ভিত ছাড়াই আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি নির্মাণ, জনমনে শঙ্কা 
jugantor
ভিত ছাড়াই আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি নির্মাণ, জনমনে শঙ্কা 

  মশিহুর রহমান, বিরামপুর (দিনাজপুর)  

২১ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৪৬:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণভাবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪১৫টি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে নির্মাণকৃত এসব ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ি ভূমিহীন পরিবারের বসবাসের জন্য হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ভিত ছাড়া নির্মাণকৃত এসব বাড়ি নিয়ে জনমনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে ভূমিহীন ও বাস্তুহীন পরিবারের বসবাসের জন্য বিরামপুর উপজেলার খাঁনপুর ইউনিয়নে ৩১১টি, দিওড় ইউনিয়নে ২৮টি, বিনাইল ইউনিয়নে ৫৯টি এবং কাটলা ইউনিয়নে ১৭টি বাড়ি নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সরকারি খাস জমিতে এসব বাড়ি নির্মাণের লক্ষে প্রতিটি বাড়ি নির্মাণে জন্য ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হারে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়।

এসব বাড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তদারকিতে নির্মাণ করা হয়েছে।

সরেজমিনে খাঁনপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ি তৈরির জন্য দেড় ফুট মাটি খনন করে ভিত দেওয়ার কথা থাকলেও কোনো ধরনের মাটি খনন না করেই বা মাটির নিচে কোনো ভিত না দিয়েই ইট দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ভিত না দিয়ে নির্মাণকৃত এসব বাড়ি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রকারান্তরে মৃত্যু খাঁচা তৈরি হয়েছে। ফলে সামান্য ভূমিকম্প বা ঘূর্ণিঝড় হলেই এসব বাড়ি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর মাধ্যমে বসবাসকারীদের জীবন ও সম্পদহানী ঘটতে পারে।

এসব বাড়ি নির্মাণে কর্মরত মিস্ত্রি জ্যাকব বলেন, ভিত ছাড়াই এসব বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি এর আগে কোথাও এভাবে ভিত ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ি নির্মাণ করেননি।

প্রকল্প এলাকার বুচকি গ্রামের ষাটোর্ধ আব্দুর রশিদ বলেন, ভিত ছাড়া নির্মাণকৃত বাড়িগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। ভূমিকম্প বা ঝড় হলে এসব বাড়ি ভেঙে মারাত্মক বিপদ ঘটতে পারে।

তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী পোড়াগ্রামে এক ব্যক্তি এভাবে বাড়ি নির্মাণ করায় কিছুদিনের মধ্যে ভেঙে পড়ে গবাদি পশু ও সম্পদহানী ঘটেছে।

উপজেলার বুচকি এলাকায় প্রকল্প কাজের দেখভালকারী শফিকুল ইসলাম ভিত না দিয়ে বাড়ি নির্মাণের কথা স্বীকার করে বলেন, সরবরাহকৃত ইটের গুণগত মান ভাল নয়। অনেক সময় ১নং ইটের স্থালে ২নং ইট চলে আসে। এভাবে কয়েকটি গাড়ি ফেরত দেওয়া হলেও ২/৩ গাড়ি ২নং ইট বাড়ির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

প্রকল্পের তত্ত্বাবধানকারী ঠিকাদারের প্রতিনিধি মনির হোসেন অভিযোগের ব্যাপারে কোনো কথা বলতে অপারগতা জানান।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাওসার আলী বাড়ি নির্মাণে ভিত না দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রকল্প এলাকার মাটি উঁচু-নিচু থাকার কারণে ভিত দেওয়াতে ব্যত্যয় ঘটেছে।

তিনি বলেন, বাড়ি নির্মাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিমল কুমার সরকার নিজেই ঢেউটিন, মটকা, সিমেন্ট, স্টিল সিট, লোহার অ্যাঙ্গেল ও কাঠ সরবরাহ করেছেন। আর উপজেলার এক শীর্ষ নেতা সরবরাহ করেছেন ইট ও বালু। এই সরবরাহকৃত মালামাল দিয়ে ঠিকাদার আ. মতিন এসব ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিমল কুমার সরকার জানান, প্রকল্পের ডিজাইন অনুযায়ী ১৮ ইঞ্চি গাঁথুনির উপর মূল ঘরের কাজ করা হয়েছে। এটা ঝুঁকিপূর্ণ কিনা তা বলতে পারব না। পরিপত্রে ঠিকাদার নিয়োগের কোনো কথা না থাকায় একটি কমিটি করে তার মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে।

ভিত ছাড়াই আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি নির্মাণ, জনমনে শঙ্কা 

 মশিহুর রহমান, বিরামপুর (দিনাজপুর) 
২১ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:৪৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণভাবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪১৫টি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে নির্মাণকৃত এসব ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ি ভূমিহীন পরিবারের বসবাসের জন্য হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ভিত ছাড়া নির্মাণকৃত এসব বাড়ি নিয়ে জনমনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে ভূমিহীন ও বাস্তুহীন পরিবারের বসবাসের জন্য বিরামপুর উপজেলার খাঁনপুর ইউনিয়নে ৩১১টি, দিওড় ইউনিয়নে ২৮টি, বিনাইল ইউনিয়নে ৫৯টি এবং কাটলা ইউনিয়নে ১৭টি বাড়ি নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সরকারি খাস জমিতে এসব বাড়ি নির্মাণের লক্ষে প্রতিটি বাড়ি নির্মাণে জন্য ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হারে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়।

এসব বাড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তদারকিতে নির্মাণ করা হয়েছে। 

সরেজমিনে খাঁনপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ি তৈরির জন্য দেড় ফুট মাটি খনন করে ভিত দেওয়ার কথা থাকলেও কোনো ধরনের মাটি খনন না করেই বা মাটির নিচে কোনো ভিত না দিয়েই ইট দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। 

স্থানীয়দের মতে, ভিত না দিয়ে নির্মাণকৃত এসব বাড়ি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রকারান্তরে মৃত্যু খাঁচা তৈরি হয়েছে। ফলে সামান্য ভূমিকম্প বা ঘূর্ণিঝড় হলেই এসব বাড়ি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর মাধ্যমে বসবাসকারীদের জীবন ও সম্পদহানী ঘটতে পারে।

এসব বাড়ি নির্মাণে কর্মরত মিস্ত্রি জ্যাকব বলেন, ভিত ছাড়াই এসব বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি এর আগে কোথাও এভাবে ভিত ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ি নির্মাণ করেননি।

প্রকল্প এলাকার বুচকি গ্রামের ষাটোর্ধ আব্দুর রশিদ বলেন, ভিত ছাড়া নির্মাণকৃত বাড়িগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। ভূমিকম্প বা ঝড় হলে এসব বাড়ি ভেঙে মারাত্মক বিপদ ঘটতে পারে। 

তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী পোড়াগ্রামে এক ব্যক্তি এভাবে বাড়ি নির্মাণ করায় কিছুদিনের মধ্যে ভেঙে পড়ে গবাদি পশু ও সম্পদহানী ঘটেছে।

উপজেলার বুচকি এলাকায় প্রকল্প কাজের দেখভালকারী শফিকুল ইসলাম ভিত না দিয়ে বাড়ি নির্মাণের কথা স্বীকার করে বলেন, সরবরাহকৃত ইটের গুণগত মান ভাল নয়। অনেক সময় ১নং ইটের স্থালে ২নং ইট চলে আসে। এভাবে কয়েকটি গাড়ি ফেরত দেওয়া হলেও ২/৩ গাড়ি ২নং ইট বাড়ির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

প্রকল্পের তত্ত্বাবধানকারী ঠিকাদারের প্রতিনিধি মনির হোসেন অভিযোগের ব্যাপারে কোনো কথা বলতে অপারগতা জানান।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাওসার আলী বাড়ি নির্মাণে ভিত না দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রকল্প এলাকার মাটি উঁচু-নিচু থাকার কারণে ভিত দেওয়াতে ব্যত্যয় ঘটেছে। 

তিনি বলেন, বাড়ি নির্মাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিমল কুমার সরকার নিজেই ঢেউটিন, মটকা, সিমেন্ট, স্টিল সিট, লোহার অ্যাঙ্গেল ও কাঠ সরবরাহ করেছেন। আর উপজেলার এক শীর্ষ নেতা সরবরাহ করেছেন ইট ও বালু। এই সরবরাহকৃত মালামাল দিয়ে ঠিকাদার আ. মতিন এসব ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিমল কুমার সরকার জানান, প্রকল্পের ডিজাইন অনুযায়ী ১৮ ইঞ্চি গাঁথুনির উপর মূল ঘরের কাজ করা হয়েছে। এটা ঝুঁকিপূর্ণ কিনা তা বলতে পারব না। পরিপত্রে ঠিকাদার নিয়োগের কোনো কথা না থাকায় একটি কমিটি করে তার মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন