নড়িয়ায় নীরব, জাজিরায় উত্তেজনা, ভেদরগঞ্জে বোমা হামলা
jugantor
নড়িয়ায় নীরব, জাজিরায় উত্তেজনা, ভেদরগঞ্জে বোমা হামলা

  কেএম রায়হান কবীর, শরীয়তপুর প্রতিনিধি  

১৮ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৫৮:০৫  |  অনলাইন সংস্করণ

শরীয়তপুর

শরীয়তপুর জেলার ৩টি পৌরসভা নির্বাচনে সবটিতেই সরব আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহীরা। অফিস-বাড়িতে বোমা হামলা ও মোটরসাইকেল ভাংচুরের অভিযোগ উঠছে। তবে মাঠে নেই বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা বলছেন, এই এলাকায় আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হওয়ায় তাদের প্রচার-প্রচারণা চালানোর মতো জনশক্তি নেই। অন্যদিকে বিএনপির অভিযোগ প্রচার-প্রচারণায় ক্ষমতাসীন দলসহ প্রশাসনের বাধা। জনগণের ভাবনা ভোটের দিন কেন্দ্রে গিয়ে ঠিকমতো ভোট দিতে পারবেন কিনা। এ নিয়ে সংশয় রয়েছে ৩ পৌরসভার ভোটারদের মাঝে।

৩০ জানুয়ারি পৌর নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে জাজিরা, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে জাজিরা ও ভেদরগঞ্জে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সম্পূর্ণ ভিন্নচিত্র ইতালি প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা নড়িয়া পৌরসভা। নামমাত্র নড়িয়া পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী থাকলেও নির্বাচনী বহু এলাকা খুঁজে চোখে পড়েনি ধানের শীষের পোস্টার। নড়িয়ায় নৌকার কোনো শক্ত প্রতিপক্ষ নেই। তাই অনেকটা নিশ্চিত বিজয়ের পক্ষে রয়েছেন নৌকার মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ।

ভেদরগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকার মাঝি ও বর্তমান মেয়র আব্দুল মান্নান হাওলাদার। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল বাশার চৌকদার। তারা দুজনেই জোরেশোরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে প্রচারে বাধা দিতে গিয়ে বোমা হামলা, অফিস ভাংচুর, বাড়ি ও গাড়ি ভাংচুর করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ নিয়ে পুরো ভেদরগঞ্জ পৌরশহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল বাশার চৌকদার (জগ) বলেন, রোববার ১৭ জানুয়ারি রাত ১০টায় আমরা মাইক্রোবাস নিয়ে প্রচারণায় গিয়েছিলাম। সেখানে নৌকার প্রার্থী আব্দুল মান্নান হাওলাদারের লোকজন আমাদের গাড়ির উপর বোমা নিক্ষেপ করে। আমার নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করে। এতে বোমার স্প্লিন্টারে হালিম বেপারি (৩৪), মো. রাকিব (৩০), বাপ্পি মিয়াসহ (২৫) দশজন মারাত্মক আহত হন। তাদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

১৫ জানুয়ারি ভেদরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের প্রচারণা কেন্দ্র করে দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘষের ঘটনা ঘটে। এতে দুইপক্ষের ১১ জন আহত হয়েছেন।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে নৌকার প্রার্থী আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, উল্টো বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজনই আমার বাড়ির সামনে বোমা হামলা করেছে। এতে আমার ২ জন সমর্থক আহত হয়েছেন। এ নিয়ে আমার লোকজন মামলা করেছেন।

অনেক খোঁজে ধানের শীষের পোস্টার না পাওয়া প্রসঙ্গে নড়িয়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী সৈয়দ রিন্টু সাংবাদিকদের কাছে কোনো উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান এবং বলেন আমার কিছুই বলার নেই।

নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে জাজিরা পৌরসভার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক মেয়র আবুল খায়ের ফকির বলেন, নৌকার প্রার্থী সভা-সমাবেশে আমাকে ও আমার লোকজনকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। রাতের আঁধারে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে আমাদের পোস্টার।

জাজিরা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হক কবিরাজ বলেন, অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তারা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএম রশিদুল বারী বলেন, গত রোববার রাত ১০টার দিকে নৌকার প্রার্থীর বাড়ির সামনে কে বা কারা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর নৌকার সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর বাড়িঘর ভাংচুর করতে যায়। ওই সময় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে ৫ জন আহত হন।

এ ঘটনায় পুলিশের এসআই মিথুন হালদার বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। দুই প্রার্থীর পক্ষে দুটি মামলাসহ মোট ৩টি মামলা হয়েছে। এতে ৫ জন গ্রেফতার হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপিসহ কারও কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। সবাই সুন্দরভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের দিন প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেটসহ পর্যাপ্ত পুলিশ, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবেন।

নড়িয়ায় নীরব, জাজিরায় উত্তেজনা, ভেদরগঞ্জে বোমা হামলা

 কেএম রায়হান কবীর, শরীয়তপুর প্রতিনিধি 
১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:৫৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
শরীয়তপুর
শরীয়তপুর

শরীয়তপুর জেলার ৩টি পৌরসভা নির্বাচনে সবটিতেই সরব আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহীরা। অফিস-বাড়িতে বোমা হামলা ও মোটরসাইকেল ভাংচুরের অভিযোগ উঠছে। তবে মাঠে নেই বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা বলছেন, এই এলাকায় আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হওয়ায় তাদের প্রচার-প্রচারণা চালানোর মতো জনশক্তি নেই। অন্যদিকে বিএনপির অভিযোগ প্রচার-প্রচারণায় ক্ষমতাসীন দলসহ প্রশাসনের বাধা। জনগণের ভাবনা ভোটের দিন কেন্দ্রে গিয়ে ঠিকমতো ভোট দিতে পারবেন কিনা। এ নিয়ে সংশয় রয়েছে ৩ পৌরসভার ভোটারদের মাঝে।

৩০ জানুয়ারি পৌর নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে জাজিরা, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে জাজিরা ও ভেদরগঞ্জে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সম্পূর্ণ ভিন্নচিত্র ইতালি প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা নড়িয়া পৌরসভা। নামমাত্র নড়িয়া পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী থাকলেও নির্বাচনী বহু এলাকা খুঁজে চোখে পড়েনি ধানের শীষের পোস্টার। নড়িয়ায় নৌকার কোনো শক্ত প্রতিপক্ষ নেই। তাই অনেকটা নিশ্চিত বিজয়ের পক্ষে রয়েছেন নৌকার মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ।

ভেদরগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকার মাঝি ও বর্তমান মেয়র আব্দুল মান্নান হাওলাদার। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল বাশার চৌকদার। তারা দুজনেই জোরেশোরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে প্রচারে বাধা দিতে গিয়ে বোমা হামলা, অফিস ভাংচুর, বাড়ি ও গাড়ি ভাংচুর করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ নিয়ে পুরো ভেদরগঞ্জ পৌরশহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল বাশার চৌকদার (জগ) বলেন, রোববার ১৭ জানুয়ারি রাত ১০টায় আমরা মাইক্রোবাস নিয়ে প্রচারণায় গিয়েছিলাম। সেখানে নৌকার প্রার্থী আব্দুল মান্নান হাওলাদারের লোকজন আমাদের গাড়ির উপর বোমা নিক্ষেপ করে। আমার নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করে। এতে বোমার স্প্লিন্টারে হালিম বেপারি (৩৪), মো. রাকিব (৩০), বাপ্পি মিয়াসহ (২৫) দশজন মারাত্মক আহত হন। তাদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

১৫ জানুয়ারি ভেদরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের প্রচারণা কেন্দ্র করে দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘষের ঘটনা ঘটে। এতে দুইপক্ষের ১১ জন আহত হয়েছেন।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে নৌকার প্রার্থী আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, উল্টো বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজনই আমার বাড়ির সামনে বোমা হামলা করেছে। এতে আমার ২ জন সমর্থক আহত হয়েছেন। এ নিয়ে আমার লোকজন মামলা করেছেন।

অনেক খোঁজে ধানের শীষের পোস্টার না পাওয়া প্রসঙ্গে নড়িয়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী সৈয়দ রিন্টু সাংবাদিকদের কাছে কোনো উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান এবং বলেন আমার কিছুই বলার নেই।

নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে জাজিরা পৌরসভার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক মেয়র আবুল খায়ের ফকির বলেন, নৌকার প্রার্থী সভা-সমাবেশে আমাকে ও আমার লোকজনকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। রাতের আঁধারে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে আমাদের পোস্টার।

জাজিরা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হক কবিরাজ বলেন, অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তারা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএম রশিদুল বারী বলেন, গত রোববার রাত ১০টার দিকে নৌকার প্রার্থীর বাড়ির সামনে কে বা কারা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর নৌকার সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর বাড়িঘর ভাংচুর করতে যায়। ওই সময় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে ৫ জন আহত হন।

এ ঘটনায় পুলিশের এসআই  মিথুন হালদার বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। দুই প্রার্থীর পক্ষে দুটি মামলাসহ মোট ৩টি মামলা হয়েছে। এতে ৫ জন গ্রেফতার হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপিসহ কারও কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। সবাই সুন্দরভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের দিন প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেটসহ পর্যাপ্ত পুলিশ, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন