পাঠশালা পাস করা লাভলু এখন নামকরা ডেন্টিস্ট!
jugantor
পাঠশালা পাস করা লাভলু এখন নামকরা ডেন্টিস্ট!

  সিলেট ব্যুরো ও ফেঞ্চুগঞ্জ সংবাদদাতা  

১৯ জানুয়ারি ২০২১, ১৭:৪২:৩৭  |  অনলাইন সংস্করণ

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ছত্তিশ গ্রামের বাসিন্দা এমএসইউ লাভলু। পেশায় একজন দন্ত ও মুখ গহ্বর চিকিৎসক। রয়েছে তার সুসজ্জিত চোখজুড়ানো চেম্বার। ওই চেম্বারে আছে দামি ডেন্টাল ইউনিট।

চেম্বারে দামি আসবাবপত্রসহ সবই আছে। তবে নেই শুধু তার ডিগ্রি। পড়াশোনার দৌড় সর্বোচ্চ প্রাথমিকের গণ্ডি হলেও বর্তমানে তিনি ডেন্টালের নামকরা চিকিৎসক। বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির (বিডিএস) সরবরাহ করা তালিকা অনুযায়ী তিনি একজন ‘হাতুড়ে দন্ত চিকিৎসক’।

২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর সিলেটের গোয়াইঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ভুয়া ডাক্তার লাভলুকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারপরও লাভলু নিজেকে ডেন্টিস্টের ডাক্তার পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন।

গোয়াইনঘাটে সাজা ভোগ করার পর এবার সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সদরের পশ্চিম বাজারে বর্তমানে তিনি এ্যাপোলো ডেন্টাল কেয়ার চালাচ্ছেন। ডেন্টাল কেয়ারের সাইনবোর্ডে ঢাকা থেকে আগত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা দেওয়ার কথা থাকলেও লাভলু নামের কথিত ডাক্তার নিজের নামে প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন রোগীদের।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই ডেন্টালে দাঁতে ব্যথা, দাঁত তোলা, স্ক্যালিং, ফিলিং (লাইট কিউরসহ), দাঁত বাঁধানো (পিডি, সিডিসহ), উঁচু ও বাঁকা দাঁত সমান করা, রুট ক্যানেল জিএনজি ভাইটিস, দাঁতের গোড়া হতে রক্ত পড়াসহ নানা রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

প্রকৃতপক্ষে সেখানে রোগীরা গিয়ে অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। নামের আগে ডেন্টিস্ট লিখে লাভলু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতো ফি নিয়ে নিয়মিত চেম্বারে রোগী দেখছেন।

লাভলুর অপচিকিৎসার শিকার হওয়া উপজেলার ছত্তিশ গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক এনাম বলেন, আমি দাঁত ফিলিং করতে লাভলুর কাছে গিয়েছিলাম। সে আমার ভালো একটি দাঁতকে কালো করে দিয়ে বলেছিল এক সপ্তাহ ওষুধ সেবন করার জন্য। আমি তার কথা অনুযায়ী ওষুধ সেবন করি। তিন সপ্তাহ পর সে আমার দুটি দাঁত তোলে ফেলে। আমার দাঁতে নাকি চিকিৎসা করলে ভালো হবে না। এতে আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির (বিডিএস) ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) কর্তৃক স্বীকৃত ডিগ্রি ছাড়া কেউ ডাক্তার সেজে চিকিৎসা দিতে পারবেন না। নিয়ম অনুযায়ী এমএসইউ লাভলু ভুয়া ডাক্তার হিসেবে বিবেচিত।

এ ব্যাপারে এমএসইউ লাভলুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কোর্স করে আমি ডিডিটি ও এমভিডি উপাধি পেয়েছি। বিএমডিসি থেকে আমি রেজিস্ট্রেশন পেয়েছি।

এ বিষয়ে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল যুগান্তরকে বলেন, লাভলু তার নামের পাশে যে ডিগ্রিগুলো (ডিডিটি ও এমভিডি) ব্যবহার করছে সেগুলো কোনো বড় ডিগ্রি না। যদি তিনি সাধারণ বা ডিপ্লোমাধারী কোনো কোর্স করে থাকেন তাহলে তিনি ডাক্তারের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে পারবেন। তিনি কোনো রোগীর দাঁতে অস্ত্রোপচার করতে পারবেন না।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসন লাভলুর ডিগ্রিগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখতে পারেন- কোন নিয়মে তিনি রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।

পাঠশালা পাস করা লাভলু এখন নামকরা ডেন্টিস্ট!

 সিলেট ব্যুরো ও ফেঞ্চুগঞ্জ সংবাদদাতা 
১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০৫:৪২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ছত্তিশ গ্রামের বাসিন্দা এমএসইউ লাভলু। পেশায় একজন দন্ত ও মুখ গহ্বর চিকিৎসক। রয়েছে তার সুসজ্জিত চোখজুড়ানো চেম্বার। ওই চেম্বারে আছে দামি ডেন্টাল ইউনিট।

চেম্বারে দামি আসবাবপত্রসহ সবই আছে। তবে নেই শুধু তার ডিগ্রি। পড়াশোনার দৌড় সর্বোচ্চ প্রাথমিকের গণ্ডি হলেও বর্তমানে তিনি ডেন্টালের নামকরা চিকিৎসক। বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির (বিডিএস) সরবরাহ করা তালিকা অনুযায়ী তিনি একজন ‘হাতুড়ে দন্ত চিকিৎসক’।

২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর সিলেটের গোয়াইঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ভুয়া ডাক্তার লাভলুকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারপরও লাভলু নিজেকে ডেন্টিস্টের ডাক্তার পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন।

গোয়াইনঘাটে সাজা ভোগ করার পর এবার সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সদরের পশ্চিম বাজারে বর্তমানে তিনি এ্যাপোলো ডেন্টাল কেয়ার চালাচ্ছেন। ডেন্টাল কেয়ারের সাইনবোর্ডে ঢাকা থেকে আগত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা দেওয়ার কথা থাকলেও লাভলু নামের কথিত ডাক্তার নিজের নামে প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন রোগীদের।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই ডেন্টালে দাঁতে ব্যথা, দাঁত তোলা, স্ক্যালিং, ফিলিং (লাইট কিউরসহ), দাঁত বাঁধানো (পিডি, সিডিসহ), উঁচু ও বাঁকা দাঁত সমান করা, রুট ক্যানেল জিএনজি ভাইটিস, দাঁতের গোড়া হতে রক্ত পড়াসহ নানা রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

প্রকৃতপক্ষে সেখানে রোগীরা গিয়ে অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। নামের আগে ডেন্টিস্ট লিখে লাভলু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতো ফি নিয়ে নিয়মিত চেম্বারে রোগী দেখছেন।

লাভলুর অপচিকিৎসার শিকার হওয়া উপজেলার ছত্তিশ গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক এনাম বলেন, আমি দাঁত ফিলিং করতে লাভলুর কাছে গিয়েছিলাম। সে আমার ভালো একটি দাঁতকে কালো করে দিয়ে বলেছিল এক সপ্তাহ ওষুধ সেবন করার জন্য। আমি তার কথা অনুযায়ী ওষুধ সেবন করি।  তিন সপ্তাহ পর সে আমার দুটি দাঁত তোলে ফেলে। আমার দাঁতে নাকি চিকিৎসা করলে ভালো হবে না। এতে আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির (বিডিএস) ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) কর্তৃক স্বীকৃত ডিগ্রি ছাড়া কেউ ডাক্তার সেজে চিকিৎসা দিতে পারবেন না। নিয়ম অনুযায়ী এমএসইউ লাভলু ভুয়া ডাক্তার হিসেবে বিবেচিত।

এ ব্যাপারে এমএসইউ লাভলুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কোর্স করে আমি ডিডিটি ও এমভিডি উপাধি পেয়েছি। বিএমডিসি থেকে আমি রেজিস্ট্রেশন পেয়েছি।

এ বিষয়ে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল যুগান্তরকে বলেন, লাভলু তার নামের পাশে যে ডিগ্রিগুলো (ডিডিটি ও এমভিডি) ব্যবহার করছে সেগুলো কোনো বড় ডিগ্রি না। যদি তিনি সাধারণ বা ডিপ্লোমাধারী কোনো কোর্স করে থাকেন তাহলে তিনি ডাক্তারের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে পারবেন। তিনি কোনো রোগীর দাঁতে অস্ত্রোপচার করতে পারবেন না।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসন লাভলুর ডিগ্রিগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখতে পারেন- কোন নিয়মে তিনি রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন