'গরিবের দুঃখু বুঝুইন বইল্যাই আমরারে ঘর বানাইয়া দিছুইন'
jugantor
'গরিবের দুঃখু বুঝুইন বইল্যাই আমরারে ঘর বানাইয়া দিছুইন'

  কামাল হোসাইন, নেত্রকোনা  

১৯ জানুয়ারি ২০২১, ২১:১২:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

শহরের মাছ বাজারে ১০ বছর ধরে ভিক্ষাবৃত্তি করে দিন পার করেন নেত্রকোনার শারীরিক প্রতিবন্ধী মিনা আক্তার (৪০)। বিধবা ওই নারী থাকেন সদর উপজেলার চকপাড়া গ্রামে এক ব্যক্তির আশ্রয়ে। নিজের ঘর বা জমি বলতে কিছুই নেই।

এই দরিদ্র মিনা আধাপাকা একটি ঘর পাচ্ছেন। সঙ্গে পাচ্ছেন একখণ্ড জমিও। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গৃহীত ‘ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম’ এর আওতায় এ জমি ও ঘর পাচ্ছেন তিনি।

জানতে চাইলে মিনা বলেন, ‘পাক্কা (পাকা) ঘরও থাকবাম, ঘুমাইয়াম এইডা স্বপ্নেও কুনুদিন ভাবচি না।' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ করে মিনা বলেন, ‘হেইন গরিবের দুঃখু বুঝুইন বইল্যাই আমরারে ঘর বানাইয়া দিছুইন। আমরা তার লাইগ্যা পরান ভইরা দোয়া করি।’

শুধু মিনাই নন, তার মতো এমন ঘর ও জমি পাচ্ছেন জেলার মোট ৯৬০ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন হতদরিদ্র মানুষ। প্রত্যেকের নামে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে দুই শতক করে খাসজমি। আর তাতে ঘর নির্মাণ বাবদ ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার করে টাকা। যার পুরোটাই বহন করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে।

নির্মিত ১৯ দশমিক ৬ ফুট বাই ২২ ফুটের দুটি শয়নকক্ষ, একটি রান্না ঘর, সংযুক্ত পায়খানা- গোসলখানা ও সামনে বারান্দাসহ রঙিন টিনের ছাউনি দ্বারা এসব ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ১৬ কোটি ৪১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে এসব ঘরবাড়ি নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে জেলা সদরে ৪৩টি, বারহাট্টায় ৪৫টি, আটপাড়ায় ৯৮টি, পূর্বধলায় ৫৩টি, দুর্গাপুরে ৩৫টি, কেন্দুয়ায় ৫০টি, কলমাকান্দায় ১০১টি, মদনে ৫৬টি, মোহনগঞ্জে ৩৬টি এবং হাওর উপজেলা খালিয়াজুরিতে ৪৪৩টি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়া এসব পরিবারের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ এবং পানি সরবরাহে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের (ডিপিএইচই) ব্যবস্থাপনায় প্রতি ১০টি পরিবারের জন্য একটি করে সাবমারসিবল পাম্প বসানো হচ্ছে। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তদারকির মাধ্যমে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ঘর নির্মাণের কাজ।

প্রতিটি উপজেলায় নিয়মিত নির্মাণ কাজ পর্যবেক্ষণ করছেন জেলা প্রশাসক কাজী মো. আব্দুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ কর্মকর্তারা।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি মো. আব্দুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৩ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঘর ও জমি বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এজন্য দ্রুত প্রত্যেকটি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

'গরিবের দুঃখু বুঝুইন বইল্যাই আমরারে ঘর বানাইয়া দিছুইন'

 কামাল হোসাইন, নেত্রকোনা 
১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:১২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

শহরের মাছ বাজারে ১০ বছর ধরে ভিক্ষাবৃত্তি করে দিন পার করেন নেত্রকোনার শারীরিক প্রতিবন্ধী মিনা আক্তার (৪০)। বিধবা ওই নারী থাকেন সদর উপজেলার চকপাড়া গ্রামে এক ব্যক্তির আশ্রয়ে। নিজের ঘর বা জমি বলতে কিছুই নেই।

এই দরিদ্র মিনা আধাপাকা একটি ঘর পাচ্ছেন। সঙ্গে পাচ্ছেন একখণ্ড জমিও। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গৃহীত ‘ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম’ এর আওতায় এ জমি ও ঘর পাচ্ছেন তিনি।

জানতে চাইলে মিনা বলেন, ‘পাক্কা (পাকা) ঘরও থাকবাম, ঘুমাইয়াম এইডা স্বপ্নেও কুনুদিন ভাবচি না।' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ করে মিনা বলেন, ‘হেইন গরিবের দুঃখু বুঝুইন বইল্যাই আমরারে ঘর বানাইয়া দিছুইন। আমরা তার লাইগ্যা পরান ভইরা দোয়া করি।’

শুধু মিনাই নন, তার মতো এমন ঘর ও জমি পাচ্ছেন জেলার মোট ৯৬০ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন হতদরিদ্র মানুষ। প্রত্যেকের নামে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে দুই শতক করে খাসজমি। আর তাতে ঘর নির্মাণ বাবদ ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার করে টাকা। যার পুরোটাই বহন করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে।

নির্মিত ১৯ দশমিক ৬ ফুট বাই ২২ ফুটের দুটি শয়নকক্ষ, একটি রান্না ঘর, সংযুক্ত পায়খানা- গোসলখানা ও সামনে বারান্দাসহ রঙিন টিনের ছাউনি দ্বারা এসব ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ১৬ কোটি ৪১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে এসব ঘরবাড়ি নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে জেলা সদরে ৪৩টি, বারহাট্টায় ৪৫টি, আটপাড়ায় ৯৮টি, পূর্বধলায় ৫৩টি, দুর্গাপুরে ৩৫টি, কেন্দুয়ায় ৫০টি, কলমাকান্দায় ১০১টি, মদনে ৫৬টি, মোহনগঞ্জে ৩৬টি এবং হাওর উপজেলা খালিয়াজুরিতে ৪৪৩টি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়া এসব পরিবারের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ এবং পানি সরবরাহে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের (ডিপিএইচই) ব্যবস্থাপনায় প্রতি ১০টি পরিবারের জন্য একটি করে সাবমারসিবল পাম্প বসানো হচ্ছে। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তদারকির মাধ্যমে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ঘর নির্মাণের কাজ।

প্রতিটি উপজেলায় নিয়মিত নির্মাণ কাজ পর্যবেক্ষণ করছেন জেলা প্রশাসক কাজী মো. আব্দুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ কর্মকর্তারা।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি মো. আব্দুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৩ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঘর ও জমি বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এজন্য দ্রুত প্রত্যেকটি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন