ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভিড়, ভেতরে ফাঁকা
jugantor
ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভিড়, ভেতরে ফাঁকা

  দিনাজপুর প্রতিনিধি  

১৬ জানুয়ারি ২০২১, ১৩:৪৯:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভিড়, ভেতরে ফাঁকা

দিনাজপুর পৌরসভা নির্বাচনে সকাল থেকে ভোটগ্রহণ চলছে। তবে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। কেন্দ্রের বাইরে দেখা গেছে ভোটারদের উপচেপড়া ভিড়।

বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। কিন্তু ভেতরে ভোটারদের তেমন উপস্থিতি নেই।

শনিবার বেলা ১১টায় দিনাজপুর পৌরসভার শাখারীপট্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ভোট কেন্দ্রের বাইরে শত শত ভোটার ও প্রার্থীদের সমর্থক। যেনো উপচেপড়া ভিড়। কিন্তু ভোট কেন্দ্রের ভেতরে একদম ফাঁকা। ভেতরে নেই তেমন ভোটার।

ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সবুজ আহম্মেদ জানান, ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার এক হাজার ৯৩০ জন। কিন্তু বেলা ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে প্রায় ৩০০।

তিনি জানান, বাইরে ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও তারা ভোট দিতে আসছেন দু/একজন করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ভোটারের উপস্থিতি হয়ত বাড়বে, এমন আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কয়েকজন ভোটার জানান, ভোট দিলেই দাম কমে যাবে। তাই তারা একটু পরেই ভোট দেবেন।

গুল্লু নামে এক ভোটার জানান, ভোট দেওয়ার পর আমাদের খবর কেউ নেন না, যা নেন ভোটের আগেই। ভোট দিলেই আর কেউ ভালো-মন্দও জিজ্ঞেস করবে না। যতক্ষণ ভোটটি ধরে রাখা যায়, ততক্ষণই আমাদের সম্মান, ভোটটি দিয়ে দিলেই শেষ। তাই একটু দেরি করেই ভোটটি দেবো।

শুধু শাখারীপট্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র নয়, দিনাজপুর পৌর এলাকার বেশীরভাগ কেন্দ্রেরই একই রকম চিত্র।

উল্লেখ্য, দিনাজপুরের তিনটি পৌরসভার মোট এক লাখ ৮৩ হাজার ৯৬ জন ভোটারের জন্য ৭৪ টি কেন্দ্রে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এর মধ্যে দিনাজপুর পৌরসভার ৪৯টি ভোটকেন্দ্রে এক লাখ ৩০ হাজার ৮০৩ ভোটার, বিরামপুর পৌরসভার ১৬টি ভোট কেন্দ্রে ৩৬ হাজার ৭৪৮ ভোটার এবং বীরগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ভোট কেন্দ্রে ১৫ হাজার ৫৪৫ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

তিনটি পৌরসভায় মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৯৮ প্রার্থী। এদের মধ্যে দিনাজপুর পৌরসভায় ৮৭ জন, বীরগঞ্জ পৌরসভায় ৫৯ জন এবং বিরামপুর পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫২ প্রার্থী।

দিনাজপুর জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা শাহীনুর ইসলাম প্রামাণিক জানান, জেলার তিনটি পৌরসভার ৭৪টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২৮টি ভোট কেন্দ্রকে অধীক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে দিনাজপুর পৌরসভায় ১২টি কেন্দ্র, বিরামপুর পৌরসভায় ১১টি কেন্দ্র এবং বীরগঞ্জ পৌরসভায় পাঁটিটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় রয়েছে।

সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, প্রত্যেকটি কেন্দ্রে একজন করে এসআই এর নেতৃত্বে পাঁচ অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য, দুজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য, চারজন পুরুষ ও তিনজন নারী লাঠিধারী আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের জন্য দিনাজপুরের তিনটি পৌরসভায় দেড় হাজারের অধীক আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

এছাড়া দিনাজপুর পৌরসভায় ২১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দুজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, বীরগঞ্জ পৌরসভায় নয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিরামপুর পৌরসভায় ৯ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি টহল দিচ্ছেন র্যাভব ও বিজিবি সদস্যরা।

ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভিড়, ভেতরে ফাঁকা

 দিনাজপুর প্রতিনিধি 
১৬ জানুয়ারি ২০২১, ০১:৪৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভিড়, ভেতরে ফাঁকা
ছবি: যুগান্তর

দিনাজপুর পৌরসভা নির্বাচনে সকাল থেকে ভোটগ্রহণ চলছে।  তবে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম।  কেন্দ্রের বাইরে দেখা গেছে ভোটারদের উপচেপড়া ভিড়।

বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের ভিড় লক্ষ করা গেছে।  কিন্তু ভেতরে ভোটারদের তেমন উপস্থিতি নেই।

শনিবার বেলা ১১টায় দিনাজপুর পৌরসভার শাখারীপট্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ভোট কেন্দ্রের বাইরে শত শত ভোটার ও প্রার্থীদের সমর্থক। যেনো উপচেপড়া ভিড়।  কিন্তু ভোট কেন্দ্রের ভেতরে একদম ফাঁকা। ভেতরে নেই তেমন ভোটার।

ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সবুজ আহম্মেদ জানান, ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার এক হাজার ৯৩০ জন। কিন্তু বেলা ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে প্রায় ৩০০।

তিনি জানান, বাইরে ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও তারা ভোট দিতে আসছেন দু/একজন করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ভোটারের উপস্থিতি হয়ত বাড়বে, এমন আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কয়েকজন ভোটার জানান, ভোট দিলেই দাম কমে যাবে। তাই তারা একটু পরেই ভোট দেবেন।

গুল্লু নামে এক ভোটার জানান, ভোট দেওয়ার পর আমাদের খবর কেউ নেন না, যা নেন ভোটের আগেই। ভোট দিলেই আর কেউ ভালো-মন্দও জিজ্ঞেস করবে না।  যতক্ষণ ভোটটি ধরে রাখা যায়, ততক্ষণই আমাদের সম্মান, ভোটটি দিয়ে দিলেই শেষ। তাই একটু দেরি করেই ভোটটি দেবো।

শুধু শাখারীপট্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র নয়, দিনাজপুর পৌর এলাকার বেশীরভাগ কেন্দ্রেরই একই রকম চিত্র।

উল্লেখ্য, দিনাজপুরের তিনটি পৌরসভার মোট এক লাখ ৮৩ হাজার ৯৬ জন ভোটারের জন্য ৭৪ টি কেন্দ্রে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এর মধ্যে দিনাজপুর পৌরসভার ৪৯টি ভোটকেন্দ্রে এক লাখ ৩০ হাজার ৮০৩ ভোটার, বিরামপুর পৌরসভার ১৬টি ভোট কেন্দ্রে ৩৬ হাজার ৭৪৮ ভোটার এবং বীরগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ভোট কেন্দ্রে ১৫ হাজার ৫৪৫ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

তিনটি পৌরসভায় মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৯৮ প্রার্থী। এদের মধ্যে দিনাজপুর পৌরসভায় ৮৭ জন, বীরগঞ্জ পৌরসভায় ৫৯ জন এবং বিরামপুর পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫২ প্রার্থী।

দিনাজপুর জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা শাহীনুর ইসলাম প্রামাণিক জানান, জেলার তিনটি পৌরসভার ৭৪টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২৮টি ভোট কেন্দ্রকে অধীক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে দিনাজপুর পৌরসভায় ১২টি কেন্দ্র, বিরামপুর পৌরসভায় ১১টি কেন্দ্র এবং বীরগঞ্জ পৌরসভায় পাঁটিটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় রয়েছে।

সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, প্রত্যেকটি কেন্দ্রে একজন করে এসআই এর নেতৃত্বে পাঁচ অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য, দুজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য, চারজন পুরুষ ও তিনজন নারী লাঠিধারী আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের জন্য দিনাজপুরের তিনটি পৌরসভায় দেড় হাজারের অধীক আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

এছাড়া দিনাজপুর পৌরসভায় ২১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দুজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, বীরগঞ্জ পৌরসভায় নয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিরামপুর পৌরসভায় ৯ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি টহল দিচ্ছেন র্যাভব ও বিজিবি সদস্যরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন