ভিক্ষার টাকায় জমি কিনে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবারসহ অন্ধ ভিক্ষুক
jugantor
ভিক্ষার টাকায় জমি কিনে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবারসহ অন্ধ ভিক্ষুক

  হোসাইন আহাম্মেদ সুলভ, মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ)  

২০ জানুয়ারি ২০২১, ১৮:৩২:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

ভিক্ষার টাকায় জমি কিনে দীর্ঘদিনেও দখল নিতে পারছেন না মানিক মিয়া নামে এক অন্ধ যুবক। গ্রামবাসীর সহযোগিতায় জমি দখল নিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের দায়ের কুপে হামলার শিকার হয়েছেন অন্ধ যুবকের পরিবারের সদস্যরা।

অন্ধ মানিক তার পরিবার নিয়ে এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি করছেন।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের মৃত সুরুজ আলীর ছেলে মানিক মিয়া। ছোটবেলায় তার চোখের সমস্যা দেখা দেয়। এরপর তার দুই চোখই অন্ধ হয়ে যায়। লেখাপড়ার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও অন্ধত্বের কারণে তার আর লেখপড়া করা হয়নি।

জীবন চালাতে মানিক ছোটবেলা থেকেই ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিক্ষা শুরু করেন। এ সময়ে তিনি বিয়ে করেন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। ভিক্ষায় চলে তার সংসার।

কিছু জমানো টাকা দিয়ে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে মানিক একই এলাকার আবু বকর সিদ্দিকের কাছ থেকে সাবকবলামূলে বাড়ির পাশেই সাড়ে ছয় শতক জমি কেনেন। জমি কেনার পর ওই জমি দখল নিতে গেলে জমি বিক্রেতা আবু বকর সিদ্দিক অন্ধ মানিক মিয়াকে জমি দখল না দিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করেন।

গত এক বছরেও ওই জমি বুঝিয়ে দেয়নি তাকে। এ নিয়ে থানা পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে একাধিক সালিশ হয়। এরপরও কোনো সমাধান হয়নি। জমি দখল নিতে গেলেই হামলা চালানো হয় অন্ধ মানিক ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর।

শুক্রবার আবারও লাঠিসোটা নিয়ে অন্ধ মানিকের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে মানিকের বড়বোন কনিকার মাথায় দা দিয়ে আঘাত করা হয়। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন অন্ধ পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হবি বলেন, ভিক্ষা করা টাকা দিয়ে অন্ধ মানিক সরকারি নিয়মে জমি কিনেও তিনি দখলে নিতে পারছেন না। এ নিয়ে একাধিক গ্রাম্যসালিশও করা হয়। এরপরও জমির মালিক তাকে জমি বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। বরং বারবার মানিকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।

অন্ধ মানিক মিয়া বলেন, তার ভিক্ষা করা কিছু জমানো টাকা দিয়ে ওই জমিটুকু কেনেন। সরকারি ভূমি অফিসে তিনি জমির খাজনাও পরিশোধ করেছেন। এরপরও জমি বুঝিয়ে না দিয়ে তাদের ওপর বারবার হামলা চালানো হচ্ছে। তার বড়বোনকে তারা কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। এখন তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার দাবি করছেন।

জমি বিক্রেতা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তিনি না জেনে ভুলক্রমে জমিটি বিক্রি করে ছিলেন। তখন টাকার প্রয়োজন ছিল, এখন টাকার প্রয়োজন নেই। এ কারণেই তাকে জমি দেওয়া হচ্ছে না। জমিটি তাদের প্রয়োজন।

মুক্তাগাছা থানার ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস যুগান্তরকে বলেন, অন্ধ মানিক মিয়ার কাছ থেকে তারবোনের ওপর হামলার একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তের পর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভিক্ষার টাকায় জমি কিনে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবারসহ অন্ধ ভিক্ষুক

 হোসাইন আহাম্মেদ সুলভ, মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) 
২০ জানুয়ারি ২০২১, ০৬:৩২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ভিক্ষার টাকায় জমি কিনে দীর্ঘদিনেও দখল নিতে পারছেন না মানিক মিয়া নামে এক অন্ধ যুবক। গ্রামবাসীর সহযোগিতায় জমি দখল নিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের দায়ের কুপে হামলার শিকার হয়েছেন অন্ধ যুবকের পরিবারের সদস্যরা।

অন্ধ মানিক তার পরিবার নিয়ে এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি করছেন।  

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের মৃত সুরুজ আলীর ছেলে মানিক মিয়া। ছোটবেলায় তার চোখের সমস্যা দেখা দেয়। এরপর তার দুই চোখই অন্ধ হয়ে যায়। লেখাপড়ার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও অন্ধত্বের কারণে তার আর লেখপড়া করা হয়নি।

জীবন চালাতে মানিক ছোটবেলা থেকেই ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিক্ষা শুরু করেন। এ সময়ে তিনি বিয়ে করেন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। ভিক্ষায় চলে তার সংসার।

কিছু জমানো টাকা দিয়ে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে মানিক একই এলাকার আবু বকর সিদ্দিকের কাছ থেকে সাবকবলামূলে বাড়ির পাশেই সাড়ে ছয় শতক জমি কেনেন। জমি কেনার পর ওই জমি দখল নিতে গেলে জমি বিক্রেতা আবু বকর সিদ্দিক অন্ধ মানিক মিয়াকে জমি দখল না দিয়ে  নানা টালবাহানা শুরু করেন।

গত এক বছরেও ওই জমি বুঝিয়ে দেয়নি তাকে। এ নিয়ে থানা পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে একাধিক সালিশ হয়। এরপরও কোনো সমাধান হয়নি। জমি দখল নিতে গেলেই হামলা চালানো হয় অন্ধ মানিক ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর।

শুক্রবার আবারও লাঠিসোটা নিয়ে অন্ধ মানিকের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে মানিকের বড়বোন কনিকার মাথায় দা দিয়ে আঘাত করা হয়। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন অন্ধ পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হবি বলেন, ভিক্ষা করা টাকা দিয়ে অন্ধ মানিক সরকারি নিয়মে জমি কিনেও তিনি দখলে নিতে পারছেন না। এ নিয়ে একাধিক গ্রাম্যসালিশও করা হয়। এরপরও জমির মালিক তাকে জমি বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। বরং বারবার মানিকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।  

অন্ধ মানিক মিয়া বলেন, তার ভিক্ষা করা কিছু জমানো টাকা দিয়ে ওই জমিটুকু কেনেন। সরকারি ভূমি অফিসে তিনি জমির খাজনাও পরিশোধ করেছেন। এরপরও জমি বুঝিয়ে না দিয়ে তাদের ওপর বারবার হামলা চালানো হচ্ছে। তার বড়বোনকে তারা কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। এখন তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার দাবি করছেন।

জমি বিক্রেতা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তিনি না জেনে ভুলক্রমে জমিটি বিক্রি করে ছিলেন। তখন টাকার প্রয়োজন ছিল, এখন টাকার প্রয়োজন নেই। এ কারণেই তাকে জমি দেওয়া হচ্ছে না। জমিটি তাদের প্রয়োজন। 

মুক্তাগাছা থানার ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস যুগান্তরকে বলেন, অন্ধ মানিক মিয়ার কাছ থেকে তারবোনের ওপর হামলার একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তের পর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন