইকেল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলুল হকের গাড়ি ভাংচুর করা হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মেয়র সুজনের কয়েকশ' সমর্থক মনোহরদী বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হন। সেখান থেকে মেয়রের সমর্থকরা প্রথমে মনোহরদী হিন্দুপাড়ার মনোহরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দেশ রূপান্তর ও দেশ টিভির সাংবাদিক সুমন বর্মণ, কাউন্সিলর প্রার্থী পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খোকন রায়, সুকোমল সাহার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।

হামলা চালানো হয় সাংবাদিক সুমন বর্মণের ৩টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান,৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিহির রায়ের দোকান, চকপাড়া এলাকায় ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শরীফ রায়হানের অফিসে। পরে ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোতাহার হোসেনের অফিস, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলামের মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়।

হামলায় আহতদের মধ্যে চন্দনবাড়ি এলাকার মেয়র সুজনের বড়ভাই মামুনুর রশিদ (৩৫), ছোটভাই হাসানুর রশিদ তন্ময় (২৫), ইমতিয়াজ মান্নান (৩০), আল সাঈদী সাম্মী (৩২), শফিকুল আলম (৪৫), সোহেল আকন্দ (২৬), মাঝিপাড়া এলাকার মাসুম হাসান শুভ (৩০), লেবুতলা এলাকার নজরুল ইসলামসহ ১২ জন রয়েছেন। এদের মধ্যে মামুনুর রশিদ ও শফিকুল আলমকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী খোকন রায় বলেন, মেয়র সুজন ও কাউন্সিলর প্রার্থী হারুন মাঝি আমার বাড়ি ও সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। তারা পরিকল্পিতভাবে এ বিশৃঙ্খলা ঘটিয়েছে; যাতে ভোটের পরিবেশ নষ্ট হয়।

মনোহরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াশীষ রায় বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে হিন্দু বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা দুঃখজনক।

মনোহরদী পৌরসভা আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আমিনুর রশিদ সুজন বলেন, আমরা হিন্দুপাড়ায় নির্বাচনী উঠান বৈঠক শেষ করে চলে যাওয়ার সময় মন্ত্রীর ছেলে সাদীর সমর্থকরা আমার ও আমার লোকজনের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। আর একের পর এক গুলিবর্ষণ শুরু করে। এরই মধ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাকে আঘাত করার সময় আমার দুই ভাই আমাকে বাঁচাতে গেলে তারা গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমার ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। একইসঙ্গে আমার এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। তবে সাংবাদিকসহ অন্যদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের বিষয়ে তিনি অস্বীকার করেন।

কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদী বলেন, মেয়র নিজের সুবিধার জন্য বিএনপির কাউন্সিলরদের বিজয়ী করতে চায়। যেহেতু আমি দলীয় কাউন্সিলরের পক্ষে তাই এটাকে ইস্যু করে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থক ও মেয়রের সমর্থকরা নৌকার উঠান বৈঠক শেষে ফেরার পথে আমার ওপর হামলা চালায়। পুলিশ আমাকে উদ্ধার করেছে। তারা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা চালিয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

মনোহরদী থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। বর্তমান পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলার যাতে অবনতি না হয় সেজন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

মেয়র ও মন্ত্রীপুত্রের সমর্থকদের সংঘর্ষে প্রার্থী-সাংবাদিকসহ জখম ১২

 নরসিংদী প্রতিনিধি 
১৪ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:৫৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নরসিংদীর মনোহরদীতে পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে হামলা পাল্টাহামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩ কাউন্সিলর প্রার্থী, সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর চালানো হয়। প্রতিপক্ষের হামলায় আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর দুই ভাইসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। 

এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির গাড়িসহ দুইটি গাড়ি ও ৮টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। বুধবার গভীর রাতে মনোহরদী হিন্দুপাড়াসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে এসে উভয়পক্ষের সমর্থকদের সরিয়ে নিলে ভোর ৪টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

এদিকে সাংবাদিকের বাড়িতে মেয়র সমর্থকদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সংবাদকর্মীরা।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে বর্তমানে ৬টিতেই বিএনপির কাউন্সিলররা দায়িত্ব পালন করছেন। যাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই বর্তমান মেয়র আমিনুর রশিদ সুজনের সখ্যতা রয়েছে। তারা এবারও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

এদিকে তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি কাউন্সিলর প্রার্থীদের ৪টি ওয়ার্ডে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদের প্রার্থী করেছেন শিল্পমন্ত্রীর ছেলে মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদী। এ নিয়ে মেয়র সুজনের সঙ্গে মন্ত্রীপুত্র সাদীর মতবিরোধ দেখা দেয়।

এর মধ্যে বুধবার রাত ৮টায় মনোহরদী হিন্দুপাড়া সার্বজনীন দুর্গাবাড়িতে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আমিনুর রশিদ সুজনের সর্বশেষ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক বাবু প্রিয়াশীষ রায়, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিল্পমন্ত্রীর ছোটভাই নজরুল মজিদ মাহমুদ স্বপন ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যকরী সদস্য মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদীসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে যোগ দেন।

রাত ১১টার দিকে সভা শেষে ফেরার পথে কাউন্সিলর প্রার্থী হারুন মাঝি ও খোকন রায়ের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে হারুন মাঝির পক্ষে অবস্থান নেন মেয়র সুজনের সমর্থকরা। আর খোকন রায়ের পক্ষে অবস্থান নেন সাদীর সমর্থকরা। উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে মেয়রের দুই ভাইসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। এ সময় উভয় পক্ষের ৮টি মোটরসাইকেল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলুল হকের গাড়ি ভাংচুর করা হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মেয়র সুজনের কয়েকশ' সমর্থক মনোহরদী বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হন। সেখান থেকে মেয়রের সমর্থকরা প্রথমে মনোহরদী হিন্দুপাড়ার মনোহরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দেশ রূপান্তর ও দেশ টিভির সাংবাদিক সুমন বর্মণ, কাউন্সিলর প্রার্থী পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খোকন রায়, সুকোমল সাহার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।

হামলা চালানো হয় সাংবাদিক সুমন বর্মণের ৩টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান,৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিহির রায়ের দোকান, চকপাড়া এলাকায় ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শরীফ রায়হানের অফিসে। পরে ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোতাহার হোসেনের অফিস, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলামের মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়।

হামলায় আহতদের মধ্যে চন্দনবাড়ি এলাকার মেয়র সুজনের বড়ভাই মামুনুর রশিদ (৩৫), ছোটভাই হাসানুর রশিদ তন্ময় (২৫), ইমতিয়াজ মান্নান (৩০), আল সাঈদী সাম্মী (৩২), শফিকুল আলম (৪৫), সোহেল আকন্দ (২৬), মাঝিপাড়া এলাকার মাসুম হাসান শুভ (৩০), লেবুতলা এলাকার নজরুল ইসলামসহ ১২ জন রয়েছেন। এদের মধ্যে মামুনুর রশিদ ও শফিকুল আলমকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী খোকন রায় বলেন, মেয়র সুজন ও কাউন্সিলর প্রার্থী হারুন মাঝি আমার বাড়ি ও সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। তারা পরিকল্পিতভাবে এ বিশৃঙ্খলা ঘটিয়েছে; যাতে ভোটের পরিবেশ নষ্ট হয়।

মনোহরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াশীষ রায় বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে হিন্দু বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা দুঃখজনক।

মনোহরদী পৌরসভা আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আমিনুর রশিদ সুজন বলেন, আমরা হিন্দুপাড়ায় নির্বাচনী উঠান বৈঠক শেষ করে চলে যাওয়ার সময় মন্ত্রীর ছেলে সাদীর সমর্থকরা আমার ও আমার লোকজনের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। আর একের পর এক গুলিবর্ষণ শুরু করে। এরই মধ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাকে আঘাত করার সময় আমার দুই ভাই আমাকে বাঁচাতে গেলে তারা গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমার ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। একইসঙ্গে আমার এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। তবে সাংবাদিকসহ অন্যদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের বিষয়ে তিনি অস্বীকার করেন।

কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদী বলেন, মেয়র নিজের সুবিধার জন্য বিএনপির কাউন্সিলরদের বিজয়ী করতে চায়। যেহেতু আমি দলীয় কাউন্সিলরের পক্ষে তাই এটাকে ইস্যু করে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থক ও মেয়রের সমর্থকরা নৌকার উঠান বৈঠক শেষে ফেরার পথে আমার ওপর হামলা চালায়। পুলিশ আমাকে উদ্ধার করেছে। তারা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা চালিয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

মনোহরদী থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। বর্তমান পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলার যাতে অবনতি না হয় সেজন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন